বাংলাদেশের নারী ফুটবলের সাফল্য ও সমস্যা

রুমেল খান

প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘শোনো নারী/তুমি চাইলেই পারো সব/চোখ বুজে কেন?/কেন রবে মুখ চেপে আঁচলে/তোমরাই তো জলতরঙ্গে সুর-তাল-লয় এনেছো’ ... যেখানে পুরুষরা ব্যর্থ, সেখানে নারীরা সফল। ফুটবলের কথা বলছি। চর্মগোলকের এই খেলাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে যেখানে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে, আসছে না কোন সাফল্য, সেখানে নারী ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্য সত্যিই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। গত আট বছরে আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় আটটি শিরোপা জিতেছে তারা। প্রতিটি আসরেই দলের কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। 

বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা ফুটবলের সময়সীমার ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সেই ইংরেজ আমল, পাকিস্তান আমল বর্তমানে বাংলাদেশ আমল- চর্চার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে পুরুষ ফুটবলই। সে তুলনায় মহিলা ফুটবলের চর্চার ইতিহাস দুই যুগের সামান্য কম। অথচ মহিলা ফুটবলের উন্নতির ধাপই সবচেয়ে উঁচুতে। মাত্র কয়েক বছর আগেও এদেশের মহিলা ফুটবল নিয়ে হাসাহাসি হতো বিস্তর। অথচ আজ তাদের নিয়ে সুনীল স্বপ্ন দেখে এদেশের ফুটবলমোদীরা।

বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের সূচনালগ্ন ২০০২ সালে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মহিলা ফুটবল দল বাংলাদেশ সফরে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে আসে বিরাট বড় দল (৪০ ফুটবলার) নিয়ে, ২০০১-০২ সালে। মিরপুর আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ০-১ গোলে। সেটাই ছিল বাংলাদেশ দলের যেকোনো পর্যায়ের প্রথম কোনো ম্যাচ। এছাড়া দেশে বাংলাদেশের প্রথম অফিসিয়াল লোকাল ম্যাচ ছিল বাংলাদেশ আনসার বনাম ঢাকা একাদশ। ম্যাচটি হয় কমলাপুর স্টেডিয়ামে, ২০০৪ সালে। মৌলবাদীর হুমকির কারণে চারদিকে কড়া পুলিশ প্রহরার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষ আনসারকে ১-০ গোলে হারায় ঢাকা একাদশ। ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে ইন্দো-বাংলা গেমসে বাংলাদেশ দল তাদের প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে। বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশ দল প্রথম ম্যাচ খেলে ২০০৫ সালে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ গোলশূন্য ড্র করে।

মৌলবাদীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যাত্রা শুরু হয়েছিল মহিলা ফুটবলের। আগে সাতক্ষীরা, যশোর, রাঙামাটি ছাড়া আর কোনো জেলা থেকে মেয়েরা খেলতে আসত না। আর এখন কমপক্ষে ৩০ জেলা থেকে মেয়েরা আসে খেলতে। এ থেকেই বোঝা যায়, দেশে মহিলা ফুটবলের বিস্তার ঘটছে বেশ ভালোভাবেই। সমৃদ্ধ হচ্ছে পাইপলাইন।

আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছে বাংলাদেশ হারতো ৬-৭ গোলে। এদেশের মহিলা ফুটবল ছিল আঁতুড়ঘরে। ফুটবলারদের খেলা দেখে সবাই হাসাহাসি করত। আর এখন? মুগ্ধ হয়ে দেখে, তালি বাজায় এবং তাদের সমর্থনে গলা ফাটায়! এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা। খেলোয়াড়রা বেসিক ফুটবল শিখেই আসে খেলতে। মহিলা ফুটবল উন্নতির সোপান বেয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছে তরতর করে। এবং সেটা খুব দ্রুতই, যা বিস্ময়কর ব্যাপার।

আর এটা সম্ভব হয়েছে মূলত দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলতুন নেছা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের বদৌলতে (এছাড়া জেএফএ অ-১৪ কাপ এবং প্ল্যান অ-১৫ বালিকা ফুটবল কার্যক্রমের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য। তবে বঙ্গমাতা ফুটবল আসরের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি)। বাংলাদেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১১ সাল থেকে শুরু হয় বহুল আলোচিত এই টুর্নামেন্টটি। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এর আগেই অবশ্য ২০১০ সাল থেকে শুরু হয় বালক পর্যায়ের টুর্নামেন্ট, যার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। সংখ্যার দিক থেকে বিবেচনা করলে এ টুর্নামেন্ট দুটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। এ বিষয়টি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই করে নেওয়ার মতো।

আজকের বাংলাদেশ মহিলা দলের ফুটবলাররা ‘বাংলার বাঘিনী’ হিসেবে উপাধি পেয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে। দলের একেকটি খেলোয়াড় আজ যেন তারকা। পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এদের বেশিরভাগই উঠে এসেছে বঙ্গমাতা ফুটবল খেলে! তালিকায় আছে মারিয়া, তহুরা, মনিকা, আঁখি, সানজিদা, মারজিয়া, মৌসুমী, শামসুন্নাহার, মাহমুদাসহ আরও অনেকেই। এদের মতো স্কিলফুল এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন ফুটবলারদের বাফুফে জাতীয় দলে বেছে নিতে পেরেছে এই বঙ্গমাতা ফুটবল আসর থেকেই। ফলে এই আসরের গুরুত্ব এবং অবদান অনস্বীকার্য ভালো ফুটবলার তৈরিতে।

আজ দেশে-বিদেশে নজরকাড়া সাফল্য পাওয়াতে সমগ্র ফুটবলবিশ্বেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মহিলা ফুটবলাররা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই কয়েকবার মেয়েদের গণভবনে ডেকে সংবর্ধনা, আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পুরস্কার দিয়েছেন। এতে করে উঠতি প্রজন্মের মেয়েরাও ফুটবল খেলতে উৎসাহিত হচ্ছে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা ফুটবলার হিসেবে বিদেশি কোনো ক্লাবের (মালদ্বীপে গিয়ে তিন দফায় খেলে মোট ৫৯ গোল করেন) হয়ে খেলা প্রথম খেলোয়াড়ে পরিণত হন বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন। সেই সঙ্গে গড়েন ইতিহাস।

এর পর সাবিনার সাফল্যের মুকুটে যোগ হয় আরেকটি পালক। এবার তিনি খেলেন ভারতের সেথু ফুটবল ক্লাবে (ইন্ডিয়ান উইমেন্স লীগে, করেন ৬ গোল, যা নিজ দলের পক্ষে সর্বাধিক)। সাবিনা একা নন, সেখানে তিনি সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছিলেন জাতীয় দলের আরেক ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানি সরকারকেও। সাবিনা-কৃষ্ণার খেলার ডাক পাওয়াটাই প্রমাণ করে বাংলাদেশের নারী ফুটবল অনেক উন্নতি করছে এবং এগুচ্ছে। ওদের ওখানে খেলার ডাক পাওয়াটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের জন্য বড় প্রাপ্তি। আগামীতে তাদের দেখানো পথ ধরে অন্য মেয়েরাও নিশ্চয়ই নিজেদের যোগ্যতায় ওখানে যাবে।

শুধু পুরুষ ফুটবলের মাধ্যমেই এদেশের ফুটবলে জোয়ার আনলে হবে না, নজর দিতে দিতে হবে মহিলা ফুটবলেও- বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের জীবন্তু ফুটবল কিংবদন্তি কাজী মো. সালাউদ্দিন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিগত বছরগুলোতে মেয়েদের ফুটবল অনেকটাই উন্নতি করেছে। আরেকজনের নাম না বললেই নয়, তিনি মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান, মাহফুজা আক্তার কিরণ।

এদেশে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলার নাম ফুটবল। পারিবারিক ও সামাজিক বাধা, উদ্যোগ ও অর্থের অভাব, পেশা হিসেবে ফুটবলকে বেছে নেওয়ার অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে মেয়েদের ফুটবল এতদিন সাঁতার কেটেছে স্রোতের প্রতিকূলেই। প্রগাঢ় অমানিশার পর আসে ঝলমলে আলোকিত দিবস। তেমনি এবার পুরুষ ফুটবলের পুনর্জাগরণের পাশাপাশি মহিলা ফুটবলেরও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, উদ্যোগ ও ধারাবাহিতার।

একদা দেশীয় ফুটবলের যে উজ্জ্বল অতীত ঐতিহ্য ছিল, তা ছেলেরা ফিরিয়ে আনতে না পারলেও মেয়েরা পারছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি শ্লাঘার বিষয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, দলের অধিকাংশ মেয়ে উঠে এসেছে অবহেলিত গ্রামগঞ্জ ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে। তাদের পরিবারগুলো একেবারেই হতদরিদ্র। বলতে গেলে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়- এমন অবস্থা। সেখানে বিদ্যালয়সংলগ্ন পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই, প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও প্রশিক্ষণের প্রকট অভাব- সর্বোপরি নিত্যসঙ্গী দারিদ্র্যের কশাঘাত। অনেক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎও পর্যন্ত পৌঁছেনি। সে অবস্থায় অদম্য ও অপরাজেয় নারী ফুটবলারদের এমন কৃতিত্ব খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। এই দলটিকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করা হলে দেশে ও বিদেশের মাটিতে এরাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিজয় গৌরব ও সুনাম ছিনিয়ে আনতে সমর্থ হবে। সোনার মেয়েদের কীর্তিগাথায় মোড়ানো এরকম আরও অনেক স্বর্ণালী সাফল্য নিশ্চয়ই অবলোকন করা যাবে।

তুলনামূলক বিচারে পুরুষদের চেয়ে নারী ফুটবলাররা দেশকে বেশি সাফল্য এনে দিলেও বিস্ময়করভাবে তারা পুরুষদের চেয়ে বেশি অবহেলিত ঘরোয়া ফুটবলে। যেখানে জাতীয় দলের মানহীন ফুটবলাররা নিয়মিত ঘরোয়া লিগ খেলে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন, সেখানে জাতীয় দলের মানসম্পন্ন নারী ফুটবলাররা গত ১১ বছরে মাত্র চারবার লিগ খেলার সুযোগ পেয়েছেন এবং সেটা কম পারিশ্রমিকে। এ পর্যন্ত মাত্র চারবার মহিলা ফুটবল লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছে (২০১১, ২০১৩, ২০১৯ ও ২০২০ সালে)। এর মধ্যে ছয় বছর আবার বিরতি ছিল। পুরুষদের প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের দলগুলো প্রথম দুটি লিগে অংশ নিয়েছিল। ফলে সে দুটি লিগের খেলা হয়েছিল জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। 

এর পর দীর্ঘ ছয় বছর বাফুফের খামখেয়ালীতে মহিলা লিগ অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে যে দলগুলো খেলে, তারা না এগিয়ে আসলে নারী ফুটবল লীগ পেশাদারিত্বের কাঠামোয় আসবে না। কয়েক বছর আগে এমন মন্তব্য করেছিলেন বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালে আবারও লিগ অনুষ্ঠিত হয়। তবে একমাত্র বসুন্ধরা কিংস বাদে প্রতিষ্ঠিত কোনো ক্লাব এই লিগে খেলতে অনীহা প্রকাশ করে। মানহীন পাড়া-মহল্লা-মফস্বলের অখ্যাত ৬টি ক্লাব এতে অংশ নেয়। আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় কিংস জাতীয় দলের প্রায় ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় কিনে নেয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, একতরফা খেলে কিংস শিরোপা জেতে। ১২ ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতে তারা। ১১৯ গোল করলেও একটি গোলও হজম করেনি! প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই তারা ১২-১৩টি করে গোল করে। ফলে তখনই এ নিয়ে সমালোচনা হয়। দাবি ওঠে পরেরবার যেন মানহীন ও একপেশে লিগ না হয়। প্রতিটি দলেই যেন ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং প্রতিষ্ঠিত ক্লাবগুলো যেন অংশ নেয়। কিন্তু ক্লাবগুলো অসহযোগিতামূলক মনোভাবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় বেচারা বাফুফে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলে ২০২০ সালের লিগও হয় আগের বছরের লিগের ‘কার্বন কপি’। তবে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক জুনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া নতুন দল এআরবি স্পোর্টিং ক্লাব কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। কিন্তু কিংস চ্যাম্পিয়ন হওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ১৪ খেলার প্রতিটিতেই জেতা কিংস এবার ১২৩ গোল করার বিপরীতে মাত্র একটি গোল হজম করে। একটি ম্যাচে তারা ২০-০ গোলে জেতে। এভাবে মুড়িমুড়কির মতো প্রতি ম্যাচে কিংসের গোল করা নিয়ে আবারও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এবার দাবি ওঠে পরের লিগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবগুলোর মহিলা লিগে খেলা বাধ্যতামূলক করার এবং প্রতিটি দলে জাতীয় দলের ৫ জনের বেশি ফুটবলার না নিয়ে ‘পুলপ্রথা’ করার। 

এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাফুফে কঠোর হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে মেয়েদের ফুটবল দল গড়ার শর্ত দিয়েছে তারা। সেই হিসেবে মেয়েদের দল গড়তে শুরু করেছে প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলো। মোহামেডান, আবাহনী, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের নাম শোনা গেছে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা অনেক ক্লাবই বাফুফেতে চিঠি দিয়ে মেয়েদের দল গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।  

গত মহিলা লিগে অনেক ক্লাবই তাদের ফুটবলারদের সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে লিখিত চুক্তি করেনি এবং ঠিকমতো পারিশ্রমিকও দেয়নি। অথচ বাফুফে সেবার এসবের কিছুই নজরদারি করেনি। এবারের লিগেও যে এমন কিছু হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তাও বাফুফে এবার দেয়নি। 

দক্ষিণ এশিয়ান নারী ফুটবলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে অন্যতম পরাশক্তি বাংলাদেশ। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সে অর্থে আসছে না সাফল্য। জাতীয় দল হিসেবে এখন ঠিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছেন না মারিয়া-সাবিনারা। এই ব্যর্থতার পেছনে পেশাদার লিগের অভাবই দায়ী, যা ঠিকমতো আয়োজন করতে পারছে না বাফুফে! 

লেখক : ক্রীড়া সাংবাদিক, দৈনিক জনকণ্ঠ

[email protected]