কোচিংয়ে 'বদল' নয়, ধারাবাহিকতার পথে বিসিবি
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শন টেইটের বিদায়ের পর গল্পটা শুরু হয়েছিল 'সাময়িক' শব্দটি দিয়ে! অস্ট্রেলিয়া সিরিজ পর্যন্ত দায়িত্ব, তারপর নতুন কাউকে খোঁজা হবে-পরিকল্পনাটা ছিল এমনই। কিন্তু ক্রিকেটে কখনও কখনও সাময়িক সমাধানই হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি ভরসা। তালহা জুবায়েরের ক্ষেত্রেও এখন তেমনই কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে সাবেক এই পেসারকে ভারপ্রাপ্ত পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও কাজ করেছেন তিনি। শুরুতে দায়িত্বের সীমানা ছিল একটি সিরিজ। এখন সেটিই পেরিয়ে যাচ্ছে একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তাকে নিয়ে।
গত ৪ জুন পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের পদ ছাড়েন শন টেইট। ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই পেসারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে পূর্ণকালীন দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় দুই পক্ষের সমঝোতায় শেষ হয় সেই অধ্যায়। টেইট চলে গেলেও তার সময়ের কাজগুলো থামিয়ে দিতে চায় না বিসিবি। বরং স্থানীয় ক্রিকেটে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা তালহার ওপর আস্থা রেখে পেস বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার পথেই হাঁটছে বোর্ড!
সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি। অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একমাত্র টেস্ট দিয়ে শুরু হবে পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। এরপর বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। তারপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টের সঙ্গে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি। এত দীর্ঘ সূচিতে পেসারদের সামলানোর দায়িত্ব তাই কম নয়।
বিশেষ করে টেইটের সময়ে তরুণ পেসারদের উন্নতি যে জায়গায় পৌঁছেছিল, সেটি ধরে রাখাই তালহার সামনে বড় কাজ। নাহিদ রানার মতো তরুণদের উঠে আসা ছিল টেইট-পর্বের অন্যতম ইতিবাচক দিক। এবার সেই ধারাবাহিকতায় তালহাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে চাইছে বিসিবি!
শুধু পেস বোলিং নয়, জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোর অন্য জায়গাগুলোতেও আপাতত বড় কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটছে না বোর্ড।
ফিল্ডিং কোচ হিসেবে আশিকুর রহমান মজুমদারই থাকছেন। অস্ট্রেলিয়া সফরেও দলের ফিল্ডিং প্রস্তুতিতে কাজ করেছেন তিনি। স্লিপ ক্যাচ থেকে হাই ক্যাচ-দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জায়গায় খেলোয়াড়দের উন্নতি নিয়েও কাজ করেছেন। তবে আশিকের দায়িত্বের মেয়াদ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত ছবি পরিষ্কার নয়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে, নাকি সিরিজ ধরে দায়িত্ব চলবে-সেটি পরের সিদ্ধান্ত। ব্যাটিং বিভাগেও আপাতত স্বস্তি ফিরেছে।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলই ব্যাটিং কোচ হিসেবে থাকছেন। ২০২৫ সালের আয়ারল্যান্ড সিরিজে বিশেষায়িত ব্যাটিং কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করা আশরাফুলের কাজে বোর্ড সন্তুষ্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট হারের পর তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আপাতত সেই আলোচনা থেমেছে।
বাংলাদেশের কোচিং প্যানেলের সামনে এখন বড় কোনো 'সংস্কার' নয়, বরং ধারাবাহিকতার পরীক্ষা। তালহা, আশিক ও আশরাফুল-তিনজনকেই রেখে এগোতে চাইছে বিসিবি। সঙ্গে একজন সহকারী কোচ যোগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
টেইটের হঠাৎ বিদায়ের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেটির তাৎক্ষণিক সমাধান খুঁজতে গিয়ে বিসিবি এখন আরও বড় ছবিটাই দেখছে। লক্ষ্য ২০২৭ বিশ্বকাপ। আর সেই লক্ষ্যে বারবার নতুন মুখ আনার বদলে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের দিয়েই কাঠামোটা স্থির করার চেষ্টা চলছে!
