সাফের উচ্চমূল্য টিকিটে সাড়া নেই দর্শকদের

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

দেশের মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা মাঠে বসে দেখার আগ্রহ থাকলেও টিকিটের উচ্চটমূল্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ দর্শকদের জন্য। গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন দুটি ম্যাচের জন্য ডে পাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা। ফলে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সীমিত আয়ের ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার পরিবর্তে টেলিভিশন কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ম্যাচ উপভোগের কথা ভাবছেন। আগামী ৫ নভেম্বর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী দিনে রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ-ভুটান এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। একেকটি ম্যাচের টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা হলেও একই দিনে দুটি ম্যাচ দেখতে হলে এক হাজার টাকা দিয়ে ডে পাস কিনতে হচ্ছে দর্শকদের। টিকিট বিক্রি শুরুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ৯টার দিকে টিকিফাই ওয়েবসাইটে দেখা যায়, উদ্বোধনী দিনের জন্য প্রায় ১১ হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়েছে। প্রায় ২২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার জাতীয় স্টেডিয়ামে তখনো অর্ধেকের মতো আসন ফাঁকা। বিক্রি হওয়া টিকিটের মধ্যে সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি করপোরেট বুকিংও রয়েছে। এর আগে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হোম ম্যাচগুলোতে স্টেডিয়ামে দর্শকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে এবার উপমহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।

ফুটবল সমর্থক গোষ্ঠী রেড অ্যান্ড গ্রিন আর্মির রাফি ইকবাল বলেন, 'টিকিটের মূল্য দেশের মানুষের আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহও কম।' তার মতে, মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা একজন মানুষের জন্যও এক দিনের বেতনের বড় অংশ খরচ করে খেলা দেখতে যাওয়া কঠিন। টিকিটের পাশাপাশি যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ব্যয় বহন করা সহজ নয়। একসঙ্গে স্টেডিয়ামে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কতজন যেতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। টিকিটের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব সাফের হলেও স্বাগতিক বাংলাদেশের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে তা পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সমর্থকেরা। সমর্থক গোষ্ঠী ইউনিয়ন বেঙ্গলের আহামেদ শাহরিয়ার বলেন, 'ফুটবল সাধারণ মানুষের খেলা হলেও এবার টিকিটের মূল্য সাধারণ দর্শকদের স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।' তিনি বাফুফে ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর প্রতি টিকিটের মূল্য পুনর্বিবেচনার জন্য সাফের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, গ্যালারি ফাঁকা থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তবে টিকিট বিক্রির গতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন সাফের বিপণন সহযোগী প্রতিষ্ঠান টিএসএ স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী সজিব রশিদ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'টিকিট বিক্রির হার নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে সিরিয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যার কারণে টিকিট বিক্রির গতি নিয়ে কারও কারও মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।' টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে সজিব রশিদ জানান, আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সচিবের কাছে তাঁদের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা ধরে প্রতিদিনের দুটি ম্যাচের জন্য এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।