মিরপুরে বল হাতে নাহিদ লক্ষ্য অক্টোবরের দুই সিরিজ

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা নাহিদ রানা অবশেষে শুরু করেছেন বোলিং। গত সোমবার থেকে শুরু করলেও অবশ্য পুরোনো গতির এই পেসারকে ফিরে পাওয়ার পথ এখনও তৈরি হয়নি। পুনর্বাসনের নিয়ম মেনে খুব অল্প রানআপে, নিয়ন্ত্রিত গতিতে কয়েকটি বল করেছেন তিনি। আপাতত লক্ষ্য একটাই-শরীরকে ধীরে ধীরে আবার বোলিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

মাঠে নাহিদের ওপর সতর্ক নজর ছিল জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান ও পেস বোলিং কোচ তালহা জোবায়েরের। বোলিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তারা কথা বলেছেন নাহিদের সঙ্গে, খেয়াল করেছেন তার মুভমেন্ট ও প্রতিক্রিয়া। কারণ এই ফেরার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গতি নয়, নিরাপদে ধাপে ধাপে পুরো ছন্দে ফেরা। পরবর্তী ধাপে বাড়বে বোলিংয়ের গতি। রানআপ ধীরে ধীরে বড় হবে, বাড়বে গতি ও তীব্রতা। তবে কবে নাগাদ পুরোদমে বোলিং করতে পারবেন নাহিদ, সেই সময়সীমা এখনই নির্দিষ্ট করতে চাইছে না বিসিবি। তাকে নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়োর পক্ষপাতী নয় সংশ্লিষ্টরা।

নাহিদের এই ফেরার পেছনে তাই রয়েছে বেশ লম্বা এক বিরতির গল্প। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে চোটে পড়েন তিনি। দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার পর সাইড স্ট্রেইন তাকে ছিটকে দেয়। দেশে ফিরে পরীক্ষায় ধরা পড়ে গ্রেড-টু সাইড স্ট্রেইন। ফলে অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট খেলার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, সেটিও শেষ হয়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে অবশ্য ওই মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন নাহিদ। সেখানে সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি তার শিনবোনের পুরোনো চোটের অবস্থাও পরীক্ষা করা হয়। এরপর বিশ্রাম, চিকিৎসা আর পুনর্বাসনের ধাপ পেরিয়ে এবার হাতে উঠেছে বল। নাহিদের অনুপস্থিতির প্রভাবটা কতটা, সেটি সবচেয়ে ভালো বোঝা গেছে অস্ট্রেলিয়া সফরে।

চোটের কারণে তিনি খেলতে পারেননি-এ নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেমন আক্ষেপ ছিল, তেমনি অস্ট্রেলিয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলেও তার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত দুই বছরে নাহিদ রানা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন, সেটিরই প্রমাণ এটি।

কারণ নাহিদের ক্ষেত্রে এবার গতি ফেরানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুস্থ রাখা।

জাতীয় দলের কোনো ম্যাচকে সামনে রেখে এখনই তার ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে না। তবে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রথম লক্ষ্য অক্টোবরের শুরুতে আফগানিস্তান সিরিজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের।