হামজাদের চোখ এখন ঢাকার সাফে

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ, কিন্তু টুর্নামেন্ট এখনও শেষ হয়নি। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কাছে হারের পর ফিফা আসিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। এই ম্যাচে হার-জিতের চেয়েও বড় হয়ে উঠছে নভেম্বরের সাফের প্রস্তুতি, যেখানে আট বছর পর দেশের মাটিতে খেলবে বাংলাদেশ।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠেই শুয়ে পড়েছিলেন হামজা চৌধুরী। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য যেন বলে দিচ্ছিল বাংলাদেশের ম্যাচের গল্পটা— চেষ্টা ছিল, লড়াইও ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফলটা নিজেদের পক্ষে নেওয়া গেল না! মালয়েশিয়ার পর সিঙ্গাপুরের কাছেও হার। ফলে আসিয়ান কাপের শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। এখন সামনে পড়ে আছে শুধু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি। আর তারও ওপরে তাকালে দেখা যাচ্ছে নভেম্বরে ঢাকার মাটিতে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।

সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ গোলের হার বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পরাজয়। এর আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল ০-৩ গোলে। দুই ম্যাচে চার গোল হজম করলেও বাংলাদেশের আক্রমণভাগ এখনও গোলের দেখা পায়নি। দুই ম্যাচ শেষে গোলের হিসাব ০-৪। আজ বৃহস্পতিবার স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে সেই গোলের খরা কাটানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টটা অন্তত ইতিবাচক কিছু নিয়ে শেষ করার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে!

তবে হামজা চৌধুরীর চোখ এখন আরও দূরে। নভেম্বরে দেশের মাটিতে সাফ। আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় সেই টুর্নামেন্টকেই আপাতত বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারের পর হামজা বলেন, নভেম্বরে দেশের মাঠে আমাদের একটি বড় টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সেটাকে সামনে রেখে এগোচ্ছি।

আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে হতাশার জায়গা যেমন আছে, তেমনি কিছু ইতিবাচক দিকও খুঁজে নিচ্ছেন হামজা। বিশেষ করে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ তুলনামূলক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারলেও ম্যাচের সব সময় দুই দলের পার্থক্য এতটা বড় ছিল না- এমনটাই তার পর্যবেক্ষণ, আমাদের জন্য এই পর্যায়ে তাদের বিপক্ষে খেলাটা দারুণ ব্যাপার। র‍্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের ওপরে। কিন্তু মাঠের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্তের দিকে তাকালে আসলে সেই ব্যবধানটা খুব একটা চোখে পড়ে না। সুতরাং আমরা নিশ্চয়ই কিছু একটা ঠিকঠাক করছি।

কিন্তু ফলাফলও যে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও অস্বীকার করার উপায় নেই। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে রক্ষণে ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও গোলের সামনে গিয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দল। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফিনিশিং আসেনি। দুই ম্যাচে গোল না পাওয়ার বিষয়টি তাই বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে। বিশেষ করে সাফের আগে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং রক্ষণে ভুল কমানোই কোচ টমাস ডুলির সামনে বড় কাজ হয়ে দাঁড়াবে।

গ্রুপের দলগুলোর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে নিচে। বাংলাদেশ ১৮১ নম্বরে, ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে। কিন্তু হামজা শুধু র‍্যাঙ্কিং দিয়ে মাঠের পার্থক্য বিচার করতে চান না। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্দিষ্ট মুহূর্তে দলের পারফরম্যান্স এবং নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

সিঙ্গাপুর ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশেও পরিবর্তন এসেছিল। মালয়েশিয়া ম্যাচের পর রক্ষণে জিদান ইউসুফকে আনা হয়। একই সঙ্গে জামাল ভূঁইয়া, শুকি ইতোফুসা ও শেখ মোরসালিনের মতো খেলোয়াড়দেরও একাদশে দেখা যায়। তবু কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলারদের সমালোচনাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ওপর চাপ তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় সুযোগ ঘরের মাঠের সাফ। সেখানে সমর্থকদের প্রত্যাশাও থাকবে অনেক বেশি। জাতীয় স্টেডিয়ামে হামজা, জামালদের দেখতে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেটির আঁচ ইতোমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। তার আগে অবশ্য ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। শিরোপার লড়াই থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি তাই মূলত সম্মানের।