ফর্টিসের গোলবন্যার দিনে আবাহনীর হোঁচট
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই ফুটে উঠল দুই রকম ছবি! কোথাও গোলের বন্যা, কোথাও নবাগতদের চমক; আবার মানিকগঞ্জে গত দুই মৌসুমের রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেড আটকে গেল গোলশূন্য ড্রয়ে। পাঁচ ম্যাচের উদ্বোধনী দিনে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে ফর্টিস এফসি। তবে ছয় গোলের সেই জয়ের পরও তাদের ডাগআউটে ছিল না পুরোপুরি স্বস্তির ছাপ। কারণ প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম সিটি এফসি তাদের প্রত্যাশিত লড়াইটাই দিতে পারেনি! গতকাল শুক্রবার লিগের প্রথম দিনে মানিকগঞ্জে আবাহনীর শুরুটা ছিল গোলের খোঁজে। একের পর এক আক্রমণ করেও পিডব্লুডির জালে বল পাঠাতে পারেনি আকাশি-নীলরা। সুযোগ তৈরি করেছিল পিডব্লুডিও, কিন্তু তারাও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিটের লড়াই থেমেছে গোলশূন্য সমতায়। আবাহনীর জন্য এই ড্রয়ের পেছনে দলটির প্রস্তুতি ও গঠনও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে দলবদলে অংশ নেওয়া ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা যেসব বিদেশি ফুটবলারকে দলে নিয়েছে, তাদের কেউই এখনো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাননি। তাই প্রথম ম্যাচে পুরোপুরি স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়েই একাদশ সাজাতে হয়েছে। নতুন মৌসুমে নেতৃত্বের ভার পাওয়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াছিন খানের অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকও তাই প্রত্যাশামতো হলো না।
অন্যদিকে পিডব্লুডির একাদশে ছিল ক্যামেরুন ও জার্মানির দুই বিদেশি ফুটবলার। আবাহনীর মতো দলের বিপক্ষে গোল না খেয়ে এক পয়েন্ট আদায় করে নেওয়াটা তাদের জন্য মৌসুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাস জোগানোর মতো ফল। মানিকগঞ্জের গোলশূন্য ম্যাচের ঠিক বিপরীত দৃশ্য দেখা গেছে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। সেখানে নবাগত চট্টগ্রাম সিটি এফসিকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফর্টিস এফসি। প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা পায়নি তারা। কিন্তু বিরতির পর যেন বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। ৫২ মিনিটে পা ওমর বাবুর গোলে শুরু হয় গোল উৎসব। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জাপানি ফরোয়ার্ড নরিকি আকাদা। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি ফর্টিসকে। ৭৭ মিনিটে নরিকি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। দুই মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০। ৮২ মিনিটে রাফায়েল টুডু এবং ৮৭ মিনিটে পা ওমর বাবু নিজের দ্বিতীয় গোল করলে শেষ পর্যন্ত ছয় গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। স্কোরলাইন অবশ্য ফর্টিসের পুরো সন্তুষ্টির গল্প বলে না! প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করেছিল তারা। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটির প্রস্তুতির ঘাটতি মাঠে এতটাই স্পষ্ট ছিল যে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ কার্যত একতরফা হয়ে যায়। ফর্টিস কোচ মাসুদ কায়সার ম্যাচ শেষে সরাসরি প্রস্তুতির বিষয়টিই সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি সেভাবে অনুশীলন করতে না পারায় রানিংয়েও ফর্টিসের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। এখানেই উদ্বোধনী দিনের বড় পার্থক্যটি ধরা পড়ে। ফর্টিস এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রস্তুতির জন্য প্রায় আড়াই মাস ধরে অনুশীলনে ছিল। বিপরীতে চট্টগ্রাম সিটি লিগের ম্যাচের আগে মাত্র একটি অনুশীলন সেশন করতে পেরেছিল। এমন অবস্থায় দেশের শীর্ষ লিগে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা যে কঠিন হবে, তা মাঠের ৯০ মিনিটেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম সিটির রক্ষণও সেই প্রস্তুতির ঘাটতি লুকাতে পারেনি। দুই সেন্টার ব্যাকসহ ডিফেন্ডারদের অনেক সময়ই ফর্টিসের ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে যেতে দেখা যায়নি। ফলে ফর্টিসের আক্রমণভাগ বেশ কয়েকবার প্রায় বাধাহীনভাবেই গোলমুখে পৌঁছে যায়। ম্যাচ শেষে এমন পারফরম্যান্স দেশের শীর্ষ লিগের মান নিয়ে প্রশ্নও তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম সিটির প্রধান কোচ কানাডিয়ান জুলিও মরিনোও ম্যাচে ছিলেন না; তিনি এখনো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাননি। প্রথম দিনেই আরেক নবাগত ঢাকা সিটি ক্লাবও দিয়েছে নিজেদের আগমনের বার্তা। গোপালগঞ্জে তারা ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। ২৮ মিনিটে এনামুল ইসলাম গোল করে এগিয়ে দেন ঢাকা সিটিকে। ছয় মিনিট পর ওকাফ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৭৪ মিনিটে মোহাম্মদ ইসলামের গোলে পূর্ণতা পায় তাদের অভিষেক জয়। গাজীপুরে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিও পেয়েছে স্বস্তির জয়। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যখন গোলের দেখা মিলছিল না, তখন ইনজুরি সময়ে ফয়সালের গোল বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র। ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পুলিশ। চাঁদপুরে অবশ্য জয় এসেছে ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবের। ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। দলের জয়ে বড় অবদান গাম্বিয়ান সোলায়মান সিলার। জোড়া গোল করেছেন তিনি। ওয়ান্ডারার্সের হয়ে এক গোল শোধ দেন অস্ট্রেলিয়ান জন বেইলি।
