বিশ্বসেরাদের সামনে নতুন বাংলাদেশের পরীক্ষা
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে এখন পরিবর্তনের সময়। অধিনায়কত্বে বদলের আভাস, কোচিং স্টাফে পরিবর্তন-সব মিলিয়ে নতুন একটা অধ্যায়ে পা দিয়েছে দল। সেই নতুন অধ্যায়ের প্রথম বড় পরীক্ষাই আবার ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন মঞ্চগুলোর একটিতে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, তাদের মাটিতে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, আর সিরিজটি আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ! আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। ব্রিসবেনে তিন ম্যাচের সিরিজ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন এক অভিজ্ঞতার দরজা খুলবে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে। দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সিরিজেই হেড কোচ ডেভিড হেম্পের সামনে এমন প্রতিপক্ষ, যাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড খুব একটা স্বস্তির নয়। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিবারই হারতে হয়েছে। টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেই কোনো জয়।
তার ওপর অস্ট্রেলিয়া শুধু শক্তিশালী দলই নয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি-দুই সংস্করণেই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। ফলে পরিসংখ্যানের পাল্লা যে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারী, সেটি নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই! কিন্তু হেম্পের ভাবনাটা যেন সেখানেই আলাদা।
ফলাফল কিংবা প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনায় না গিয়ে তিনি বরং দলের মানসিক প্রস্তুতিকেই সামনে রাখছেন, 'আমরা যে বিশ্বের সেরা নারী দলের বিপক্ষে খেলছি, সেটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সংস্করণেই তারা এক নম্বর দল। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিষয়টা মানসিকভাবে গ্রহণ করা। তারা খুব ভালো দল, দারুণ কিছু খেলোয়াড়ও আছে। তবে দলের কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা মূলত ম্যাচের মধ্যে ইতিবাচক থাকা।'
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনও বাংলাদেশের জন্য নতুন। গতি ও বাউন্সে অভ্যস্ত হওয়ার পরীক্ষায় এরই মধ্যে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি অনুশীলনেও পেয়েছেন ভিন্ন ধরনের উইকেট। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে হেম্প সন্তুষ্ট, 'আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি, পাশাপাশি যে উইকেটগুলোয় অনুশীলন করেছি, সেগুলোও খুব ভালো ছিল। খেলোয়াড়দের জন্য এটাও কিছুটা চ্যালেঞ্জের ছিল; কারণ, উইকেটগুলোয় তারা যে ধরনের কন্ডিশনে অভ্যস্ত, তার চেয়ে একটু বেশি গতি ও বাউন্স ছিল।' অপরিচিত পরিবেশে বাংলাদেশের মেয়েরা কতটা দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পেরেছেন, সেটিও তুলে ধরেছেন হেম্প, 'তারা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং এই কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে ও খাপ খাওয়াতে সত্যিই চেষ্টা করেছে। এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়া যায়! কারণ, কন্ডিশনটা তাদের জন্য অপরিচিত ও নতুন। তবে যেমনটা বললাম, এখন পর্যন্ত গত চার-পাঁচ দিনের প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে।' তবে হেম্পের কাছে এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো ফলাফলের চেয়েও অন্য কিছু। তিনি চান, অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে যেন কোনো ক্রিকেটারকে বলতে না হয়-আরেকটু অন্যভাবে খেললে হয়তো ম্যাচটা বদলে যেতে পারত।
সেই জায়গাতেই তার সবচেয়ে জোরালো বার্তা, 'আমরা চাই না মেয়েরা এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে বলবে, 'ইশ্, আমরা যদি এভাবে খেলতাম। ইশ্, ওভাবে খেলতাম!' আমরা যেভাবে সবকিছু করি, তাতে ইতিবাচক থাকতে হবে। শুধু ম্যাচ কীভাবে খেলছি তা নয়, ম্যাচের দিকে কীভাবে মনোযোগ দিচ্ছি এবং কীভাবে ভাবছি-সবকিছুর ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবেই সামনে এগোতে পারব।'
নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে, ডেভিড হেম্পের নতুন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার সামনে। অতীত বলছে লড়াইটা কঠিন হবে, কন্ডিশনও পরিচিত নয়। কিন্তু বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের প্রথম পরীক্ষায় হেম্প অন্তত ফলের আগে মানসিকতার জয় চান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে সেই ইতিবাচক ক্রিকেট কতটা দেখা যায়, এখন অপেক্ষা সেটিরই!
