সুফিকোষ
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মহব্বতের কি দূরত্ব আছে? তোমার নিকটে তো কত বন্ধু আছে, কিন্তু তাহাদের জন্য মনের তড়প কতখানি আসে? এই তড়পই অমূল্য ধন। মহবয়তের রাহে আপনাকে না হারাইলে মাহবুবকে পাওয়া যায় না। তাই বলি, রোদনকে বরণ কর, খোদার দরবারে শোকরিয়া আদায় কর, জায়নামাজে লুটিয়া যাও, তাহারই পদরাজিতে হৃদয়খানি পাতিয়া দাও। জানিবে, বিচ্ছেদে মহব্বত পুষ্ট হয়, মিলনে তাহার হ্রাস হয়; শারীরিক মিলনের সাধ মন হইতে উঠাইয়া দাও, তবেই আধ্যাত্মিক মিলন হইবে।
কাঙ্গাল সাজিতে পারিলে ভাবনা কিসের? কাঙ্গালই প্রকৃত ধনী। সব যে ত্যাগ করিতে পাওে, সেই অক্ষয়ধনের অধিকারী হয়। আ-হজরত সা¤্রাজ্যের অধিকারী হইয়াও দীন ভিখারী ছিলেন, দারিদ্র্যই তাহার অতি গৌরবের বস্তু ছিল। তোমার নিকট ধন থাকিলে দেলটি হয়ত এত কোমল হইত না। তাই বলি, দরিদ্রতা আলিঙ্গন কর, তাহাতেই সুখী হও ও শোকরিয়া আদায় কর। তবেই মাহবুব তোমাকে ভিতরে টানিয়া লইবেন। (ভক্তের পত্র, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা, পত্র সংখ্যা : ১৫৪, পৃষ্ঠা : ১০১-১০২)।
যাহারা মহব্বত হাছেল করে, তাহারা দুনিয়ার দুঃখ দেখিয়া ভয় পায় না। বিপদেই মাহবুবের কথা স্মরণ পড়ে, সম্পদে কেহই তাহাকে মনে করিবার অবসর পায় না। (ভক্তের পত্র, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা, পত্র সংখ্যা : ১৫৬, পৃষ্ঠা : ১০২-১০৩)।
মা, জানিবেন সত্য একই, সত্যময় সর্বদা সর্বত্র রিবরাজমান। শুধু মহব্বত এখতিয়ার করুন, সব স্থানে তাহার সাড়া পাইবেন। মহব্বতই মানুষকে মুহূর্তে ইহলোক হইতে পরলোকের আস্বাদ দানে সমর্থ। এই পৃথিবীতে মহব্বত অপেক্ষা মূল্যবান কোনো বস্তু নাই। ইহার দ্বারাই মানুষ পৃথিবীকে বেহেশতে পরিণত করিতে পারে। (ভক্তের পত্র, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা, পত্র সংখ্যা : ১৭২, পৃষ্ঠা : ১১১-১১২)।
মহব্বত অগ্নিবৎ, সে যাহাকে আয়ত্ব করে তাহার ভেজাল খাইদ সব পুড়িয়া খাক হইয়া যায়। আশেক খোদা তা’লার পেয়ারা বস্তু। বেহেশতীর জন্যই মাপ-কাঠির আবশ্যক, তাহার নেকি-বদী জার্রা জার্রা ওজন করা হয়। আশেক ত নেকি-বদীর পরওয়া করে না, বেহেশত দোজখের আশা বা ভয় রাখে না, সে তো মহাপ্রভুর জন্য জানিয়া বুঝিয়া অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দেয়। এই স্মৃতি দিবারাত্র তাহাকে দহন করিতে থাকে, সে দহনই ভালবাসে, সে তো মরিবার ভয় রাখে না, সে রোদনে আনন্দ পায়, সে ব্যথাকে বরণ করে, সে পরিষ্কারের আকাঙ্খা রাখে না। সুখ অসুখ সে ভ্রূক্ষেপ করে না, সে শুধু আপন মাহবুবের জন্য পাগলপারা, দিশাহারা থাকে। (ভক্তের পত্র, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা, পত্র সংখ্যা : ১৭৪, পৃষ্ঠা : ১১২)।
