১০ গোলের লজ্জার পরও বাংলাদেশ কোচের অজুহাত
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দশ গোলের ব্যবধানটা শুধু স্কোরে আটকে থাকার মতো নয়! উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের অসহায়ত্ব এতটাই প্রকট ছিল যে, ম্যাচের পরিসংখ্যানই যেন পুরো গল্পটা বলে দিয়েছে! গোলমুখে উত্তর কোরিয়ার ২১ শট, বাংলাদেশের শূন্য। বল দখল ৭৩ শতাংশ বনাম ২৭ শতাংশ। আর শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন উত্তর কোরিয়া ১০, বাংলাদেশ ০! গতকাল সোমবার নাগাই স্টেডিয়ামে এশিয়ান গেমসের নারী ফুটবলের 'এফ' গ্রুপের ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য আরেকটি পরাজয় হয়ে থাকেনি। নারী ফুটবলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের সাক্ষী হয়েছে এই ম্যাচ। এর আগে ২০১৩ সালে ঢাকায় থাইল্যান্ডের কাছে ০-৯ গোলে হার ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার!
আজ গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে পুরো বিপর্যয়টা দেখেছেন মিলি আক্তার। একের পর এক উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ এসেছে তার দিকে। কিন্তু রক্ষণভাগের সামনে থেকে তেমন কোনো প্রতিরোধই তৈরি হয়নি। পঞ্চম মিনিটেই জন রিয়ং জংয়ের গোল। পাঁচ মিনিট পর আবারও তাঁর পা থেকে গোল। ১২ মিনিটে হাং ইউ ইয়ংয়ের গোলে ব্যবধান ৩-০। এরপরও আক্রমণের গতি কমেনি উত্তর কোরিয়ার। ১৮ ও ৩৫ মিনিটে চে আন ইয়ংয়ের জোড়া গোল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে কিম কিয়ং ইয়ংও দুইবার জাল খুঁজে নিলে বিরতিতে বাংলাদেশ পিছিয়ে ৭-০। বিরতির পরও যেন দুঃস্বপ্নের শেষ ছিল না। ৫১ মিনিটে রি সং আ, ৬০ মিনিটে বদলি জং কুম গোল করে ব্যবধান নিয়ে যান ৯-০-তে। ৯০ মিনিটে হান জিন হংয়ের দশম গোলটি শুধু ম্যাচের শেষ গোলই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারের ব্যবধানও নিশ্চিত করে।
দুই দলের শক্তির পার্থক্য অবশ্য কাগজে-কলমেই ছিল স্পষ্ট। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭। গত মার্চে এশিয়ান কাপেও এই প্রতিপক্ষের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই ব্যবধান দ্বিগুণেরও বেশি। তার ওপর বাটলারের একাদশে ছিল বড় পরিবর্তন। অভিজ্ঞ ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও শামসুন্নাহার সিনিয়র ছিলেন না শুরু একাদশে। তরুণদের ওপর আস্থা রেখে সাজানো দলটি শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। তবে ম্যাচ শেষে বাটলারের বক্তব্যে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ১০ গোলের হার থাকেনি। বরং ফিরে এসেছে তার পুরোনো অভিযোগ-মাঠের বাইরের হস্তক্ষেপ। দলের ভয়াবহ পারফরম্যান্সের দায় মাঠের ভেতরের জন্য নিতে রাজি পিটার বাটলার। কিন্তু দলের বাইরে কী হচ্ছে, তার দায় নিতে চান না তিনি। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হার নিয়ে বাংলাদেশ কোচ নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, 'আজ আমরা আমাদের সব নীতির বাইরে গিয়ে খেলেছি, যা আমাকে হতাশ করেছে। আর দুঃখজনকভাবে আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি এবং এটাই আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে মাঠের ভেতরের সবকিছুর পুরো দায় আমি নিচ্ছি। মাঠের বাইরের দায় আমি নিচ্ছি না।' কিন্তু সেই 'মাঠের বাইরে' কী হচ্ছে? এবারও বাটলার অভিযোগ তুলেছেন দলের ভেতরে বিভাজন এবং তাকে ঘিরে মতবিরোধের। বাটলার, 'মাঠের বাইরে যা ঘটছে, তা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। মাঠের বাইরে কী হচ্ছে, তা তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। এখন তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল-হয়তো অনেকেই। এমনকি নারী উইংয়ের প্রধানও আমার কাজের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করেন না, যা আমাদের ভিন্ন এক আলোচনায় নিয়ে যায়।' এখানেই শেষ নয়। মাঝরাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা কিংবা কনফারেন্স কলে যুক্ত করার মতো বিষয়ও সামনে এনেছেন ইংলিশ কোচ। তার বক্তব্যের সারকথা-এ ধরনের পরিবেশে একটি দল গড়ে তোলা কঠিন। দলের মধ্যে সিনিয়র ও তরুণ-দুটি গ্রুপ তৈরি হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। অথচ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যে তরুণনির্ভর দল মাঠে নামিয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের গতির সামনে কার্যত ভেঙে পড়ে। বাটলারের সামনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর খুব বেশি সময় নেই।
