গোল করেও মিয়ামির হার এড়াতে পারলেন না মেসি
প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফেরার পথ পাচ্ছিল না ইন্টার মায়ামি। অবশেষে ৮২তম মিনিটে দলের আশা জাগিয়ে তুললেন লিওনেল মেসি। রদ্রিগো দে পলের নান্দনিক পাস থেকে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরালেন মায়ামি অধিনায়ক। কিন্তু বাকি সময়টায় বিবর্ণ হয়েই রইলেন তিনি ও তার দল। তাই আরও দীর্ঘায়িত হলো ইন্টার মায়ামির দুঃসময়। মেজর লিগ সকারের ম্যাচটিতে ঘরের মাঠে ইন্টার মায়ামি ২-১ গোলে হেরে গেল টরন্টো এফসির কাছে। দুই দলের শক্তির ব্যবধান ও নানা বাস্তবতায় এটিকে বড় অঘটনই বলা চলে। মায়ামির মাঠে সাতবারের চেষ্টায় তাদের প্রথম জয় এটি। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে ১০ ম্যাচে জিততে পারল তারা স্রেফ দ্বিতীয়বার।
লিগে এই নিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়বিহীন মেসির দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সবশেষ সাত ম্যাচে তারা জিতেছে স্রেফ একটি।
মায়ামির মাঠে একাদশ মিনিটেই জালে বল পাঠান টরন্টোর দর্দে মিহাইলোভিচ। তবে অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। পঞ্চদশ মিনিটের মেসির ছোঁয়া থেকে পাওয়া বল বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন হার্মান বের্তেরামে। ১৯তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পান লুইস সুয়ারেস। রদ্রিগো দে পলের চমৎকার পাস থেকে ফাঁকায় বল পান তিনি বক্সের মাথায়। জায়গা ও সময় পান বেশ। কিন্তু অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার বল মেরে দেন বাইরে। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় দুই দলই ছিল ধারহীন। ২৬তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মায়ামির আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার গন্সালো লুহান। ৩১তম মিনিটে কাজেমিরোর দুর্বল হেড অনায়াসেই ধরেন টরন্টোর গোলকিপার। ৩৬তম মিনিটে বের্তেরামের শট ওপর দিয়ে চলে যায়। তবে পরিষ্কার সুযোগ পায়নি কোনো দলই। ৫৮তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মায়ামির আরেক ডিফেন্ডার সের্হিও রেগিলন। হঠাৎ এলেমেলো হয়ে পড়া রক্ষণভাগকে হতভম্ব করে দ্রুত দুটি গোল করে ফেলে টরন্টো।
রেগিলন মাঠ ছাড়ার মিনিট খানেকের মধ্যেই বক্সের মাথা থেকে মায়ামির চার ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বাঁপায়ের শটে গোল করেন মার্কিন ফরোয়ার্ড জশ সার্জেন্ট। তিন মিনিট পর গোছানো আক্রমণ থেকে গোল করেন ডেরেক এটিয়েন জুনিয়র। মায়ামি পারছিল না গোল শোধ করার মতো আক্রমণ করতে। উল্টো ৮১তম মিনিটে রক্ষণের ভুলে আরও পিছিয়ে পড়তে পারত তারা। তবে মিহাইলোভিচের শট কোনোরকমে গোললাইন থেকে ফেরান ইয়ান ফ্রে। পরের মিনিটেই মায়ামির গোল। মাঝমাঠের একটু ওপর থেকে চোখধাঁধানো এক ডিফেন্সচেরা পাস দেন দে পল। মেসি বক্সের ভেতর ছুটে গিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে কাজ শেষ করেন। চলতি লিগে তার চতুর্দশ গোল এটি।
নির্ধারিত সময়ের বাকি আট মিনিট ও যোগ করা সময়ে আট মিনিটে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মায়ামি। এই সময়ে একটি শটই স্রেফ লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা, যেটি অনায়াসেই ধরে ফেলেন টরন্টোর গোলকিপার। এই হারের পরও অবশ্য ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে তারা ২১ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে। তবে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল তাদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে সমান ম্যাচ খেলেই।
