বাংলাদেশকে র্যাংকিংয়ের পার্থক্য বোঝাল মালয়েশিয়া
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফিফা আসিয়ান কাপে অভিষেকটা মোটেও ভালো হলো না বাংলাদেশের। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৪৫ ধাপ এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একের পর এক ভুলে বড় হার দেখেছে লাল সবুজ দল। গতকাল শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো (জিবিকে) স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেল থমাস ডুলির শিষ্যরা। মাঠের লড়াইয়েও র্যাংকিংয়ের পার্থক্যটা স্পষ্ট করে তুলেছে মালয়েশিয়া। টুর্নামেন্টের ডিভিশন ওয়ানের 'এ' গ্রুপের ম্যাচের প্রথমার্ধে মালয়েশিয়ার হয়ে জোড়া গোল করেন উইঙ্গার আরিফ আইমান। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে নামা ফরোয়ার্ড বার্গসন। বিপরীতে, সব বিভাগেই হতাশ করা বাংলাদেশ দল খুঁজে নিতে পারেনি জালের ঠিকানা।
এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে তিন তরুণর। তারা হলেন, ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ফারহান আলী ওয়াহিদ ও জিদান ইউসুফ এবং জাপানে জন্ম নেওয়া শুকি ইতোফুসা। শুরুর একাদশে থাকা উইঙ্গার ফারহানকে প্রথমার্ধ শেষে উঠিয়ে নেন ডুলি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামেন উইঙ্গার শুকি ও ডিফেন্ডার জিদান। ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ যেন পুরো ৯০ মিনিট কাটাল একটি অদৃশ্য ফাঁদে আটকে! শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে জ্বলছিল নির্মম এক সংখ্যা- বাংলাদেশ ০, মালয়েশিয়া ৩! আসিয়ান কাপে অভিষেকটা হয়তো ভুলে যেতে চাইবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা! শুরুটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, লড়াইটা সহজ হবে না। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই কর্নার থেকে ফিরে আসা বলে দূরপাল্লার শট নেন ফয়সাল হালিম। মেহেদী হাসান শ্রাবণ কোনোমতে সেটি ফিস্ট করে বাইরে পাঠান। কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্বস্তি। কিন্তু সেটি ছিল ঝড়ের আগে দরজা বন্ধ করার মতো।
১৮ মিনিটে সেই চাপ ভেঙে দিল বাংলাদেশের দেয়াল! নিজেদের অর্ধ থেকে নোয়া লেইনের বাড়ানো উঁচু বল চলে যায় বাংলাদেশের রক্ষণভাগের পেছনে। আরিফ আইমান সেটি নিয়ন্ত্রণ করে ডান দিক থেকে ঢুকে পড়েন বঙ্।ে তপু বর্মণ তাঁকে অনুসরণ করছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আরিফের শটের পথ বন্ধ করতে পারেননি। নিচু কোনাকুনি শট। শ্রাবণের হাত ছুঁয়ে বল জালে। এক গোল! বাংলাদেশ তখনও ম্যাচে। হামজা চৌধুরী মাঝমাঠে বল নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফারহান আলী ওয়াহিদ বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠছেন। ২৫ মিনিটে একটি আক্রমণে বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড় একসঙ্গে বঙ্ েঢোকার চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়ার রক্ষণ এসে সব হিসাব এলোমেলো করে দিল।
বাংলাদেশের সমস্যা তখনই পরিষ্কার হয়ে উঠেছিল-আক্রমণ আসছে, কিন্তু ধারাবাহিকতা নেই। একটি ভালো পাসের পর ভুল পাস। একটি এগিয়ে যাওয়া আক্রমণের পর আবার পেছনে ফিরে যাওয়া। গোলের সামনে পৌঁছানোর আগেই যেন বাংলাদেশের আক্রমণের গল্প শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তারপর এল সেই ভুল! ৩৭ মিনিটে বঙ্রে সামনে তপু বর্মণের পায়ে বল। পেছন থেকে চাপ দিচ্ছেন স্টুয়ার্ট উইলকিন। এক মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণহীনতা। বল ছিনিয়ে নিলেন উইলকিন। সামনে আরিফ আইমান। পাস পেলেন তিনি, আর কোনো ভুল করলেন না। শট। গোল। আরিফের দ্বিতীয় গোল। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিপদ!
প্রথম গোলের পর বাংলাদেশ যে অস্বস্তিতে ছিল, দ্বিতীয় গোলের পর সেই অস্বস্তি যেন আরও গভীর হলো।
