এশিয়ান গেমসে পদক নয় শেখাই লক্ষ্য বাটলারের

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

এশিয়ান গেমসে কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বি- গ্রুপে ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিয়ানমার। এশিয়ার দুই পরাশক্তির বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে তাই পদক জয়ের স্বপ্নে বিভোর হতে চান না বাংলাদেশ সতর্ক কোচ পিটার বাটলার। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে নিজেদের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনকেই বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন এই ইংলিশ কোচ।

গতকাল সোমবার রাতে চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, 'পদক জিততে পারবো কিান, সেই প্রশ্নের উত্তরটা হয়তো কিছুটা কঠিন শোনাবে, তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা এখনো এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের মতো স্তরে পৌঁছাইনি।' তিনি যোগ করেন, 'দল যদি হেরে যায়, তাতে আমার খুব একটা যায়-আসে না। ভেতরে অবশ্যই কষ্ট হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ওই স্তরে খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া। এটি সবার জন্যই শিক্ষার বড় সুযোগ।'

তবে পদকের সম্ভাবনা না থাকলেও এশিয়ান গেমসকে নিয়ে হতাশ নন বাটলার। তাঁর মতে, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের জন্য বড় শিক্ষার মঞ্চ। এমনকি বড় ব্যবধানে হারলেও ওই ম্যাচগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। মূল টুর্নামেন্টের আগে চীনে প্রস্তুতিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। সেখানে ৭ ও ১০ সেপ্টেম্বর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। চীনের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ দেবে বলে মনে করছেন বাটলার। সেখানে ১০ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্পের পাশাপাশি ওয়েনঝু উইমেন্স লিগের শীর্ষ দুটি দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন ঋতুপর্ণারা। চীন সফর শেষে জাপানে গিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়া, ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

গ্রুপে তুলনামূলকভাবে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের নাগালের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হলেও বাটলার সেটিকে প্রধান ম্যাচ হিসেবে আলাদা করে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, 'তিনটি ম্যাচই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫০-৬০-এর মধ্যে থাকা দল হওয়ায় তাদের বিপক্ষেও কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদের।' দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দাও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। তার মতে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিজ্ঞতা এবং চীনে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অস্ট্রেলিয়া সফর, অলিম্পিক বাছাই এবং সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় কোচের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন বাটলার। বাফুফের উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও স্বীকার করেছেন, 'কোচ চেষ্টা করেছে। তবে আরও ভালো করা উচিত ছিল।' সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার এশিয়ান গেমসে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চায় দলটি। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাফে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আলোচিত ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির বিষয়টিও ওঠে। এশিয়ান গেমসের দলে তাকে রাখার কারণ জানতে চাইলে কিরণ জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নওমির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই তাকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল: রুপনা চাকমা, শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মোছা. মমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, মোছা. সুরভী আক্তার আফরিন, অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা, ঋতুপর্ণা চাকমা, উন্নতি খাতুন, শাহেদা আক্তার রীপা, মোছা. সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, মিলি আক্তার, মোছা. আইরিন খাতুন, নবীরন খাতুন, মোছা. মুনকি আক্তার ও মোছা. সুলতানা।