ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা টেস্টে দ্বিতীয় দিনটা যেন দুই বিপরীত চিত্রের গল্প! সকালে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে স্বস্তি, এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপুটে শুরু, আর দিনের শেষ ভাগে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিনে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন। সব মিলিয়ে মিরপুরে জমে উঠেছে দুই দলের লড়াই। গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে এখনও ১৩৮ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা। হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। তবে দিনের শেষ ভাগে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ যে স্বস্তি পেয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই! দিনের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। আগের দিনের ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা দলটি আরও ৫৯ রান যোগ করতেই হারায় শেষ সাত উইকেট। এর মধ্যেও নিজের ইনিংসকে স্মরণীয় করে রাখেন সাদমান ইসলাম। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা এই ওপেনার দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই দুই রান নিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। ২২০ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানো সাদমানের জন্য অপেক্ষাটা ছিল দীর্ঘ। তাঁর আগের টেস্ট সেঞ্চুরিটি এসেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে-১৭ ইনিংস আগে। এবার ১১টি চারে ১০৫ রান করে ইনিংসটি শেষ হয় অভিষিক্ত বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। সাদমান ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়ও। আগের দিন ৪২ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া এই ব্যাটার আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি। বিশপের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন তিনি। ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসের ৩২ রানের জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও জোমেল ওয়ারিক্যানের আর্ম বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মিরাজ। এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে কার্যত ধস নামে। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে শেষ চার উইকেট হারিয়ে ২৭২ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস। আগের দিনের ১০ রানের সঙ্গে আরও ২৪ রান যোগ করে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
ওয়ারিক্যানই ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের অন্যতম কারিগর। আগের দিন দুটি উইকেট পাওয়া এই স্পিনার দ্বিতীয় দিনে আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার। ২৭৩ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেলের অর্ধশতকে চা বিরতির আগে এক উইকেটে ৮৯ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। ক্যাম্পবেলকে দেখে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের করা সংগ্রহের ঘাটতি দ্রুতই কমিয়ে আনবে ক্যারিবীয়রা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে প্রায় এক ঘণ্টার বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বিরতির আগে যে ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, বিরতির পর সেখানে দেখা দেয় বিপর্যয়। মাত্র আট রানের ব্যবধানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম আঘাতটি হানেন মিরাজ। তার ভাসানো বলে স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ক্যাম্পবেল। ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরার পর উইন্ডিজের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে কাভেম হজকে সিলি পয়েন্টে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। একই ওভারের পঞ্চম বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন আমির জাঙ্গু। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ধস নামার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি ত্যাগনারায়ন চন্দরপল ও জাস্টিন গ্রিভস। চন্দরপল ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। অন্য প্রান্তে গ্রিভসের সংগ্রহ ১৫ রান। বাংলাদেশের জন্য দিনের শেষভাগের এই প্রত্যাবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ এখনও আসেনি। প্রথম ইনিংসে আরও বেশি রান তুলতে না পারার আক্ষেপ যেমন আছে, তেমনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার উইকেট তুলে নেওয়ার স্বস্তিও রয়েছে। তৃতীয় দিনে চন্দরপল ও গ্রিভসের জুটি কতটা দীর্ঘ হয়, সেটিই হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণের অন্যতম বিষয়।
এদিকে মিরপুরে প্রথম দুই দিনেই দেখা গেছে আলোকস্বল্পতার একই সমস্যা। প্রথম দিনের শেষ বিকালে আলো কমে যাওয়ায় খেলা বন্ধ হয়েছিল, যখন সাদমান ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে আলো কমে যাওয়ায় খেলা বন্ধ করতে হয়। ফলে দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশের পাওয়া তিন উইকেটের পর আর চাপ বাড়ানোর সুযোগ মেলেনি। সাদমানের সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস, ক্যারিবীয়দের শক্তিশালী শুরু এবং শেষ সেশনে স্বাগতিকদের ঘুরে দাঁড়ানো-দ্বিতীয় দিনের গল্পে ছিল নানা বাঁক। ১৩৮ রানের ব্যবধান নিয়ে তৃতীয় দিনে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে পাওয়া লিডকে আরও বড় করা!
