আবুধাবিতে বাংলাদেশের হতাশার এক দিন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

আশা জাগিয়েও দিনটা নিজেদের করে নিতে পারল না বাংলাদেশ! দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল সফরকারীরা, কিন্তু শেষ বিকালে সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল। একের পর এক বল পেরিয়েছে, উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আফগানিস্তানকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছেন দুজন। আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান আফগানদের, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে পিছিয়ে ১৩৫ রানে। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রহমত, আর নতুন দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

আজ দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র দুটি উইকেট। সেখান থেকে ৮.৩ ওভার ব্যাট করে আরও ২৯ রান যোগ করে অলআউট হয় দলটি। এরপর আফগানিস্তানের ইনিংসে উইকেট পাওয়ার অপেক্ষায় কাটে বাংলাদেশের বড় একটি অংশ। শুরুতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলেও দিনের শেষ ভাগে আবারও উইকেটের জন্য দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকতে হয়েছে বোলারদের। আফগানিস্তানের দুই ওপেনার ইব্রাহিম আতাল ও আবদুল মালিক দলকে ভালো শুরু এনে দেন। মালিকের ব্যাট থেকে আসে ৬২ রান। চা বিরতির আগে ২ উইকেটে ১৩১ রান তুলে নেয় আফগানিস্তান।

বিরতির পর অবশ্য ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ইবাদত হোসেন ফিরিয়ে দেন মালিককে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি। পরপর দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় আফগানরা।

কিন্তু বাংলাদেশের সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দলের হাল ধরেন অধিনায়ক রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল। সাবধানী ব্যাটিংয়ে তারা একদিকে উইকেট আগলে রেখেছেন, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে রানও তুলেছেন। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে তাদের জুটি, আর কমতে থাকে বাংলাদেশের লিড।

রহমত ছিলেন দিনের সবচেয়ে দৃঢ় ব্যাটার। ১৮৬ বল মোকাবিলা করে আটটি চার ও একটি ছক্কায় ৮৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। সেঞ্চুরি থেকে আর মাত্র ১৬ রান দূরে এই আফগান অধিনায়ক। অন্য প্রান্তে ইকরাম ৯১ বলে তিনটি চারের সাহায্যে করেছেন অপরাজিত ২৬ রান। পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি দাঁড়িয়েছে ৭২ রানে। প্রায় ১৯৫ বল ধরে তাদের এই প্রতিরোধে শেষ বিকালে আর কোনো উইকেট পায়নি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে ইবাদত হোসেন নিয়েছেন দুটি উইকেট। হাসান মাহমুদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছেন একটি করে। তবে দিনের শেষভাগে উইকেট না পাওয়ায় আফগানিস্তানের ইনিংসে আবারও গতি এসেছে। এখনও প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবধান ধরে রাখা এবং দ্রুত প্রতিপক্ষকে অলআউট করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তৃতীয় দিনের সকালে নতুন বল হাতে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। সেই বলেই রহমত-ইকরামের জুটি ভাঙতে পারলে আবারও ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে রহমত সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারলে আফগানিস্তানের লড়াই আরও শক্ত ভিত পাবে।

দ্বিতীয় দিনের শেষে তাই দুই দলের অবস্থান আলাদা হলেও লড়াই এখনও খোলা। বাংলাদেশ এগিয়ে ১৩৫ রানে, কিন্তু আফগানিস্তানের হাতে রয়েছে ছয় উইকেট। দিনের শেষ বিকালে তৈরি হওয়া প্রতিরোধ ভাঙতে পারাই এখন শান্তর দলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!