নাকের সৌন্দর্যে রাইনোপ্লাস্টি
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ডা. মোহাম্মদ হেদায়েত আলী খান

মানব সৌন্দর্যের সবচেয়ে দৃষ্টিগোচর দিক হলো মুখ এবং মুখকে আকর্ষণীয় করে তোলে নাক। মূলত সুন্দর নাকই যে কোনো মানুষকে তার দিকে দৃষ্টি ফেরাতে আকর্ষণ করে। সাধারণত মুখের গঠন অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ সুন্দর নাক সবারই কাম্য। তাই এরকম একটি সুন্দর নাক তৈরির প্রক্রিয়াটি কী এবং কাদের দরকার, সেটা জানা জরুরি।
রাইনোপ্লাস্টি কী?
নাকের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য শল্য চিকিৎসা বা সার্জারির মাধ্যেম নাকের যে গঠনগত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়, তাকে রাইনোপ্লাস্টি বলা হয়। এটা দু’ধরনের হয়ে থাকে। প্রথমত, নাকের গাঠনিক এবং কার্যকর করার জন্য যে সার্জারি করা হয়, তা হলো জবপড়হংঃৎঁপঃরাব জযরহড়ঢ়ষধংঃু এবং অন্যটি হলো কার্যত ভালো নাকের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সার্জারি, যাকে ইংরেজিতে ঈড়ংসবঃরপ জযরহড়ঢ়ষধংঃু বলা হয়।
নাক কারও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, আবার কারও শ্রীহীন করে। সাধারণত জন্মগতত্রুটি বা জন্মগত ঠোঁটকাটা রোগী, আঘাতজনিত কারণে ক্ষতি, টিউমার, ক্যান্সার বা রোগজনিত কারণে নাকের ক্ষতি হতে পারে। আবার কারও নাকের ভেতরের হাড় বেঁকে নাকের সৌন্দর্যহানি ঘটে। সাধারণত এসব সমাস্যার সমাধান করার জন্য যে সার্জারি করা হয় তাকে জবপড়হংঃৎঁপঃরাব জযরহড়ঢ়ষধংঃু বলা হয়।
স্বাভাবিক নাক কিন্তু সৌন্দর্যপূর্ণ নয়, যেমন অতিরিক্ত খাটো বা লম্বা নাক, নাকের চৎড়লবপঃরড়হ (বেশি খাড়া বা ডেবে যাওয়া নাক), নাকের অগ্রভাগের অস্বাভাবিকতা (ঞরঢ় ফবভড়ৎসধঃরড়হ), বোচা বা চওড়া টিপ, দ্বিখ-িত টিপ, ঠোঁট ও নাকের ডগার মধ্যে কম দূরত্ব (ঈড়ষষঁসবষধ ংযড়ৎঃবহরহম) ইত্যাদি সমস্যা সমাধানগুলো কসমেটিক্স রাইনো প্লাস্টির মাধ্যমে করা হয়। নাকের ওপরের হাড় বা (উড়ৎংঁস)-এর আকৃতি যেমন উঁচু ( উড়ৎংঁস) বা (উড়ৎংঁস যঁসঢ়) বা অতিরিক্ত নিচু (উড়ৎংঁস) কপাল ও নাকের সংযোগ স্থলের অতিরিক্ত ডেবে থাকা, এমনকী নাকের ফুটো’ এর অস্বাভাবিকতা, যেমন দুই নাকের দু’ধরনের ফুটো অতিরিক্ত বড় বা ছোট ইত্যাদি সমস্যা হলে ঈড়ংসবঃরপ জযরহড়ঢ়ষধংঃু-এর মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
কোন বয়সে কসমেটিক্স সার্জারি করা হয়, এটি একটা সাধারণ জিজ্ঞাসা। সাধারণত মেয়েদের ১৫ বছর এবং ছেলেদের বেলায় ১৮ বছর বয়সের পরে এ সার্জারি করা যায়। সাধারণত হাড়ের বৃদ্ধি (ইড়হু এৎড়ঃিয) হওয়ার পরে এ সার্জারি করা যায়, যেটা স্থায়ী হয়। রাইনোপ্লাস্টির আগে ওই ব্যক্তির পরিপূর্ণ মেডিকেল হিস্ট্রি (ডিটেইল’স ক্লিনিকেল হিস্ট্রি) ও পরীক্ষা করা হয়। যেমন রক্তপাত, পরিবারের কারও মধ্যে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঘটনা, হাইপারটেনশন, হার্টের সমস্যা ও এলার্জিজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
অপারেশনের আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফটোগ্রাফি অর্থাৎ ছবি তুলে রাখা। ছবি বিশ্লেষণ করে নির্ণয় করা যায় যে, উনি কী ধরনের পরিবর্তন চান তার সম্ভাব্যতা ঝবঃ করা।
অপারেশন পদ্ধতি
রাইনোপ্লাস্টি করার দু’টো পদ্ধতি আছে একটি হলো ওপেন রাইনোপ্লাস্টি, এখানে নাকের বাইরের অংশে কলুমেলুয়ার কাটা পড়বে এবং নাকের ভেতরের অংশ কাটা পড়বে। আরেকটি হলো ক্লোজড রাইনোপ্লাস্টি এক্ষেত্রে কলোমেলা কাটা পড়বে না। আবার কলুমেলা কাটা পড়লেও দাগ খুব বোঝা যায় না। এ পর্যায়ে বলা দরকার যে, এই অপারেশন কোনো ঝুঁকি আছে কি-না; সাধারণত সব কাটাছেড়া পদ্ধতিতেই কিছু ঝুঁকি থাকে, কিছু আছে, যেমন রক্তগাত হওয়া ইনফেকশন, সম্ভাব্য পরিবর্তন আশানুরূপ না হওয়া।
সবশেষে, যিনি রাইনোপ্লাস্টি করতে চান, তাকে তার সমস্যা নির্ধারণ করতে হবে এবং তার মুখম-লের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য পুনর্গঠন তার আশানুরূপ হলেই তিনি এই পদ্ধতি গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন। অনেকেই এ রকম অপারেশন করতে অপারগতা প্রকাশ করেন, অথচ ভেতরে ভেতরে ব্যক্তিও সামাজিক জীবনে তিনি শুধু নাকের সমস্যার কারণে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। অথচ তিনি নিজে নিজে বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে কষ্টে থাকেন। তাই লজ্জা বা ভয় নয়, এরকম একটা সার্জারি অবশ্যই আপনার জীবন বদলে দিতে পারে।
ডা. মোহাম্মদ হেদায়েত আলী খান
সহযোগী অধ্যাপক (বার্ন, প্লাস্টিক ও কসমেটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ)
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট
চেম্বার : গ্রীন লাইফ হসপিটাল লিঃ, তৃতীয় তলা, গ্রীন রোড, ঢাকা
মোবা : ০১৬১১-৩৮৩৪০৭
