মোহামেডানের জয়ে শুরু
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

নতুন মৌসুমের শুরুতেই পুরোনো এক হারের হিসাব মেলাল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামের কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিক ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ লিগে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে সাদাকালোরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন জাহিদ শান্ত। তবে জয়ের গল্পে সমান গুরুত্ব পেয়েছে নতুন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর দৃঢ়তা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। এক প্রান্ত থেকে মোহামেডান আক্রমণে উঠলে পাল্টা আক্রমণে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে ফকিরেরপুল। সেই লড়াইয়ের মধ্যেই ১৮ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহামেডান।
উজবেক মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক মোজাফফরভের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে নিখুঁত হেড করেন জাহিদ শান্ত। বল জালে জড়াতেই এগিয়ে যায় সাদাকালোরা। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে থাকে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ফকিরেরপুল ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। একাধিকবার মোহামেডানের রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে তারা। কিন্তু গোলের সামনে এসে বারবার আটকে গেছে স্বাগতিকদের আক্রমণ। আর সেই ব্যর্থতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন জিকো। মোহামেডানে নতুন যোগ দেওয়া এই গোলরক্ষকের জন্য ম্যাচটি ছিল সাদাকালো জার্সিতে প্রথম। অভিষেকেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রথমার্ধে ফকিরেরপুলের দুটি বিপজ্জনক আক্রমণ সামলে দলকে এগিয়ে রাখেন জিকো। দ্বিতীয়ার্ধেও তাঁর সামনে দিয়ে সমতাসূচক গোলের রাস্তা খুঁজে পায়নি স্বাগতিকরা। ফকিরেরপুলের আক্রমণে সোলাইমান সিল্লা ও সাইফ সুযোগ তৈরি করেছিলেন। আগের ম্যাচে ঢাকার ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে জেতানো সিল্লার কাছ থেকে এবারও গোলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সুযোগ এলেও শেষ স্পর্শে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচে ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করে ফকিরেরপুল।
এই হার দিয়ে চলতি লিগে ফকিরেরপুলের দ্বিতীয় ম্যাচের গল্পটাও বদলে গেল। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর এবার মোহামেডানের কাছে থামতে হলো তাদের। তাও এমন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে, যাদের গত বছরের জানুয়ারিতে হারিয়ে পেশাদার যুগে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল ফকিরেরপুল। সেই স্মৃতি এবার উল্টে দিয়ে হিসাবটা সমান করল মোহামেডান। তবে মাঠের ভেতরের লড়াই ছাপিয়ে ম্যাচের আরেকটি বিষয়ই বেশি চোখে পড়েছে-চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ। কোথাও ঘাস নেই, কোথাও মাটি উঁচু-নিচু, আবার কোথাও পৃষ্ঠ এতটাই অসমান যে বলের গতি ও দিক বদলে যাচ্ছিল। পেশাদার ফুটবলের ম্যাচ এমন মাঠে আয়োজন করা কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
