আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ কোচের প্রত্যাশা ও দুর্ভাবনা

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেষ মুহূর্তে চোটে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন। দলের সঙ্গী হলেও হালকা চোটে ভুগছেন ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন। দল নিয়ে তাই টমাস ডুলির দুর্ভাবনা কম নয়। ঢাকায় শেষ দিনের প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ চোট সমস্যার পাশাপাশি আসিয়ান কাপে নিজেদের গ্রুপের বাস্তবতা তুলে ধরলেন কোনো রাখঢাক না রেখে। বললেন, প্রত্যাশার কথাও। প্রিমিয়ার ডিভিশনে 'এ' গ্রুপে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষই ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম, সিঙ্গাপুর ১৪৮তম এবং বাংলাদেশ ১৮১তম। এই দলগুলোকে টেক্কা দিয়ে গ্রুপ পেরুনো নিয়ে বলতে গিয়ে ডুলি নিজের দলের সামর্থ্যের বাস্তবতা যেমন তুলে ধরলেন, তেমনি বললেন ফুটবলীয় সম্ভাবনার কথাও। "আপনারা কি আশা করছেন যে আমরা সেখানে গিয়ে ৮০ হাজার দর্শকের সামনে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে দেব? অথচ তাদের দলে এমন ছয়-সাতজন খেলোয়াড় আছে যারা বুন্ডেসলিগা, হল্যান্ডের লিগ কিংবা ইতালির প্রথম বিভাগে খেলে। আর আমাদের দলে প্রথম বিভাগে খেলা খেলোয়াড় কয়জন? একজনও না। উচ্চ পর্যায়ে খেলা একমাত্র খেলোয়াড় হলো হামজা; সে খেলে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। এই বিষয়গুলো আমাদের বুঝতে হবে; কেবল আকাশ-কুসুম কল্পনা করে কোনো লাভ নেই। 'তবে আমাদেরও সুযোগ আছে; ফুটবলে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের সুযোগ আছে, যদি তারা আমাদের হালকাভাবে নেয় আর আমরা যদি জোর লড়াই করি। তখন হয়তো ফুটবলের ভাগ্যদেবতা (সৃষ্টিকর্তা) আমাদের সহায় হবেন; এভাবেই দুর্বল দলগুলো জয়ী হয়। আমাদের সেই আশাটাই রাখতে হবে এবং তার জন্যই কাজ করতে হবে।' ভালো ফলের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার দিকেই গুরুত্ব দিতে চান ডুলি। রাতারাতি কোনো কিছু সম্ভব নয়, উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ ধুয়ে দিলেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সমালোচকদের। 'দেখুন... ফেইসবুকে তাকালে দেখি অনেকেই ফুটবল বা এসব বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানে না। যারা বোঝেন, তারা জানেন—কোনো কিছুই রাতারাতি হয় না। এমনকি নতুন কোচ হিসেবে আমি কাউকে রাতারাতি খেলার কৌশল বুঝিয়ে দিতে পারি না বা কাউকে হঠাৎ ভালো খেলোয়াড় বানিয়ে দিতে পারি না। 'কেউ হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারল না, আর অমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ধুয়ে দেওয়া হয়-এভাবে তো আপনি ওইসব খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছেন। খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানো উচিত, তাদের সমর্থন করা প্রয়োজন। যেমন শুনলাম, তপু ইনজুরিতে পড়েছে, কিন্তু তার বদলে একজন ফরোয়ার্ডকে দলে নেওয়া হচ্ছে। এটা কীভাবে হয়? আপনি একজন ডিফেন্ডার হারাচ্ছেন আর তার বদলে একজন ফরোয়ার্ড নিচ্ছেন? অথচ ওই পজিশনে খেলার মতো ভালো ডিফেন্ডার আমাদের হাতে আছে। এ কারণেই ফরোয়ার্ড (শাহরিয়ার ইমন) নেওয়া হয়েছে।'

ফরোয়ার্ড লাইন আপে আগে থেকেই আছেন রাকিব হোসেন, ফাহামিদুল ইসলাম, মিনহাজুল করিম স্বাধীন ও মোরসালিন। এদের মধ্যে মোরসালিনের চোট নিয়েই দলের সঙ্গী হওয়ার ব্যাখ্যাও দিলেন ডুলি। দলকে একটা পর্যায়ে তুলতে আরও সময় চাইলেন কোচ। 'মোরসালিন কাফ মাসলেও সামান্য চোট পেয়েছিল। সে অনুশীলন করতে পারছিল, কিন্তু গতকাল বা দুদিন আগে অস্বস্তি অনুভব করে। আমরা এমআরআই করিয়ে দেখলাম সমস্যাটা খুব সামান্য; হয়তো আরও তিন দিন সময় লাগবে, এরপরই সে আবার অনুশীলনে যোগ দিতে পারবে। তাই সে এখনো দলের সাথেই আছে। আমি চার বছর ফিলিপাইনে ছিলাম এবং সেই সময়ে আমরা র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ৪০-৫০ ধাপ এগিয়েছিলাম। সেখানে আমরা সবচেয়ে বড় সাফল্য পেয়েছিলাম। কারণ খেলোয়াড়দের বুঝতে হয় আমরা কীভাবে খেলতে চাই। বুন্ডেসলিগা বা প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় লিগে খেলা খেলোয়াড়দের তুলনায় এই ছেলেরা কোথায় ভুল করছে, সেটা তাদের অনুধাবন করতে হয়। আর এই বোঝাপড়া বা উন্নতি রাতারাতি আসে না, এর জন্য সময়ের দরকার।'