কাউন্টিতে হাসানের চমক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পেসারদের সাম্প্রতিক উপস্থিতির গল্পে এবার নতুন অধ্যায় যোগ করলেন হাসান মাহমুদ। উস্টারশায়ারের বিপক্ষে তার নিয়ন্ত্রিত, ধারাবাহিক ও আক্রমণাত্মক বোলিং শুধু চারটি উইকেটই এনে দেয়নি, প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকেও কেন্টকে লিড নেওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে। প্রথম দিনেই হাসান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তার দিনটি আলাদা হতে যাচ্ছে। পরপর দুই বলে জোড়া উইকেট নিয়ে উস্টারশায়ারের ব্যাটিংয়ে ধাক্কা দেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার। প্রথমে জ্যাক লিব্বির স্টাম্প উপড়ে দেন। পরের বলেই রেহান এডভালথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন। দুই বলে দুই উইকেট-কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো শুরু আর কী হতে পারে!

ব্যাটারদের মঞ্চে দ্বিতীয় দিনেও সেই ধার কমেনি। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকে আসা বলটি বুঝতেই পারেননি ম্যাথু ওয়েট। ২৯ বলে ১৫ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর ইনিংসের শেষ ব্যাটার অ্যাডাম ফিঞ্চও রক্ষা পাননি। এবার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তাকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। চার উইকেটের স্পেল পূর্ণ হয় সেখানেই। শেষ পর্যন্ত ৬৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কেন্টের বোলারদের মধ্যে সেরা হাসান। তার সঙ্গে ম্যাট মিলনেস তিনটি এবং কেথ ডাজন দুটি উইকেট নিয়েছেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘোরানো পারফরম্যান্সটি এসেছে বাংলাদেশের পেসারের হাত ধরেই।

হাসানের বোলিংয়ের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয় উস্টারশায়ারের ইনিংসের দিকে তাকালে। কেন্ট প্রথম ইনিংসে ২৩৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় ম্যাচের শুরুতে খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না তারা। কিন্তু উস্টারশায়ারকে ২১৭ রানে থামিয়ে ২১ রানের লিড পেয়ে যায় কেন্ট। অর্থাৎ নিজেদের ব্যাটিংয়ের ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়ার কাজটি করেছে বোলিং বিভাগ, যার সামনে ছিলেন হাসান। উস্টারশায়ারের হয়ে ড্যানিয়েল লেটগান সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন। অ্যাডাম হুস করেন ৫০। কিন্তু এই দুজনের পর আর কেউ ২০ রানের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোতেই বড় সংগ্রহের সুযোগ হারায় উস্টারশায়ার। লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে কেন্ট। দ্বিতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ১৯৭ রান। জ্যাক ক্রলি ফিফটি করে ফিরলেও স্যাম নর্থইস্ট দাঁড়িয়ে আছেন সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়-অপরাজিত ৯৬ রানে। অধিনায়ক ড্যানিয়েল বেল ড্রামন্ড অপরাজিত আছেন ১৭ রানে। ফলে দুই দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কেন্টের হাতে। আর সেই নিয়ন্ত্রণের ভিত তৈরি হয়েছে হাসানের বোলিংয়ে। প্রথম ইনিংসে তাঁর চার শিকার শুধু পরিসংখ্যানের চারটি সংখ্যা নয়; ২৩৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেটিই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।