জাপানে লিটন-শান্তদের পরীক্ষা ভরসা সেই গামিনি
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
জাপানে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি যেন প্রতিপক্ষ নয়, উইকেট। যে মাঠে কখনো খেলেনি দল, সেই কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কের পিচ কেমন আচরণ করবে-এখনো সেটি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন ক্রিকেটাররা। তবে অচেনা সেই উইকেটের রহস্য ভেদে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা এমন একজন, যিনি ১৬ বছর কাটিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে-গামিনি ডি সিলভা! এশিয়ান গেমসের ওয়েবসাইটে কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কের যে ছবি আছে, তা দেখে মাঠটিকে চেনার উপায় নেই। বরং ছবির চেয়ে মাঠটির গল্পই বেশি আকর্ষণীয়। নিসশিন শহরের এই ভেন্যুটি মূলত নতুন করে ক্রিকেটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী প্রাকৃতিক ঘাসের পিচ থাকা জাপানের মাত্র দ্বিতীয় সুবিধা এটি।
আরও মজার ব্যাপার, মাঠটির ক্রিকেটযাত্রা খুব পুরোনো নয়। আগে এটি ছিল বেসবল সুবিধা। নাগোয়া শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের জায়গাটিকে ক্রিকেটের জন্য পুনর্গঠন করা হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে কাজ শেষ হওয়ার পর মে মাসে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক বাছাইপর্ব দিয়ে মাঠটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বড় পরীক্ষা দেয়। সেই পরীক্ষায় মাঠ মোটামুটি উতরে গেছে। আইসিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাছাইপর্বে ২১ ম্যাচের ছয়টি আয়োজন করেছিল কোরোগি স্পোর্টস পার্ক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর পর এবার সেখানে এশিয়ার বড় দলগুলোর আগমন। এশিয়ান গেমসে পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগেই সব ম্যাচ হবে এই মাঠে। বাংলাদেশের জন্য আসল কৌতূহল এখানেই। ছবিতে মাঠ যতই সুন্দর দেখাক, ক্রিকেটারের জন্য আসল গল্প বলে উইকেট।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে, কোরোগির পিচ প্রচলিত অর্থে পুরোপুরি 'জাপানি' কোনো পরীক্ষা নয়। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে হাইব্রিড পিচ। আইসিসির বর্ণনা অনুযায়ী, এই উইকেটের আচরণ পাকিস্তানের কিছু পিচের সঙ্গে তুলনীয়-বাউন্সের পাশাপাশি টার্নও পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ যে ধরনের উইকেটে সাধারণত খেলতে অভ্যস্ত, কোরোগির পিচ তার চেয়ে আলাদা কিছু উপহার দিতে পারে। ব্যাটসম্যানদের জন্য বলের বাউন্স বোঝা যেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে, তেমনি স্পিনারদের জন্যও উইকেটের আচরণ বুঝে বোলিং করা হতে পারে বড় অস্ত্র। এ কারণেই বাংলাদেশের কৌতূহল এত বেশি। এই জায়গাতেই এসে বাংলাদেশের গল্পে ঢুকে পড়ছেন গামিনি ডি সিলভা। শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার ও কিউরেটর গামিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে বিদায় নেওয়ার আগে ১৬ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের উইকেট তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সময়ে বাংলাদেশ ৩২টি টেস্ট, ১০৬টি ওয়ানডে ও ৬৮টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে।
মিরপুরের ধীরগতির, নিচু বাউন্সের উইকেট তৈরির সঙ্গে তার নাম দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে ছিল। এবার সেই গামিনিই এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টের প্রধান কিউরেটরদের একজন হিসেবে বাংলাদেশের অচেনা মাঠকে চেনার সবচেয়ে বড় সূত্র। বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীনও স্বীকার করেছেন, জাপানের উইকেট নিয়ে এখনো তাদের পুরোপুরি ধারণা নেই। তবে কারা উইকেট তৈরি করছেন, সেটি তারা জানেন। নারী দলের ম্যাচগুলোও পুরুষ দলের জন্য কন্ডিশন বোঝার প্রথম সুযোগ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশকে হয়তো জাপানে গিয়ে প্রথম ম্যাচের আগেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিতে হবে না। নারী দলের ম্যাচগুলোই হয়ে উঠবে এক ধরনের 'লাইভ রিপোর্ট'। কোরোগি নিয়ে আগের ধারণাটা অনেকটাই ছিল ছবিনির্ভর। কিন্তু মে মাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পর মাঠ সম্পর্কে এখন কিছু বাস্তব তথ্যও পাওয়া গেছে। আইসিসি জানিয়েছে, বাছাইপর্বে মাঠের আউটফিল্ড ভালো ছিল এবং পিচও ভালো খেলেছে। অস্থায়ী গ্যালারি বসিয়ে এশিয়ান গেমসের সময় প্রায় দুই হাজার দর্শক বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ম্যাচের সময়। এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটের ম্যাচগুলো দিনের আলোতেই হবে। পুরুষদের প্রাথমিক পর্ব ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর, এরপর ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনাল। বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নামবে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর 'বি' গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হবে। এই সূচি বাংলাদেশের প্রস্তুতির জন্যও একটা সুবিধা তৈরি করছে। জাপানের মতো সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে গিয়ে অন্তত আলো-আঁধারির কোনো বাড়তি পরীক্ষা দিতে হবে না।
জাপানে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতিও চলছে নিজেদের পরিচিত পরিবেশে। মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনের অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে দল। জাতীয় দলের হেড কোচ ফিল সিমন্সও দলের সঙ্গে দেখা করে গেছেন। এশিয়ান গেমসের দলটিও মূলত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়েই সাজানো। ফলে এশিয়াডের প্রস্তুতি আর জাতীয় দলের প্রস্তুতির মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নেই। তবে সিমন্স শিগগিরই টেস্ট দল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। মিরপুরে প্রস্তুতির শেষ ধাপে ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর নিজেদের মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা বাংলাদেশের।
