সাদা পোশাকে ফিরলেন লিটন-তাসকিন

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ সামনে রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। চোটের শঙ্কা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস। বিশ্রাম শেষে পেস আক্রমণেও ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ। তবে স্বস্তির এই খবরের আড়ালেই বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকছেন নাহিদ রানা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে নতুন করে নিতম্বের ব্যথায় ভুগতে থাকায় মিরপুর টেস্টেও খেলা হচ্ছে না এই গতিময় পেসারের। গতকাল শুক্রবার ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে বড় পরিবর্তন এসেছে মূলত পেস বিভাগে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে বিশ্রামে থাকা তাসকিন ফিরেছেন খালেদ আহমেদের জায়গায়। বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তবে নাহিদের অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণের দায়িত্ব সামলাতে হবে তাসকিন, হাসান মাহমুদ, শরীফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেনকে। লিটনের প্রত্যাবর্তন অবশ্য বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির খবর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট ও গ্লাভস হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ১০২ রানের অসাধারণ ইনিংস। উইকেটের পেছনে দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছিলেন নয়টি ডিসমিসাল। এক টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটের পেছনে নয়টি ডিসমিসালের বিরল কীর্তিও গড়েন এই উইকেটকিপার।

এরপর হিপ জয়েন্টের চোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারেননি লিটন। তার অনুপস্থিতিতে টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। এবার চোট কাটিয়ে টেস্ট দলে ফেরায় ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়েও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে পারবে দল। তাসকিনের ফেরাও পেস আক্রমণে যোগ করছে বাড়তি অভিজ্ঞতা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বিশ্রামে থাকলেও ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন তিনি। চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলা এই পেসারের ঝুলিতে রয়েছে ৫৯টি টেস্ট উইকেট। নাহিদ রানা না থাকায় নতুন বলের আক্রমণ সাজাতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নাহিদকে ঘিরে অবশ্য অনিশ্চয়তা কাটছে না। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়েন তিনি। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টেও খেলতে পারেননি। পুনর্বাসনের মধ্যেই নতুন করে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। ফলে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে তার গতির ঝলক দেখার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

ব্যাটিং বিভাগে বড় কোনো রদবদল আনেননি নির্বাচকেরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ না পাওয়া তাওহিদ হৃদয় দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসা এই ব্যাটারের জন্য এটি নিজেকে প্রমাণের আরেকটি সুযোগ। দলে আছেন জাকের আলীও। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক ও সাদমান ইসলামদের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ানোর দায়িত্ব থাকবে তাদের ওপর।

স্পিন বিভাগেও থাকছে পরিচিত মুখের সমাহার। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন অফ স্পিনার নাঈম হাসান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলের সঙ্গে আবুধাবি সফরে গিয়ে প্রস্তুতি ও অনুশীলন ম্যাচে অংশ নেওয়া নাঈম এবার মূল স্কোয়াডেও জায়গা ধরে রেখেছেন। জ্বরের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারলেও পরে মাঠে ফিরেছিলেন মিরাজ। তাকেও রাখা হয়েছে দলে।

অন্যদিকে সৌম্য সরকার ও খালেদ আহমেদের জন্য এবারের দল ঘোষণা হতাশার খবর হয়ে এসেছে। দুজনই সর্বশেষ টেস্টে খেলার সুযোগ না পেয়েই দল থেকে বাদ পড়েছেন। প্রায় পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে টেস্ট দলে ফিরেছিলেন সৌম্য। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও স্কোয়াডে থাকলেও একাদশে জায়গা হয়নি তার। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর আর টেস্ট খেলা হয়নি এই বাঁহাতি ব্যাটারের। খালেদও সর্বশেষ দেশের হয়ে টেস্ট খেলেছেন গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামনে এখন মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট। আগামী ২৮ অক্টোবর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি। এরপর ৫ নভেম্বর সিলেটে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ।

মিরপুরের উইকেট কেমন হবে, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। পেসারদের জন্য সহায়ক হবে, নাকি স্পিনারদের জন্য বাড়তি সুবিধা থাকবে-সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেট প্রেমীদের। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই মাঠে স্পোর্টিং উইকেটে পাঁচ দিন ধরে লড়াই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটের সুবাদে ১০৪ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম।