আসিয়ান কাপে আরও তিন প্রবাসী

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিদেক

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে ২৩ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। জার্মান-আমেরিকান কোচ টমাস ডুলির ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ, জাপানি বংশোদ্ভূত উইঙ্গার শুকি ইতোফুসা এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সেন্টার-ব্যাক জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ। নতুন মুখদের অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দলে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শামিত শোম, তারিক কাজী ও রাকিব হোসেনদেরও।

দলের সবচেয়ে আলোচিত সংযোজন ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংল্যান্ডের ফুলহাম একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই তরুণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে নিয়ে শুরু থেকেই আগ্রহ দেখিয়েছেন ডুলি। বাংলাদেশের আক্রমণে দীর্ঘদিনের সমস্যা একজন কার্যকর 'নম্বর নাইন' বা গোলস্কোরারের অভাব। সেই জায়গায় ফারহানের ফিনিশিং ক্ষমতাকেই বড় করে দেখছেন কোচ।

ডুলি সম্প্রতি ফারহানকে নিয়ে বলেছেন, 'এই ছেলেটির যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, সে জানে কীভাবে ফিনিশ করতে হয়। এটা একদম নিখুঁত।' কোচের প্রত্যাশা, ফারহান সামনে থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করবেন, সঠিক জায়গায় মুভ করবেন এবং পাওয়া সুযোগগুলো লক্ষ্যভেদে পরিণত করবেন। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে স্বীকৃত স্ট্রাইকারের ঘাটতি নিয়ে ডুলি এর আগেও খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, দেশের ঘরোয়া লিগে অধিকাংশ দলই বিদেশি ফরোয়ার্ডের ওপর নির্ভর করায় স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত 'নম্বর নাইন' তৈরি হচ্ছে না। তাই জাতীয় দলে এসে তাকে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে ওই পজিশনে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকি চোটের আগে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকেও কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন তিনি। বিশ্বনাথ আসিয়ান কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমনদের মতো উইঙ্গারদেরও ওই পজিশনে ভাবতে হচ্ছে।

ফারহানের পাশাপাশি শুকি ইতোফুসাও ডুলির আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প। জাপানে বেড়ে ওঠা এই উইঙ্গার সম্প্রতি বাংলাদেশি কাগজপত্র সম্পন্ন করে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেন। ফর্টিজ এফসির হয়ে খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলের অনুশীলনেও নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ এরই মধ্যে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেছেন এবং এবার সিনিয়র দলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন।

চূড়ান্ত দলে তিন গোলরক্ষক— মিতুল মারমা, মো. সুজন হোসেন ও মো. মেহেদী হাসান শ্রাবণ। রক্ষণভাগে জিদানের সঙ্গে আছেন টপু বর্মণ, শাকিল আহাদ টপু, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদ। মাঝমাঠে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শামিত শোম, সোহেল রানা, এস এম মনজুরুর রহমান ও মিনহাজুল করিম শাদিনদের রাখা হয়েছে। আক্রমণে ফাহামেদুল ইসলাম, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, ফারহান ও শুকির সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন পরীক্ষিত খেলোয়াড়। দল ঘোষণার আগে স্কোয়াড ছোট করার প্রক্রিয়াতেও ডুলি নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, ৩২ বা ৩৪ জন খেলোয়াড় নিয়ে অনুশীলন করলে প্রত্যেককে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং চূড়ান্ত ২৩ জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন। তাই পর্যায়ক্রমে খেলোয়াড় কমিয়ে এনে সেরা দলটির ওপর বেশি মনোযোগ দিতে চেয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ আসিয়ান কাপের 'এ' গ্রুপে খেলবে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে লাল-সবুজের দল। তিনটি ম্যাচই হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে।

নতুন মুখ, প্রবাসী ফুটবলার এবং অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া এই দলের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গোলের সুযোগকে কাজে লাগানো। আর সেই জায়গাতেই ডুলির বিশেষ নজর, ফারহান ও অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের দিয়ে বহুদিনের 'নম্বর নাইন' সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া।

ডুলির দল গঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিজ্ঞদের ওপর আস্থা। জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরী, শামিত শোম, তারিক কাজী, রাকিব হোসেনদের সঙ্গে নতুনদের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছেন কোচ। তবে দল ঘোষণার আগে স্কোয়াড ছোট করার পেছনেও নিজের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডুলি। তার মতে, অনেক খেলোয়াড় নিয়ে অনুশীলন করলে প্রত্যেককে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন। তাই ধাপে ধাপে খেলোয়াড় কমিয়ে এনে চূড়ান্ত দলকে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করতে চেয়েছেন তিনি।

আসিয়ান কাপের 'এ' গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে হবে বাংলাদেশের তিন ম্যাচ। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লাল-সবুজের অভিযান। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।