দুই লক্ষ্য নিয়ে ভুটানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

টমাস ডুলির সাথে অধিনায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে যখন এলেন তপু বর্মন, তার চোখে-মুখে চেনা হাসি নেই। তিনি কিছুটা গম্ভীর। বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আগেও দিয়েছেন, কিন্তু এবার তার কাঁধে যে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে টেনে নেওয়ার মহাভার, সে চাপ ফুটে উঠল প্রবলভাবে। তপু আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণে অবশ্য শোনালেন ভালো ফলের আশাবাদ। জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। এ ম্যাচ নিয়ে তপুর চাওয়া মূলত দুটি। প্রথমত, জয়ে শুরু। দ্বিতীয়ত, সাফল্য বুভুক্ষ সমর্থকদের সামনে নিজেদেরকে আত্মবিশ্বাসী রূপে তুলে ধরা। ২০০৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নিজেদের একমাত্র শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। অনুমিতভাবেই সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এলো, অতীত সাফল্যে ২৩ বছরের ধুলো জমার বিষয়টি। ব্যর্থতার ধুলে ঝেড়ে ফেলতে ভুটান বাধা পেরুতে হবে বাংলাদেশকে।
এই চেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলের ভীষণ তিক্ত স্মৃতিও আছে। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচে ২০১৬ সালের সেই ৩-১ গোলে হারে লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে সরে গিয়েছিল দল। বাংলাদেশের ফুটবলে আজও তা 'ভুটান ট্র্যাজেডি' নামে পরিচিত। তপু তাই প্রথম ম্যাচেই নিজেদের আকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য, প্রত্যাশার ছাপ রাখতে চান। "আমরা সবসময় অনেক গুরুত্ব দিয়ে দেখি প্রথম ম্যাচটি। আপনি যখন টুর্নামেন্ট খেলতে যাবেন, নিশ্চিতভাবে প্রথম ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
নিশ্চিতভাবে আমরা জেতার জন্য নামবো এবং একটা ভালো ফুটবল খেলা উপহার দিতে চাই সমগ্র বাংলাদেশকে। কারণ, তারা যেন (খেলা দেখে) আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী ভাবতে পারে এবং আত্মবিশ্বাসী দেখতে পারে; যেটা এই টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। "কোচ ইতোমধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, ২৩ বছর পরে আমাদের একটা ভালো সুযোগ এসেছে এবং এটাকে আমরা হারাতে চাই না আর এটা করতে গেলে শুধু খেলোয়াড়রা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ, যারা ফুটবলকে ভালোবাসে তাদের আহ্বান করবো যে আমাদেরকে সমর্থন করুন। আমরা সেটার প্রতিদান দিব।" ভুটান ম্যাচে দলের সেরা তারকা হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ক্লাবের ব্যস্ততায় এই ইংলিশ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দলে যোগ দেননি এখনও।
ভুটানের বিপক্ষে গত বছর জুনে খেলা প্রীতি ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে প্রথম গোল পান হামজা। সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানের শুরুতে ইংল্যান্ড প্রবাসী এই তারকাকে না পাওয়ার হতাশা আড়াল করলেন না তপু।
প্রিয় সতীর্থ যেন দলে যোগ দিয়ে সাফের পরের ম্যাচগুলোতে মসৃণ পথ পায়, সেই ব্যবস্থা করতে অধিনায়ক করতে চান ভুটানকে হারিয়ে। "প্রথমত বলব যে, অনেক মিস করব (হামজাকে)। আসলে তার মতো নেতৃত্বগুণ সম্পন্ন খেলোয়াড় আমাদের দলে খুব-খুবই প্রয়োজন এবং আসলে সে যেভাবে, বিশেষ করে আমাদেরকে গাইড করে, সেটা খুবই বিশেষ কিছু।
"আমরা আসলে অনেক আগেই জানি, ক্লাব সূচির জন্য সে প্রথম ম্যাচটা খেলতে পারবে না কিন্তু তার জন্য আমাদের একটা করণীয় থাকবে। সেটা হলো, পথটা যেন সহজ করতে পারি তার জন্য; ভুটানের সাথে আমরা জিততে চাই এবং সে এসে যেন একটা উৎফুল্ল মনোবল নিয়ে আমাদের সাথে থাকতে পারে এবং এরপর আমরা শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হব; এটা পরের ব্যাপার। কিন্তু আমরা জয় দিয়ে তাকে স্বাগত জানাতে চাই।" আট বছর পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে বাংলাদেশ। সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ অনুভব করতে পারছেন তপু। ৩১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার চাপের মধ্যেই খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের মেলে ধরার অনুপ্রেরণা। "অবশ্যই চাপ আছে (আমাদের উপর) এবং আমার মনে হয়, যেখানে চাপ থাকবে, সেই জায়গা থেকে আউটপুটটা ভালো আসবে।
