ঢাকা ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

ইসলামে মাদক নিষিদ্ধ

শাহাদাত হোসাইন
ইসলামে মাদক নিষিদ্ধ

নেশার উদ্রেগ সৃষ্টিকারী এমন সব বস্তু যা সেবনে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বিনষ্ট হয় ইসলামে তা মাদক হিসাবে পরিচিত। মাদকের ভয়ংকর থাবায় বিশ্বব্যাপী বিপন্ন আজ মানবসভ্যতা। মাদকের সর্বনাশা মরণ ছোবল কেড়ে নিচ্ছে যুবকদের সদ্য-পরিস্ফুটিত জীবন-যৌবন। এতে কলুষিত হচ্ছে পরিবার ও সমাজব্যবস্থা। বিঘ্নিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শান্তি ও নিরাপত্তা। লঙ্ঘিত হচ্ছে আইন-কানুন। যা দেশ ও জাতির জন্য বয়ে আনছে ঘোর অমানিশা।

ওমরের দোয়া এবং মাদক নিষিদ্ধকরণে ইসলাম : ইসলাম মানবতার ত্রাণকর্তা। যা মানুষকে শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও নৈতিক অধঃপতন মুক্ত করে। মানুষের সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির সংরক্ষণ করে। মাদক সেবন মানুষের সুবোধকে ধ্বংস করে। ইসলামপূর্ব সমাজব্যবস্থায় মাদক সেবন সাধারণ পানীয়র মতো ছিল। বরং মাদক সেবন আভিজাত্যের পরিচায়ক বলে বিবেচিত হত। হজরত ওমর (রা.) মাদকের অনিষ্টতা হতে জাতিকে মুক্তি দিতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ! মদের ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট বিধান দিন। বলা হয়, শিশুদের মায়ের দুধ ছাড়ানো যেমন কষ্টকর, তার থেকেও অধিক কষ্টকর ব্যক্তির খারাপ স্বভাব ছাড়ানো। ইসলাম তার অনুসারীদের এই খারাপ স্বভাবমুক্ত করতে ধাপে ধাপে সুনিপুণ ও কার্যকরী পন্থা অবলম্বন করে।

উপকারের তুলনায় অপকার অধিক : ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। যা মানুষের স্বভাব ও চরিত্র সম্পর্কে স¤পূর্ণ ওয়াকিফহাল। ইসলামপূর্ব সমাজে মাদক সেবন সিদ্ধ ছিল। তাই হঠাৎ নিষিদ্ধ করলে তাদের বিদ্রোহ কিংবা কষ্টে নিপতীত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই ইসলাম প্রথমে মাদকতার ক্ষতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করে। কোরআনে এসেছে, তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলে দাও এ দুটির মধ্যে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে, তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড় (সুরা বাকারা : ২১৯)।

মাদকাশক্ত অবস্থায় নামাজ নিষিদ্ধকরণ : মাদক সেবন সুস্থ মস্তিস্কের বিকৃতি ঘটায়। হিতাহিত বিবেক-বুদ্ধি লোপ করে। কথাবার্তায় স্খলন আনে। বর্ণিত আছে, একবার সাহাবিরা মদপানের পরে মাগরিবের নামাজে দণ্ডায়মান হন। তাদের ইমাম কেরাত পাঠে এমন ভুল করেন, যাতে অর্থে মারাত্মক বিকৃতি সাধিত হয়। তখন নেশাবস্থায় নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়। কোরআনে এসেছে, হে ঈমানদাররা! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা নামাজের কাছেও যেওনা (সুরা নিসা : ৪৩)।

মাদক সেবনে নিষিদ্ধতার সীলমোহর : মাদকের ক্ষতি সর্বব্যাপী তাই আল্লাহতায়ালা এটাকে শয়তানি কাজ বলে আখ্যায়িত করেন এবং মাদক সেবনে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত মোহর অঙ্কিত করেন। আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদাররা! নিশ্চিয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং তীর নিক্ষেপ-এর সবগুলোই নিকৃষ্ট শয়তানি কাজ। কাজেই এসব থেকে স¤পূর্ণভাবে বিরত থাক, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার (সুরা মায়েদা : ৯০)। হাদিসে এসেছে, নবীজি বলেছেন, প্রত্যেক নেশাজাত দ্রব্য হারাম (মুসলিম : ২০০৩)। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত মদ ও মাদক সেবন থেকে নিজেদের বিরত রাখা। কেন না, মাদক সেবন করে আল্লাহর হুকুম অমান্য করার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে জাহান্নামের উপযুক্ত করছে।

লেখক : খতিব, বাইতুল আজিম জামে মসজিদ, রংপুর

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত