আবুধাবির গরমে পাঁচ দিনের পরীক্ষা বাংলাদেশের
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবুধাবিতে বাংলাদেশের সামনে প্রতিপক্ষ শুধু আফগানিস্তান নয়, মরুর গরমও! ৯ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে পাঁচ দিন ধরে দিনের আলোয় ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে। ব্যাটিং-বোলিংয়ের পাশাপাশি তাই শরীরকে গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাও হয়ে উঠেছে প্রস্তুতির বড় অংশ। বিশেষ করে পেসারদের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন। দীর্ঘ সময় দৌড়ানো, বোলিং করা এবং মাঠে থাকার কারণে প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় উপাদান বেরিয়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে ডিহাইড্রেশন কিংবা পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা। সেই ঝুঁকি এড়াতে ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই নিজের শরীরকে প্রস্তুত করছেন এবাদত হোসেন।
বিসিবির প্রকাশিত ভিডিওতে আবুধাবির কন্ডিশন নিয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে এই পেসার বলেন, 'এখানে অনেক গরম। তাই ম্যাচের দুই দিন আগে থেকেই আমার প্রস্তুতি শুরু হয়। হাইড্রেটেড থাকার চেষ্টা করি, প্রচুর পানি ও তরল পান করি। নারকেলের পানি ও ফলও খাই। এই গরমে অনেক ঘাম হয়। ম্যাচের দিন যদি শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, তাহলে ক্র্যাম্প হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমার শরীরেও অনেক ক্র্যাম্প হয়।'
দুবাইয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এরই মধ্যে মরুর গরমের স্বাদ পেয়েছেন। প্রায় ৪৫ ডিগ্রি অনুভূত তাপমাত্রায় অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁদের। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচ আর টেস্টের চ্যালেঞ্জ এক নয়। পাঁচ দিনের টেস্টে দিনের দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হবে। পেসারদের জন্য তাই শরীরের শক্তি ধরে রাখার লড়াইটাও গুরুত্বপূর্ণ।
এবাদতের উপলব্ধিটা সেখানেই। তাঁর মতে, গরমের মধ্যে দীর্ঘ স্পেল করা সহজ হবে না। তাই ম্যাচের দিন শুধু মাঠে নেমে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেয়ে আগেই শরীরকে প্রস্তুত করে নেওয়াই কার্যকর। তিনি বলেন, 'এই গরমে আপনি অনেকক্ষণ বোলিং করতে পারবেন না। আসলে বিষয়টা হলো প্রস্তুতি এবং কীভাবে আমি নিজেকে এই গরমের জন্য প্রস্তুত করছি। তাই টেস্ট ম্যাচ হলে, বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে, আমার ম্যাচ প্রস্তুতি দুই দিন আগেই শুরু হয়ে যায়।'
বাংলাদেশ এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছে, তবে সেসব অভিজ্ঞতা মূলত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। তাও ছিল দিবারাত্রির ম্যাচ। এবার প্রথমবারের মতো আরব আমিরাতের মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাঁচ দিনের ক্রিকেটের জন্য কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এবার আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত ১ অক্টোবর দুবাইয়ে পৌঁছে বাংলাদেশ। আইসিসি একাডেমি মাঠে অনুশীলনের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ম্যাচটি ড্র হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ২৩৪ রানে। সৌম্য সরকার ৫৭, সাদমান ইসলাম ৪৬, নাঈম হাসান ৩৬ ও মুমিনুল হক ৩৩ রান করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম করেন ৪৪, সাদমান ৩২। বল হাতে অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে ভালোই পরীক্ষা হয়েছে বাংলাদেশের। স্বাগতিকদের ২২২ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ইকবাল হোসেন চার উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তাইজুল ইসলাম নেন তিনটি। এবাদত ৯ ওভার বোলিং করে ৩৮ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।
তবে আবুধাবির টেস্টের আগে প্রস্তুতির বড় অংশ হয়ে উঠেছে শরীরে পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা। এবাদতের কাছে নাশতার টেবিলও এখন প্রস্তুতির জায়গা। পানি, ডাবের পানি, তরমুজ ও অন্যান্য ফল তার রুটিনের অংশ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে শরীরকে সতেজ রাখার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করে এবাদত বলেন, 'রুমে যতক্ষণ থাকব, ততক্ষণ প্রচুর পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল পান করব। বিশেষ করে নাশতার সময় বেশি করে ফল খাওয়া, ডাবের পানি-তরমুজ এগুলো বেশি করে খাওয়া, পানি বেশি করে খাওয়া। এগুলোই আমার কাছে মনে হয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।'
শুধু জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যারা এমন কন্ডিশনে খেলবেন, তাদেরও আগেভাগে আবহাওয়া সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবাদত। তার মতে, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং গরমের তীব্রতা সম্পর্কে আগে জানা থাকলে প্রস্তুতিটাও সেই অনুযায়ী নেওয়া সম্ভব।
এবাদত বলেন, 'যারা এখানে আসবে, আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল কিংবা কখনও ইমার্জিং দল-তাদের জন্য আগে থেকেই এখানকার আবহাওয়া সম্পর্কে জানা ভালো। শুনেছি জুন-জুলাইয়ে তাপমাত্রা ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। আমাদের দেশ থেকে যারা আসে, তাদের জন্য এটা অনেক বেশি। তাই এখানকার কন্ডিশন, আর্দ্রতা এবং কতটা গরম-এসব আগে থেকে জানা দরকার।'
এমনকি মাঠের সঙ্গে শরীরের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেন এই পেসার। অনুশীলনের প্রথম দিনে জুতা ছাড়া মাঠে হাঁটার কথা জানিয়েছেন তিনি, 'আর্দ্রতা কেমন, গরম কেমন, এগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আসার পর আমি যেটা করি, প্রথম যেদিন অনুশীলন করি, তখন খালি পায়ে প্রায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটি।' এর পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এবাদত, 'মাঠের সঙ্গে যেন একটা সংযোগ তৈরি হয়। এতে মাটির সঙ্গে মানুষের শরীরের যে সংযোগ, সেটা খুব ভালো হয়। শরীর এই আবহাওয়ার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। এখানে এসে জুতা ছাড়া খালি পায়ে আধা ঘণ্টা-এক ঘণ্টা মাঠে হাঁটলে শরীর এই আবহাওয়া, এই গরমের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।'
