মায়ের চোখে জল, স্ত্রীর চোখে গর্ব-মেসির বিদায়

মেসির বিদায়ে দুই নারীর চোখে জল

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

লিওনেল মেসির গল্পটা শুধু মাঠের নয়। গোল, অ্যাসিস্ট, ট্রফি কিংবা রেকর্ডের বাইরেও তার গল্পের ভেতরে আছে দুটি নারীর দীর্ঘ ছায়া। একজন জন্মদাত্রী-সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। অন্যজন শৈশবের প্রেমিকা থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। একজন দেখেছেন ছোট্ট মেসির স্বপ্নের শুরু, অন্যজন দেখেছেন সেই স্বপ্নের জন্য বড় হয়ে ওঠা মানুষটির প্রতিটি লড়াই!

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২১ বছরের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা যখন মেসি দিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে এই দুই নারীকে। কারণ মেসির জাতীয় দলের গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা ছিলেন খুব কাছেই। মেসির ফুটবলার হয়ে ওঠার শুরুর দিনগুলো ছিল সহজ নয়। তার মা সেলিয়া খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন, পাশাপাশি একটি ম্যাগনেট তৈরির কারখানাতেও কাজ করতেন। বাবা হোর্হে মেসি স্টিল কারখানায় সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করে সংসারে আয় যোগ করতেন। সেই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই ছেলের ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তারা।

মেসি বড় হয়েছেন, বার্সেলোনার তারকা হয়েছেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হয়েছেন, বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু তার মা দেখেছেন সেই দীর্ঘ পথের প্রতিটি বাঁক। শুধু ছেলের শৈশব নয়, পরবর্তী সময়ে হোর্হের সঙ্গে মিলে মেসির ক্যারিয়ারের ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেলিয়া।

তাই ছেলে যখন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন, সেটি মায়ের কাছে নিছক একটি অবসরের খবর হয়ে থাকার কথা নয়। মাত্র কিছুদিন আগেই স্বামী হোর্হে মেসিকে হারিয়েছেন সেলিয়া! গত ৮ আগস্ট দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান মেসির বাবা। এরপরই আরও জোরালো হয়েছিল মেসির অবসর নিয়ে জল্পনা। অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত এল। আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল আমেরিকা টিভির 'ইন্ট্রুসোস' অনুষ্ঠানে সেলিয়ার কণ্ঠে তাই আনন্দের চেয়ে কষ্টই বেশি ধরা পড়ল। তিনি বললেন, আমি এখনো কাঁদছি। আমরা আগে থেকেই জানলেও পরিবারের সবাই ভীষণ কষ্ট পেয়েছি, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন ভালো ও সুখী থাকে।

হোর্হে মেসির একটি কথাও মনে পড়ছে সেলিয়ার। তিনি বলতেন, তুমি খেলা ছেড়ে দিলে আমি কী করব? স্বামীর সেই কথাটি মনে করে সেলিয়া বলেন, 'তার বাবা তাকে সব সময় বলতেন, তুমি খেলা ছেড়ে দিলে আমি কী করব? সবকিছু যেন একসঙ্গেই ঘটে গেল, অবিশ্বাস্য! একদিকে স্বামীকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ছেলের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়-সেলিয়ার জীবনে যেন দুটি বড় অধ্যায় খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেল।

আরেক প্রান্তে আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। মেসির জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্কের গল্প শৈশব থেকে। তাই জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির উত্থান যেমন দেখেছেন, তেমনি দেখেছেন সেই সময়ও, যখন সাফল্যের চেয়ে সমালোচনাই ছিল বেশি। মেসির বিদায়ের মুহূর্তে রোকুজ্জোর কণ্ঠে তাই শোকের পাশাপাশি ছিল অসীম গর্ব।