বিপিএল নিয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তে একমত তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

পুরোনো ঝামেলা এড়িয়ে নতুন রূপে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে চান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। সেই সংস্কারের স্বার্থে এই বছর টুর্নামেন্টটি মাঠে না গড়ালে তা মেনে নেবে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিসিবি প্রধানের সথে বৈঠকের পর এমনটাই বলেছে তারা। গতকাল শনিবার বিসিবির সথে বৈঠকে অংশ নেয় গত আসরে অংশ নেওয়া ছয় দলের তিনটি- ঢাকা ক্যাপিটালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তারা। বাকি তিন দলের একটির মালিকানা ছিল বিসিবির কাছে, বাকি দুই দল সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোনো কর্মকর্তা এই বৈঠকে ছিলেন না।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঁচ বছরের জন্য দল বরাদ্দ করেছিল বিসিবি। সেই হিসেবে এক আসর পরেই ছেদ পড়ছে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতায়।
এই ছেদ পড়া মেনে নিয়ে তিন ফ্র্যাঞ্চাইজির চাওয়া বিপিএল ঘিরে বিসিবির লম্বা সময়ের পরিকল্পনা। বিসিবির সঙ্গে আলোচনা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই কথা জানান তারা। রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক বলেন, বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দুই পক্ষের একসঙ্গে উন্নতি করা দরকার। “বিপিএলের সংস্কার প্রয়োজন। আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি, কিন্তু আমাদের কোনো গঠনমূলক ধারণা নেই, টেকসই কোনো মডেল নেই।
এই মডেলগুলোকে যদি বিসিবি এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে উন্নতি করতে পারি, বিপিএলের জন্য লম্বা মেয়াদে অনেক ভালো হবে।”
বিসিবিকে সময় দিতে রাজি হওয়া রংপুর রাইডার্স নিজেদের দাবিও তুলে ধরেছে এই সভায়। “পরবর্তীতে যেদিনই বিপিএল হবে, আমরা পাঁচ বছরের ক্যালেন্ডার চেয়েছি। কারণ যখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি করতে যাই, তখন..আন্তর্জাতিকভাবে অন্তত ২০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট চলে। এখানে বিপিএলটা সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়।”
তার কথায় সুর মিলিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান মোকছেদুল কামাল বাবু বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিপিএল ভালো জায়গায় থাকবে। “বরাবরই দেখে এসেছি হঠাৎ করেই বিপিএলের তারিখ হয়ে যায় এবং তখন খুবই তড়িঘড়ি করে কাজ করতে হয়।
সেটা আমাদের জন্য খুব ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। এজন্য আমরা বলেছি বা বিসিবি চিন্তা করেছে পাঁচ বছর বা একটা লম্বা সময়ের জন্য বিপিএলের রোডম্যাপ তৈরি করার। সেই অনুযায়ী বিপিএল পরিচালিত হবে। সেটা যদি হয় তাহলে অবশ্যই বিপিএল অসাধারণ জায়গায় পৌঁছাবে। “এই বছরে বিপিএলে অনেকগুলো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেই সংস্কারের পরেই বিপিএল শুরু হবে।
সেই কাজটি করতে গিয়ে যদি এই বছরে বিপিএল করা সম্ভব না হয় তাহলে পরের বছর হবে। তবে বিপিএল বন্ধ হচ্ছে না, বিপিএলের সংস্কার হচ্ছে।” ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রধান নির্বাহী আতিক ফাহাদ বিপিএলের পরের আসর আয়োজনে বিসিবিকে সময় দিতে আগ্রহী। “উনি (তামিম ইকবাল) একটা টেকসই মডেল দাঁড় করাতে চান। হয়ত প্রথম দিকে খুব বড় পরিসরে হবে না। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক, বিসিবি, খেলোয়াড় এবং অন্যান্য যারা আছে প্রত্যেকেই লাভবান হবে। সেই মডেলটা দাঁড় করানোর আগ পর্যন্ত সময় দিতে হবে এবং আমরা একমত আছি।”
আগের আসরগুলোর মতো করে এবার বিপিএল আয়োজন করা হলে ঢাকার মালিকানায় থাকা বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে, তেমনটাও বলেছেন আতিক ফাহাদ। “গত দুই বছর যেভাবে ছিল, ওভাবে করলে থাকব না। আমরা টাকা এবং সময় বিনিয়োগ করি ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য, কিন্তু দিনশেষে মানুষ আমাদের গালি দেয়। একইভাবে বিপিএল হলে আমি আবার অপমানিত হব। তাই এমন মডেল তৈরি করতে হবে, যেটা সবার জন্য লাভজনক হয়। তাহলেই আমরা আবার আসব।”
নতুন পরিকল্পনায় বিপিএল এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, দলগুলো নীতিমালা সঠিকভাবে মানেনি। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী সময়মতো ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধ করলেও চুক্তির ক্ষেত্রে বিসিবির নিয়ম মানেনি। দলটির কর্মকর্তা মোকছেদুলের বিশ্বাস, নীতিমালা মানা সকল দলই আগের চুক্তি অনুযায়ী আগামী আসরে খেলবে। “ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোনো ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করেনি। বিসিবির সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং পাঁচ বছরের চুক্তি ছিল। ওনারা (বিসিবি) বলেছেন ওনারাও ইতিবাচক। যারা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের নীতিমালাগুলো মেনেছে, সে সকল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অবশ্যই থাকবে।”
ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া আতিকও আশাবাদী, পরের আসরে অংশ নেবেন তারা। গত আসরে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধে গড়িমসি করার অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধেও। “আমাদের যেহেতু ডেকেছে, তার মানে আমরা প্রাথমিক চাহিদা এরমধ্যে পূরণ করেছি। আরও কিছু কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হবে, যা আমরা এখনও পাইনি। তখন দেখা যাবে ওটাতে পাস করতে পারি কি না, তবে প্রাথমিকটাতে পাস করেছি।”
