সাদমানের দাপটে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটি রান, অথচ সেই রানটিই আর নেওয়া হলো না! মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে সাদমান ইসলামের আক্ষেপটা ঠিক এমনই। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু বারবার বাগড়া দিয়েছে আলোকস্বল্পতা। শেষ পর্যন্ত ৯৯ রানে অপরাজিত থেকেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে তাকে। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলক অধরা থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দিনটা ভালোভাবেই শেষ করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩ রান। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

শুরুতে উইকেট হারালেও সাদমানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছে স্বাগতিকরা। দিনের শুরুতেই দুঃসংবাদ পায় বাংলাদেশ। অনুশীলনে পাওয়া আঙুলের চোটের কারণে একাদশ থেকে ছিটকে যান মুশফিকুর রহিম। তার পরিবর্তে দলে জায়গা পান তাওহিদ হৃদয়। মুশফিকের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং লাইনআপে যে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে, সেটি যেন শুরু থেকেই বুঝে নিয়েছিলেন সাদমান।

তবে নতুন বলের সামনে শুরুটা সহজ ছিল না। জেডন সিলস ও শামার জোসেফের গতি এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পরীক্ষার মুখে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ইনিংসের সপ্তম ওভারেই সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর মুমিনুল হককে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সাদমান। দ্বিতীয় উইকেটে আসে ৫৯ রান। কিন্তু ২৮ রান করে ওয়ারিকানের বলে আউট হন মুমিনুল।

অন্য প্রান্তে সাদমানের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক শান্ত। প্রথম সেশনে আর কোনো বিপদ হতে দেননি তারা। বিরতির পর নিজের দশম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন সাদমান। কিন্তু শান্তর ইনিংস থামে ১৯ রানে। ওয়ারিকানের বলে বাজে শটে উইকেট হারিয়ে দলকে আবার চাপে ফেলেন তিনি।

এরপর তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাদমান। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে ম্যাচের চিত্র। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৮৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ১৭৭ রানে। মুশফিকের বিকল্প হিসেবে খেলতে নেমে হৃদয়ও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছিলেন। ৮৪ বলে ৪২ রান করে ফিফটির দিকেই এগোচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু ভালো সময়ের মাঝেই আসে আরেকটি ধাক্কা। চা বিরতির পর রস্টন চেইসের বলে শট খেলে রান নিতে গিয়ে বাঁ পায়ের পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন হৃদয়। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কিন্তু উঠে দাঁড়াতে না পারায় শেষ পর্যন্ত স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে ড্রেসিংরুমে নেওয়া হয় আইসবাথ দেওয়ার জন্য। মুশফিকের পর হৃদয়ের চোট বাংলাদেশের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। তবু সাদমান থামেননি। নতুন সঙ্গী লিটন দাসকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের সেঞ্চুরির দিকে। ৭০ ওভার শেষে যখন খেলা বন্ধ হয়, তখন তার রান ৯৬। প্রায় ৫৩ মিনিট অপেক্ষার পর আবার মাঠে ফেরে দুই দল। সাদমানের শতকের অপেক্ষায় তখন গ্যালারিতেও বাড়ছিল উত্তেজনা। আরও চার ওভার খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে তিন রান যোগ করে ৯৯-এ পৌঁছান সাদমান। কিন্তু প্রকৃতি আর সহায় হয়নি। আবারও আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শেষ পর্যন্ত আর মাঠে ফেরা হয়নি। ফলে সেঞ্চুরির একেবারে দুয়ারে দাঁড়িয়ে দিন শেষ করতে হয় এই ওপেনারকে। ২৮ বলে ১০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন লিটন দাস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান দুটি এবং জেডন সিলস একটি উইকেট নিয়েছেন। ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে বাংলাদেশ।

সাদমানের ব্যক্তিগত অপেক্ষার বাইরে বাংলাদেশের জন্য দিনটি ছিল ইতিবাচক। তবে মুশফিকের চোটের পর হৃদয়ের মাঠ ছাড়ার ঘটনা দলের স্বস্তিতে কিছুটা অস্বস্তি যোগ করেছে। এখন দ্বিতীয় দিনের সকালে সাদমানের শতক পূর্ণ করার পাশাপাশি হৃদয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়েও থাকবে বাংলাদেশের নজর। মিরপুরে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় গল্প তাই একদিকে সাদমানের ৯৯, অন্যদিকে চোটের কাছে হৃদয়ের থেমে যাওয়া।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৪ ওভারে ২১৩/৩ (সাদমান ৯৯*, হৃদয় ৪২ (রিটায়ার্ড হার্ট) মুমিনুল ২৮, নাজমুল ১৯; ওয়ারিক্যান ২/৩৩, সিলস ১/১৪)