বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের কঠিন অঙ্ক
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আশার প্রদীপটা প্রায় নিভেই গিয়েছিল। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হার বাংলাদেশের ফাইনালের পথ কঠিন করে দিয়েছিল। তবে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ের ১৫৮ রানের পরাজয় নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে টাইগারদের। এখন সমীকরণ পরিষ্কার- ফাইনালে যেতে হলে আজ আফগানদের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হবে না, জিততে হবে হিসাব কষে। গত রোববার আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের সামনে ছিল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। আফগানদের দেওয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। শেষ পাঁচ উইকেট তারা হারিয়েছে মাত্র ৫.২ ওভারে, খরচ হয়েছে ৩৫ রান। বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। মাত্র ১৭ রান খরচায় নিয়েছেন চার উইকেট। ব্যাট হাতে ১১০ বলে ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন সেদিকুল্লাহ আতাল।
এই হারে জিম্বাবুয়ের নেট রান রেট দাঁড়িয়েছে -০.৫৯০-এ। অন্যদিকে বাংলাদেশের নেট রান রেট -১.৯৮০। ব্যবধানটা বেশ বড় হলেও জিম্বাবুয়ের এমন পরাজয়ে শেষ ম্যাচের আগে হিসাব-নিকাশে টিকে আছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর হিসাব অনুযায়ী, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৯৬ রান করতে পারলেই ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটা নিশ্চিত করতে পারত জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ১৩৬ রানে অলআউট হওয়ায় তাদের সুবিধাজনক অবস্থান আর থাকছে না।
এখন বাংলাদেশের সামনে একটাই লক্ষ্য- আজ আফগানিস্তানকে হারানো। তবে সেই জয় হতে হবে নির্দিষ্ট ব্যবধানে কিংবা নির্ধারিত ওভারের মধ্যে। বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করলে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে হবে। তাহলেই নেট রান রেটে জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে টসের পর বাংলাদেশকে আগে বোলিং করতে হলে সমীকরণ বদলে যাবে। আফগানিস্তান আগে ব্যাট করে ২৫০ রানের লক্ষ্য দিলে তা ৪১.৩ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে হবে বাংলাদেশকে। অর্থাৎ লক্ষ্য যত বড় হবে, জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমাও ততটা হিসাব করে নির্ধারিত হবে। ২০০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪০.২ ওভার, ২২০ রানের লক্ষ্য হলে ৪০.৫ ওভার এবং ২৪০ রানের লক্ষ্য পেলে ৪১.১ ওভারের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে। ২৬০, ২৭০ ও ২৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হবে যথাক্রমে ৪১.৪, ৪১.৫ ও ৪২ ওভারের মধ্যে। আর ৩০০ রানের লক্ষ্য পেলে জিততে হবে ৪২.২ ওভারের মধ্যে। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য কাজটা মোটেও সহজ নয়। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল লিটন দাসের দল। ৯৯ রানের সেই পরাজয়েই নেট রান রেটে বড় ধাক্কা লাগে। এখন সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং- দুই বিভাগেই প্রায় নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে হবে বাংলাদেশকে।
তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় লিগ পর্বে প্রতিটি দল একবার করে মুখোমুখি হচ্ছে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে আগামী শুক্রবারের ফাইনালে। জিম্বাবুয়ের বড় হার বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার জানালা খুলে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই জানালা দিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসাধারণ এক জয় উপহার দিতে হবে টাইগারদের!
