সাফে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ডুলি
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মাঠে গড়াচ্ছে ৫ নভেম্বর থেকে। ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতি। প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলাররা দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুর কাছে রিপোর্ট করেছেন। এরপর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। সাফের প্রস্তুতি, গোলদাতার সংকট, হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি, দল নির্বাচন ও খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজনের গুঞ্জন-সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন তিনি। প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছেন না ডুলি। বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলারদের ক্লাব থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার সময়সীমার কারণে হামজা চৌধুরীসহ কয়েকজন পরে ক্যাম্পে যোগ দেবেন। ফলে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হামজাকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাফে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী কোচ।
দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতি হিসেবে একজন কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাবকেই সামনে এনেছেন ডুলি। তার মতে, প্রথাগত ৯ নম্বরের কাজ শুধু আক্রমণে থাকা নয়; প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের সঙ্গে শারীরিক লড়াই করে গোলের সুযোগ তৈরি করা এবং পেনাল্টি বক্সে সবার আগে বলের নাগাল পাওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলে মাহিন খান ও রুমনান সুদীপনকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাখ্যায় কোচ বলেন, তাদের দিয়ে এই পজিশনের ঘাটতি পূরণের সম্ভাবনা যাচাই করতে চান তিনি। ডুলির ভাষায়, 'আমরা এমন একজন ৯ নম্বর খেলোয়াড় চাই, যে আমাদের হয়ে সত্যিকার অর্থে গোল করতে পারবে।' তার মতে, কার্যকর গোলদাতা ছাড়া সাফে সফল হওয়া কঠিন।
হামজা চৌধুরীর প্রথম ম্যাচে না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডুলি বলেন, 'ফিফার নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিরতির বাইরে ক্লাবগুলো খেলোয়াড় ছেড়ে দিতে বাধ্য নয়। তাই বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলারদের সবাইকে শুরু থেকে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দিলে পরের ম্যাচগুলোতে তাদের পাওয়ার আশা করছেন কোচ।' দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডুলি স্পষ্ট করেছেন, তার কাছে অনুশীলন ও ম্যাচের পারফরম্যান্সই প্রধান বিবেচ্য। শাকিল আহাদ তপুকে দলে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পেলে অন্যদের সুযোগ দিতে হয়। গোলরক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অনুশীলন, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নির্ভরযোগ্যতা বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দলের শৃঙ্খলা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এবং স্থানীয় ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভাজনের গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছেন ডুলি। তার মতে, খেলোয়াড়দের কিছু স্বাধীনতা দেওয়া মানেই শৃঙ্খলার অভাব নয়। বরং মাঠে ও অনুশীলনে তাদের সর্বোচ্চ পরিশ্রম প্রত্যাশা করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভাজনের খবরকে ভিত্তিহীন গুজব বলেও মন্তব্য করেন কোচ। সাফের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ডুলির বিশ্বাস, খেলোয়াড়েরা চাপমুক্ত থেকে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। তবে চোটের কারণে খেলোয়াড় পরিবর্তনের সীমিত সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে তার। সব মিলিয়ে, কার্যকর গোলদাতা খুঁজে পাওয়া, খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এবং মাঠে সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ-এই তিন বিষয়কেই সাফে বাংলাদেশের সাফল্যের চাবিকাঠি মনে করছেন প্রধান কোচ।
