রেকর্ড, নাটক আর গোলবন্যা
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাত মানেই কখনো নাটক, কখনো গোলের উৎসব, আবার কখনো জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এবার যেন তিন রকম গল্পের সাক্ষী হলো দর্শকরা। কোথাও শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়াল মাদ্রিদের জয়, কোথাও আর্লিং হলান্ডের গোলেই ম্যানচেস্টার সিটির স্বস্তি, আবার কোথাও প্রতিপক্ষের জালে ৯ বার বল পাঠিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো! রাতের সবচেয়ে বিস্ময়কর গল্পটি লিখেছে কোমো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের অভিষেক মৌসুমেই যে দলটি এমন দাপট দেখাবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। ফরাসি ক্লাব লঁসের মাঠে গিয়ে স্বাগতিকদের ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সেস ফাব্রেগাসের দল। শুধু বড় জয় নয়, অ্যাওয়ে ম্যাচে ৯ গোল করে ইউরোপের এই প্রতিযোগিতায় নতুন রেকর্ডও গড়েছে তারা। এর আগে অ্যাওয়ে দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল বায়ার্ন মিউনিখের। ২০২০ সালে নিরপেক্ষ ভেন্যু লিসবনে বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে হারিয়েছিল জার্মান জায়ান্টরা। এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল কোমো। জয়ের ব্যবধানের দিক থেকেও এটি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে লিভারপুল ও রিয়াল মাদ্রিদ ৮-০ গোলে হারিয়েছিল যথাক্রমে বেসিকতাস ও মালমোকে। কোমোর এই গোল উৎসবের কেন্দ্রীয় চরিত্র তাসোস দুভিকাস। লঁসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিযোগিতার চার ম্যাচেই গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। তবে রাতের আলোচনায় শুধু গোল ছিল না, ছিল আবেগও। গোল করে সতীর্থদের সঙ্গে উদ্?যাপনে না মেতে নিকো পাজ তুলে ধরেন একটি টি-শার্ট। তাতে ছিল তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের ছবি। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মারা যাওয়া এই ফুটবলারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান পাজ। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তেনেরিফের যুব দলে খেলেছিলেন তিনি। কোমোর হয়ে গোলের তালিকায় আরও ছিলেন লুকাস দা কুনহা, মার্ক-অলিভার কেম্পফ, মাত্তিয়া লিবেরালি, মার্তিনা বাতুরিনা ও মাত্তেও পাপাচ্চিওলি। বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী পাপাচ্চিওলি। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেন কোমোর যুব দলের এই ফুটবলার। এখনো ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ-তে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের গল্পটা ছিল পরিচিত রোমাঞ্চের।
