বিসিবির পাশে কর্পোরেট হাউস
নতুন মোড়কে ঘরোয়া ক্রিকেট
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
লাল বলের ক্রিকেটে যার শুরু, শেষটা হবে টি-টোয়েন্টির রোমাঞ্চে! মাঝখানে থাকবে ওয়ানডের লড়াই। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে তিন ফরম্যাটে এক সুতোয় গেঁথে নতুন কাঠামোয় সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী ৩ অক্টোবর জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) লাল বলের খেলা দিয়ে শুরু হবে এই যাত্রা।
এরপর মাঠে গড়াবে ওয়ানডে, আর সবশেষে বিপিএলের আদলে হবে টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা। এবারের উদ্যোগের বিশেষত্ব শুধু তিন ফরম্যাটকে এক কাঠামোয় আনা নয়, বড় পরিবর্তন আসছে দল পরিচালনা ও মালিকানাতেও।
লাল বলের ক্রিকেট বিসিবির সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকলেও সাদা বলের ছয়টি দলের মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশের করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন বছরের জন্য এই মালিকানা স্বত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে এবার শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, যুক্ত হচ্ছে করপোরেট জগতের উপস্থিতিও। বিসিবির ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দল পরিচালনায় যুক্ত হওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত কাঠামোতে আসতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা! এই নতুন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আজ সন্ধ্যায়। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে সন্ধ্যা ৭টায় হবে লঞ্চিং অনুষ্ঠান।
শুরুতে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নামটি আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই নামে টুর্নামেন্টটি হচ্ছে না বলেই জানা গেছে। এর পরিবর্তে 'ডি থ্রি ট্রফি' নামটি সামনে এসেছে। 'ডি থ্রি' মূলত 'ডমেস্টিক থ্রি'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিন ফরম্যাটের এই আয়োজনের সবচেয়ে নতুন ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি পর্ব। বিপিএলের আদলে সাজানো এই প্রতিযোগিতা আগামী ডিসেম্বরে বরিশালের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী হিসেবে রয়েছে ফরচুন গ্রুপ, ব্লু স্টার লিমিটেড, সিটিজেন ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, একমি ল্যাবরেটরিজ এবং নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ।
শুধু মালিকানার কাঠামোতেই পরিবর্তন নয়, প্রতিটি দলের সঙ্গে থাকছেন একজন করে নির্বাচক বা প্রতিনিধি।
ছয় দলের ছয় প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন হাবিবুল বাশার সুমন, হাসিবুল হোসেন শান্ত, সাজ্জাদ শিপন, নাদিফ চৌধুরী, নাইম ইসলাম ও শামসুর রহমান। দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি তাদের ভূমিকা থাকবে ক্রিকেটীয় ব্যবস্থাপনাতেও।
একদিকে এনসিএলের দীর্ঘ ঐতিহ্যের লাল বলের ক্রিকেট, অন্যদিকে করপোরেট মালিকানায় সাদা বলের নতুন প্রতিযোগিতা-দুই ধারাকে একই কাঠামোয় নিয়ে আসার এই উদ্যোগে বদলে যেতে পারে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের চেহারা। ৩ অক্টোবরের এনসিএল দিয়ে যে যাত্রা শুরু হবে, তার শেষ অধ্যায় লেখা হবে ডিসেম্বরের টি-টোয়েন্টি মঞ্চে!
