খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় তুলতে চান না কোচ
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্কোরলাইনটা নির্মম! বাংলাদেশ ০, মালয়েশিয়া ৩। জাকার্তায় আসিয়ান কাপের শুরুটা তাই বাংলাদেশের জন্য হলো বড় ধাক্কায়। তবে তিন গোলের এই হারের পরও কোচ থমাস ডুলির কণ্ঠে ছিল না খেলোয়াড়দের কাঠগড়ায় তোলার সুর। বরং র্যাঙ্কিং, ম্যাচ খেলার ঘাটতি আর মাঠের ভুল-সব মিলিয়ে বাস্তবতাটাই সামনে আনলেন তিনি। আর সেই বাস্তবতার মাঝেই তার বার্তা, আমরা এখানে শিখতে এসেছি। স্বপ্নের শুরু হলো না।
আসিয়ান কাপের মিশনে প্রথম ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩ গোলে হেরে একদিন আগেই অভিষেক হলো বাংলাদেশের। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের পার্থক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার বাংলাদেশের জালে বল জড়ায়। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি হামজা চৌধুরীদের দল।
ম্যাচ শেষে অবশ্য খেলোয়াড়দের খুব একটা কাঠগড়ায় তুললেন না বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলি। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ম্যাচকে বাস্তবতার আয়না হিসেবেই দেখছেন তিনি, এটা আমাদের প্রত্যাশার মতো ছিল না। তবে তাঁর চোখে ম্যাচটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা, পার্থক্যটা স্পষ্ট।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৮১তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৪৫ ধাপ। মাঠের লড়াইয়েও সেই ব্যবধান যেন আরও পরিষ্কার হয়ে উঠল। বাংলাদেশের পাসিংয়ে ভুল ছিল, ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দিয়েছে রক্ষণ, আর আক্রমণে ওঠার পরও শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ে ধার ছিল না। ডুলি বললেন, মূল পার্থক্যটা অ্যাকুরেসিতে। সঙ্গে যোগ করলেন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল জায়গাতেও। মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগের প্রশংসা করে তার মন্তব্য, তারা অন্য লেভেলের।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষের তিন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়কে নিয়ে সতর্ক ছিলেন তিনি। তাদের গতি, ক্ষীপ্রতা আর টেকনিক অসাধারণ, বললেন ডুলি। তার মতে, দু'পায়েই দক্ষ এসব খেলোয়াড়কে সামান্য জায়গা দিলেই বিপদ।
বাংলাদেশ শুরু করেছিল রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায়। কিন্তু ১৮ মিনিটেই রক্ষণের ভুলে পিছিয়ে পড়ে দল। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও একবার বিপদ। প্রথমার্ধের শেষদিকে শাকিল আহাদ তপুর ভুল কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মালয়েশিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে তৃতীয় গোল। এরপর ম্যাচটা কার্যত বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে যায়। তবু বাংলাদেশ কোচ ডুলির চোখে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পুরোপুরি ব্যর্থ নয়। তারা সবাই চেষ্টা করেছে, বলেছেন তিনি। এরপর আরও স্পষ্ট করে তার বক্তব্য, খারাপ পারফরম্যান্স বলব না। কারণ হিসেবে সামনে এনেছেন দুই দলের প্রস্তুতির পার্থক্য। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে ছিলেন, বিপরীতে মালয়েশিয়ার খেলোয়াড়েরা নিয়মিত লিগ ও জাতীয় দলের ম্যাচ খেলছেন।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিল গত জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে। এরপর ঘরোয়া লিগও মাঠে গড়ায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের ক্লান্তিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ডুলি তাই বললেন, অনুশীলনের মধ্যেই ছিল না তারা। এরপর বাস্তবতাটা তুলে ধরে যোগ করলেন, এমন দলের বিপক্ষে কাজটা খুব কঠিন। ৬০ মিনিটের পর অবশ্য বাংলাদেশ কিছুটা মরিয়া হয়ে ওঠে। হামজা দুটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মালয়েশিয়ার গোলরক্ষক দুবারই দারুণভাবে রুখে দেন। তাতে ব্যবধান কমানোর আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।
মালয়েশিয়া ম্যাচ এখন অতীত। বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে আরও দুটি ম্যাচ। ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের দল। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ।
ডুলির পরিকল্পনা তাই পরিষ্কার- এই হারের ভুলগুলো খুঁজে বের করে পরের ম্যাচে কাজে লাগানো। ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করতে হবে, বলেছেন তিনি। তার বিশ্বাস, সময় কম হলেও শেখার সুযোগ আছে, এই ম্যাচ থেকে আমাদের শিখতে হবে। আর শেষ কথায় যেন পুরো ম্যাচের ব্যাখ্যাই দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ কোচ, আমরা এখানে শিখতে এসেছি। ০-৩-এর হার তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি পরাজয় নয়, সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষারও শুরু! ধাক্কা পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই পথ- শেখা থেকে উন্নতিতে যাওয়া।
