তবু কেন স্পিনে ফেরা, পেসারদের প্রতি এখনও আস্থার অভাব?

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে খেলার জন্য ঘরের মাঠে ৪ টেস্টের সবগুলোই জিততে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচের সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হেরে গেছে টাইগাররা। হার ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে উইকেট! প্রথাগত স্পিন উইকেট থেকে সরে গিয়ে স্পোর্টিং উইকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাচ্ছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিন উইকেট বানিয়েই সর্বনাশ হয়েছে! 

মিরপুরে ২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া টেস্টে প্রায় সাড়ে ৩ দিনেই হেরে গেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রান লক্ষ্য দিয়েও লড়াই করতে পারেননি বোলাররা। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ২ উইকেট হারিয়েছে দুটোই নিয়েছেন পেসাররা। অথচ শুরুতে ম্যাচ প্রায় হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত স্পিনাররাই ছিলেন আক্রমণে।

তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান, এই স্পিন ত্রয়ী আফগানিস্তানের বিপক্ষেও খেলেছেন, মিরপুরেও খেলেছেন। দুই ম্যাচের উইকেট ছিল দুইরকম, তবে তাদের ব্যর্থতা ছিল একই। 

অথচ সাম্প্রতিক সময়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ, নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়, অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে পেসাররাই অবদান রেখেছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ সর্বশেষ যে ৬টি জয় পেয়েছে, সবগুলোতেই একাদশে ছিলেন অন্তত তিনজন পেসার। এর চারটিতেই আবার তাদের কেউ না কেউ ৫ উইকেটও পেয়েছেন। 

তবু কেন পেসারদের উপর ভরসা করা গেলো না? এমন প্রশ্ন এখন সবখানে। মিরপুর টেস্টে খেলেছেন মাত্র ২ পেসার হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। দুজনে মিলে ৪ ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ২৮ ওভার, নিয়েছেন ৪ উইকেট। 

সাম্প্রতিক সময়ে যে স্পোর্টং উইকেটে খেলা হচ্ছিল সেটাই সঠিক পথ বলে মনে করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম টেস্টের কোচ সারোয়ার ইমরান। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলছিলেন, 'টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ছিল, স্পিন-সহায়ক উইকেট হয়তো দলের জন্য কার্যকর হবে। তবে আমার মনে হয় পেস বোলিংকে সামনে রেখে যেভাবে এগোনো হচ্ছিল, স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছিল সেটাই সঠিক পথ ছিল।' 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিন উইকেট বানানো পেসারদের উপর যথেষ্ট আস্থা রাখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার বলেন, 'তেমনই মনে হচ্ছে (আস্থা থাকছে না)। আসলে আস্থার বিষয়টি মূলত নির্ভর করে টিম ম্যানেজমেন্ট, কোচ ও মেন্টররা কীভাবে বিষয়টি দেখছেন তার ওপর।' 

টেস্টের ফল দিয়ে দলকে বিচার করতে চান না সারোয়ার। তিনি বলেন, 'টেস্টে হার-জিত যাই হোক, ইতিবাচক থাকতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর নিজেদের অনেক বড় মনে করার প্রবণতা পরের ম্যাচগুলোতে কাজে আসেনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল ভালো খেলেছে, জয়ের অবস্থানেও ছিল যদিও শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি।' তিনি আরও বলেন, 'তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি টেস্ট হেরেই দলের শক্তি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নই। পরের টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। ১০টি টেস্ট খেলার পর দলের প্রকৃত শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। পাকিস্তানের মতো বড় দলও বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তাই একটি সিরিজের ফল দিয়ে দ্রুত মন্তব্য করা ঠিক নয়।'  

অবশ্য নাজমুল হোসেন শান্ত হারের পর বারবারই বলেছেন প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা দেখেই স্পিন উইকেট বানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ব্যাটাররাও স্পিনের চেয়ে পেস ভালো খেলেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। রপুরে গত পাঁচ বছরে স্পিনারদের বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন ৮০ বার, পেসারদের বলে ৭৩ বার।  মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের ১৬টিই নিয়েছেন ক্যারিবিয় স্পিনাররা। টাইগার অধিনায়ক শান্ত অবশ্য নিজেই সন্দিহান তার দলের ব্যাটাররা পেস নাকি স্পিন ভালো খেলে,  'কখনো স্পিন ভালো খেলে, কখনো আবার পেস।' 

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। এই টেস্টের উইকেটে অবশ্য ঘাস দেখা যাচ্ছে। তবে মিরপুরেও ঘাস ছিল কিন্তু নীচে ছিল স্পিন বিষ! সিলেটেও তেমন হবে কিনা সেটা সময় বলবে। তবে এই টেস্ট হারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল খেলার সবশেষ আশাও ঠিক হয়ে যাবে।