সিপিএলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন মিরাজ

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকেই নিজের জাত চিনিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রথম ম্যাচে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন বাংলাদেশি এ অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় ম্যাচেও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তার ৪ উইকেট শিকারের সুবাদে জিতল গায়ানা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন মিরাজ।

ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে গায়ানার জয়ের রাতে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মিরাজের হাতে বল উঠতেই বদলে যেতে শুরু করেছিল ম্যাচের গল্প। ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট। একে একে কলিন মুনরো, নিকোলাস পুরান, জেড গুলি ও সুনিল নারিন-চারজনকেই ফেরালেন তিনি।

বিশেষ করে পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করার পর নাইট রাইডার্সের ইনিংসে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। তবে মিরাজের কাছে ব্যাপারটা এতটা জটিল নয়। তিনি জানতেন, উইকেট তার মতো স্পিনারের জন্য কিছুটা সহায়ক। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছেন। নিজের বোলিংয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, 'আমি সঠিক জায়গায় বল করার এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম উইকেট কিছুটা টার্নিং ছিল এবং এটা স্পিনারদের সাহায্য করবে।'

মিরাজের চার উইকেট আর শামার জোসেফের দুই শিকারে ১২৬ রানেই থেমে যায় ত্রিনবাগো। অথচ ম্যাচের শুরুতে চিত্রটা ছিল ভিন্ন। ৪.৩ ওভারেই ৪১ রান তুলে ফেলেছিল নাইট রাইডার্স। সেখান থেকে মিরাজের আঘাতেই শুরু হয় পতন।

মুনরোকে বোল্ড করে প্রথম ধাক্কা, এরপর পুরানকে প্রথম বলেই ফিরিয়ে দেওয়া-মিরাজ যেন নিজের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ১২৭ রানের লক্ষ্যও অবশ্য গায়ানার জন্য খুব সহজ ছিল না।

৩৬ রানেই হারিয়ে ফেলে দুই ওপেনারকে। তখন ম্যাচে উত্তেজনা। কিন্তু শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ মিলে সেই চাপ সামলে নেন। হেটমায়ারের ৪২ ও হোপের ২৮ রানে ১৮.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে গায়ানা। ছয় উইকেটের সেই জয়ের পর ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও যায় মিরাজের হাতে।

অদ্ভুত এক বৈপরীত্য অবশ্য ছিল এই ম্যাচে। বল হাতে যেখানে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত, ব্যাট হাতে সেখানে একেবারেই নিষ্প্রভ। ১৪ বল খেলে করেছেন মাত্র ২ রান।

কিন্তু দিন শেষে ব্যাটের সেই ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে যায় বল হাতে তার বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে। আর তাই ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে মিরাজের কণ্ঠে ছিল আনন্দ। প্রথমবার সিপিএল খেলতে এসে এমন স্বীকৃতি পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য একটি দারুণ মুহূর্ত। আমি প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলছি এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার পেয়েছি। ম্যাচটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি।'

শুধু নিজের পারফরম্যান্স নয়, নতুন দলেও দারুণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন মিরাজ। গায়ানার পরিবেশ ও ম্যানেজমেন্টের প্রশংসা করে বলেন, '(গায়ানায় খেলার অভিজ্ঞতা) এটি আমার জন্য সত্যিই দারুণ একটি মুহূর্ত। তারা খুবই ভালো; বিশেষ করে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই।' প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে তিন উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩ রানে চার। দুই ম্যাচে সাত উইকেট। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, গায়ানার জার্সিতে মিরাজের শুরুটা কতটা ঝলমলে হয়েছে। আর এই পারফরম্যান্স এমন সময়ে, যখন গায়ানা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্লে-অফের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে মিরাজের চোখ এখনো আরও সামনে। বার্বাডোসের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ, এরপর প্লে-অফের লড়াই। সেখানেই অপেক্ষা করছে ফাইনালের টিকিট। আর সেই টিকিটের লড়াইয়ে মিরাজের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর, 'বার্বাডোসের বিপক্ষে আমাদের আরও একটি ম্যাচ বাকি আছে, এটা চ্যালেঞ্জিং আশা করি জিততে পারব। এরপর প্লে-অফ আছে সেখানে দুইটা ম্যাচ আছে জিতলে ফাইনালে যাব। আশা করছি আমরা পরের ম্যাচ জিততে পারব।' সিপিএলে মিরাজ এসেছিলেন নতুন মুখ হিসেবে। দুই ম্যাচ পর সেই পরিচয় বদলে গেছে। এখন তিনি গায়ানার জয়ের অন্যতম অস্ত্র। আর তার নিজের ভাষাতেই-'দারুণ একটি মুহূর্ত'-যা হয়তো সামনে আরও বড় কিছুর শুরু মাত্র!