মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রশ্নে লিটনের পাল্টা প্রশ্ন
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

চার ওভার বাকি ছিল। পাকিস্তানের দরকার ৩৬ রান। উইকেট ছিল স্পিনবান্ধব, হাতে ছিল বাংলাদেশের সেরা বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের আরও দুই ওভার। ম্যাচ তখনও পুরোপুরি বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নয়। কিন্তু সেই সম্ভাবনাটাই শেষ হয়ে গেল মুস্তাফিজের করা এক ওভারে!
১০ম ওভারে ২৩ রান তুলে নিল পাকিস্তান। ৩৬ থেকে সমীকরণ নেমে এল ১৮ বলে ১৩-তে। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ৯ বল হাতে রেখেই পাকিস্তান জিতে উঠে গেল এশিয়ান গেমসের ফাইনালে। বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জের লড়াই। জাপানের মাঠে আজ এই হারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে মুস্তাফিজকে নিয়ে। নাগোয়ার বৃষ্টিতে চার দিন ঢাকা থাকা উইকেটে ফাটল ছিল। দুই দলই তাই খেলেছে বেশি স্পিনার। পাকিস্তান ১৩ ওভারে পেসার ব্যবহার করেছে মাত্র তিন ওভার। বাংলাদেশ সেখানে সাইফ হাসান কিংবা মোসাদ্দেক সৈকতের মতো স্পিনারদের কাজে লাগায়নি। বরং প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়া মুস্তাফিজকেই আবার আনা হয়েছে। কেন?- প্রশ্নটি লিটন দাসের সামনে রাখতেই উত্তরটা এল কিছুটা পাল্টা প্রশ্নের সুরে, 'আজ মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।'
সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের যুক্তিও স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক, 'আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।' কিন্তু সংখ্যাগুলো লিটনের সিদ্ধান্তকে সহজ করে দেখার সুযোগ দিচ্ছে না। মুস্তাফিজ ২ ওভারে দিয়েছেন ৪১ রান। দলের আরেক বাঁহাতি বোলার নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে খরচ করেছেন ৩৩ রান। দুই বোলার মিলে ৫ ওভারে ৭৪ রান দেওয়ায় পাকিস্তানের রান তাড়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
তারপরও মুস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক, 'মুস্তাফিজ আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। তো ক্রিকেটে আপনি কখনও একই ওয়েতে যেতে পারবেন না, আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয় তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা সুইটেবল ছিল না।' শুধু বোলিং নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও প্রশ্ন আছে। দলের অধিনায়ক নিজে করেছেন মাত্র ২ রান, ৩ বলে। তাওহিদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রান করে দলকে ১১১ পর্যন্ত নিয়ে না গেলে বাংলাদেশের লড়াইয়ের পুঁজি আরও কম হতে পারত। লিটনের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের অনুশীলন-ঘাটতির বিষয়টিও, 'আমরা অনেক দিন ধরে রুমে বসা, আবার আমরা টসে হেরে গেছি। তো আমাদের হাতে তো কোনো অপশন ছিল না, উইকেটটাও একটু ডিফিকাল্টি ফেস করার ছিল। যদি ভালো খেলতে পারতাম ভালো হতো, বাট এটা খুবই ইজি না যে আপনি এতদিন বসে থাকবেন এবং গিয়ে খুব এক্সট্রাঅর্ডিনারি ইনিংস খেলবেন।'
তবে এখানেও প্রশ্ন থেকে যায়। পাকিস্তানও একই পরিস্থিতির মধ্যেই ছিল। বৃষ্টির কারণে অনুশীলনের সুযোগ সীমিত ছিল তাদেরও। তারপরও রান তাড়ায় পাকিস্তানের ব্যাটাররা তুলনামূলক সাবলীল ছিলেন। বাংলাদেশ কোচও ম্যাচের আগেই জানিয়েছিলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য দল প্রস্তুত। ইয়াসির আলী রাব্বিও অনুশীলনের ঘাটতিকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখাননি।
সব মিলিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণস্বপ্ন থেমে গেল সেমিফাইনালেই। ২০১০ সালে স্বর্ণ, ২০১৪ সালে রৌপ্য এবং ২০২৩ সালে ব্রোঞ্জ জেতা বাংলাদেশ এবার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে এসেছিল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে পেয়ে ফাইনালের প্রত্যাশাটাও ছিল। সেই জায়গা থেকে এখন লড়াই করতে হবে ব্রোঞ্জের জন্য।
দেশ ছাড়ার সময় যে লক্ষ্য ছিল ফাইনাল, সেটি পূরণ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন লিটনও, 'স্বাভাবিক বিষয়, যখন দেশ ছাড়ি বলছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। সো ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি।' স্বর্ণের স্বপ্ন শেষ! এখন প্রশ্ন শুধু একটাই- রোববার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশ কি অন্তত শেষটা ভালোভাবে করতে পারবে?
