এক ভুলেই শেষ হতে পারে স্বপ্ন
শিষ্যদের সতর্ক করলেন সালাউদ্দিন
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

জাপানে পা রাখার আগেই বাংলাদেশকে ঘিরে কিছু বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। কোনো অজুহাত শুনতে চান না তিনি! উইকেট কেমন হবে, থাকার ব্যবস্থা কতটা ভালো হবে কিংবা প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী-এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই তার ক্রিকেট দর্শন! কারণ সামনে যে টুর্নামেন্ট, সেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। একটি ম্যাচ, একটি ভুল, একটি খারাপ দিন-আর শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের স্বপ্ন।
আসন্ন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের লক্ষ্য তাই বেশ স্পষ্ট। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে স্বর্ণ জয়ের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ। এবার আইচি-নাগোয়ায় সেই পুরোনো স্মৃতি ফেরানোর লক্ষ্যেই যাচ্ছে দল। সালাউদ্দিনের কাছে এই স্বর্ণপদকের গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জনের তালিকাই খুব ছোট।
মিশনে দলটির কোচ সালাউদ্দিন সাফ জানিয়ে দিলেন, '২০১০ সালে নারী ক্রিকেট দল রৌপ্য জিতেছিল এবং কাবাডিতে হয়তো এক বা দুটি রৌপ্য আছে। এর বাইরে আমাদের বড় কোনো অর্জন নেই। বাংলাদেশ থেকে এবার বড় একটি দল যাচ্ছে। কিন্তু এমন ইভেন্ট খুব বেশি নেই, যেখানে আমরা আসলে পদক জিততে পারি। এ কারণেই আমরা ক্রিকেটকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি এবং আমরা চাই বাংলাদেশ স্বর্ণপদক জিতুক।' স্বর্ণের এই লক্ষ্য পূরণের পথে প্রথম বাধা হতে পারে পরিবেশ। জাপানের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে আগেই আলোচনা রয়েছে। কিন্তু সেটিকে সম্ভাব্য ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখতে রাজি নন সালাউদ্দিন, 'ক্রিকেট খেললে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবার ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। যদি ১২০ রানের উইকেট হয়, তাহলে আমাদের সেভাবেই খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তাহলে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সেভাবেই খেলতে হবে।' স্কোর যতই হোক, বাংলাদেশের পরিকল্পনা বদলাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই-প্রতিপক্ষের নাম নয়, ম্যাচের পরিস্থিতিই শেষ কথা। আর এশিয়ান গেমসের মতো নকআউট প্রতিযোগিতায় সেই বাস্তবতা আরও কঠিন! সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় চিন্তা তাই দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশ দল সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলেছে। দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ 'এ' দলের হয়ে ব্যস্ত। এশিয়ান গেমসের আগে প্রস্তুতির সময় সীমিত। এই বাস্তবতায় শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিকেও সামনে আনছেন কোচ, 'বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকায় (বাংলাদেশ 'এ' দলের সঙ্গে) আছেন। সামনে আমাদের অনেক ব্যস্ত সফর, তাই তাদের ফিটনেসের দিকেও নজর রাখতে হবে।' এরপরই আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা-মানসিক প্রস্তুতি, 'আমাদের তাদের মানসিক অবস্থারও যত্ন নিতে হবে। এর আগে আমরা ভিন্ন একটি ফরম্যাটে খেলেছি। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই ফরম্যাটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ওপর আমরা গুরুত্ব দেব। আবাসন নিয়ে ভাবার চেয়ে আমার মূল চিন্তা হলো, ছেলেরা কীভাবে টুর্নামেন্টে ভালো খেলতে পারে এবং কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। কারণ এটি একটি নকআউট প্রতিযোগিতা।' এ কারণেই আবাসন নিয়ে আলোচনাকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে গেছেন সালাউদ্দিন। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলো যেখানে এশিয়ান গেমসের ভিলেজে আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের কোচের অবস্থান বিপরীত, 'দেখুন, আবাসন নিয়ে আমার কোনো উদ্বেগ নেই। গেমস ও এশিয়ান গেমস ভিলেজে অন্যান্য অ্যাথলেটরা যে সুবিধা পাবেন, আমরাও সেটাই পাব। ক্রিকেট দল হিসেবে আমাদের আলাদা থাকতে হবে, এমনটা আমরা ভাবছি না। নিজেদের অ্যাথলেট হিসেবেই ভাবি। তারা আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না। থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা থাকবে।
