চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লক্ষ্য বিশ্বকাপের টিকিট

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

চীনের মকিতে শুক্রবার পর্দা উঠছে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকির। উদ্বোধনী ম্যাচেই শক্তিশালী স্বাগতিক চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি দিয়েই বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মিশন শুরু করবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এশিয়া কাপের এবারের আসরে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য সেরা ছয়ে থেকে অনূর্ধ্ব-২০ হকি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। তবে শুরুতেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে শক্তিশালী চীনকে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে-এটা মেনে নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। তবু জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চান অধিনায়ক মাহমুদ হাসান। চীন থেকে দেওয়া এক বার্তায় বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, দলের লক্ষ্য পরিষ্কার-প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পথে এগিয়ে যাওয়া। চীনের বিপক্ষে জিততে পারলে পরের ম্যাচগুলোর সমীকরণও কিছুটা সহজ হয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিতে কয়েক দিন আগেই চীনে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। স্থানীয় আবহাওয়া, মাঠের পরিবেশ ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনুশীলন করেছে তারা। দলের সব খেলোয়াড়ই বর্তমানে সুস্থ আছেন, নেই কোনো চোটের সমস্যাও। ফলে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামতে পারবে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। জাপানের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগও পেয়েছে দল। ওই ম্যাচের মাধ্যমে খেলোয়াড়রা নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে বাস্তবতা সম্পর্কে পরিষ্কার দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ গিলস বোনেট। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের শক্তির পার্থক্য এবং প্রস্তুতির ঘাটতি বিবেচনায় ম্যাচটিকে কঠিন বলেই মনে করছেন তিনি। তার মতে, অন্য দলগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় শুরু থেকেই দলগত কাঠামো ও শৃঙ্খলার ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে।

কোচ বোনেট বলেন, চীন এই টুর্নামেন্টে এসেছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে, আর বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। তাই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে যতটা সম্ভব দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে টিকে থাকাই হবে দলের অন্যতম লক্ষ্য। র‍্যাংকিংয়েও দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট। এশিয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে সপ্তম অবস্থানে। র‍্যাঙ্কিং পয়েন্টের হিসাবে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও চীনের পেছনে রয়েছে তারা। ফলে কাগজে-কলমে স্বাগতিকরাই এগিয়ে। চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশকে 'আন্ডারডগ' হিসেবেই দেখছেন কোচ। তবে সেই অবস্থানকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে নিতে চান তিনি। তার মতে, এক লাফে বড় কোনো ফল পাওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং পরিকল্পনা অনুযায়ী দলগতভাবে খেলতে পারলেই প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে তাই শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। চীনের বিপক্ষে জয় পেলে শুধু আত্মবিশ্বাসই বাড়বে না, পরবর্তী ম্যাচগুলোর সমীকরণও বাংলাদেশের পক্ষে কিছুটা সহজ হতে পারে। তবে কাজটা যে সহজ নয়, সেটি ভালোভাবেই জানে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সমর্থন, শক্তিশালী স্কোয়াড ও উচ্চতর র‍্যাঙ্কিং-সবকিছুই চীনের পক্ষে। বিপরীতে বাংলাদেশের শক্তি দলগত ঐক্য, লড়াইয়ের মানসিকতা ও সুযোগ কাজে লাগানোর সামর্থ্য। সব হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে শুক্রবার মাঠে নামবে দুই দল।