ভারতের বিশ্বরেকর্ডে ভাগ বসালো পাকিস্তান
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। সে সঙ্গে দারুণ এক বিশ্বরেকর্ডও স্পর্শ করল তারা। ফাখর জামানের সেঞ্চুরির সুবাদে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করলেন শাহিন আফ্রিদিরা। এ জয়ে ভারতের ২৪ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেললো পাকিস্তান। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথম কোনও একদিনের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হল পাকিস্তান। এক দিনের ক্রিকেটে কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনালে রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড এতদিন ছিল ভারতের একক দখলে। ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে লর্ডসে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলির দল।
গত শনিবার লাহোরে পাকিস্তানও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একই রান সফলভাবে তাড়া করে ২৪ বছর পর বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল। একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালে রান তাড়া করে জয়ের তালিকায় তৃতীয় স্থানেও থাকল ভারতের নাম। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩১৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল ভারত। ত্রিদেশীয় একদিনের সিরিজের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তোলে। শ্রীলঙ্কাকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেয় ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসের ১২৮ বলে ১৩১ রানের ইনিংস। ১২টি চার এবং ২টি ছক্কা মারেন তিনি। অন্য ওপেনার আভিষ্কা ফার্নান্দো করেন ৪৯ বলে ৩৮ রান। তিন নম্বরে নেমে রান পাননি অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস (৮)। চার নম্বরে নেমে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান পবন রত্নায়েকে। তিনি করেন ৬৫ বলে ৭৭ রান। ৮টি চার এসেছে তার ব্যাট থেকে। শ্রীলঙ্কার আর কেউ বলার মতো রান পাননি।
পাকিস্তানের হয়ে সালমান আগা ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন। ৫০ রানে ২ উইকেট নেন আফ্রিদি। ৬০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হারিস রউফ। নাসিম শাহ ২ উইকেট নিলেও ১০ ওভারে খরচ করেন ৮০ রান। জয়ের জন্য ৩২৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ওপেনার মাজ সাদাকত (৫) এবং বাবর আজম (০) দ্রুত আউট হয়ে যান। ১৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পাক ইনিংসের হাল ধরেন অপর ওপেনার ফাখর জামান এবং চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাদ বেগ। জামানের ৯৯ বলে ১২৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ১১টি চার এবং ৬টি ছক্কা। বেগ করেন ৭৫ বলে ৭৪ রান। ১১টি চার মেরেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ১৪৯ রান যোগ করে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান তারা।
তবে সালমান (১৭) দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় আবার কিছুটা চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ৩ উইকেটে ২২০ থেকে ৫ উইকেটে ২৩০ হয়ে যায় আয়োজকেরা। যদিও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ছয় নম্বরে নামা হাসান নওয়াজ এবং সাত নম্বরে নামা আরাফত মিনহাস পাকিস্তানকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। মিনহাস ৩১ বলে ৬১ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন।
