মওলানা রুমির মসনবি শরিফ (কিস্তি- ৬/৩৭)

নারীর চক্রান্ত জালে বন্দি বিচারপতি

ড. মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লোকটির পরিচয় জুহি, বাংলায় ভাঁড়। ইংরেজিতে বললে জোকার। তার বউ ছিল দারুণ চালাক রূপসী। বেকার জুহি অনেক সময় বউয়ের রূপ বিক্রি করে সংসার চালায়। অভাবের তাড়নায় জুহি একদিন বউকে বলল, সংসার তো চলে না, তোমার অস্ত্রটা কাজে লাগাও এখন। শিকার ধরতে হবে তাগড়া দেখে। সিংহ ধরে দুধ দোহন করব তোমার কুশলে। আল্লাহ তোমাকে ভ্রু দিয়েছেন ধনুকের মতো। চোখের চাহনীতে তীরের শক্তি। শিকার ধরার জন্যই তো দেওয়া হয়েছে এসব তোমাকে। বড় কোনো পাখির জন্য যাও, জাল পাত। তোমার রূপের দানা ছড়িয়ে দাও। দানা দেবে, তবে সাবধান নিজেকে নয়। লোভ দেখাবে, লোভাতুর রাখবে। পাখি খাঁচায় বন্দি হলে কি ছড়ানো দানা খেতে পারে। আশা করি জাল কীভাবে পাতবে আর বুঝিয়ে বলতে হবে না।

জুহির স্ত্রী বিচারপতির কাছে গেল স্বামীর বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে। আমার স্বামীটা ফুর্তিবাজ, সংসারের প্রতি উদাসীন, আমাকে জ্বালাতন করে হুজুর। আর্জি দীর্ঘ করতে হয়নি। এরই মধ্যে মহিলার শিকরের জালে পড়ে যায় কাজী। মহিলার কথা বলার ভঙ্গি, চোখের চাহিনী, রূপের ঝিলিক হরণ করে বিচারপতির হুঁশ বিচক্ষণতা। বললেন, এখানে মামলার জট, অনেক ঝামেলা, হট্টগোল। তোমার নালিশ শুনতে হলে আলাদা সময় লাগবে। যদি তুমি আমার বাসায় আসতে পার, একান্তে তোমার কথা শুনব, তোমার নালিশের সুরাহা করা সহজ হবে। মহিলা বলল, আপনার বাসাও তো ঝামেলামুক্ত নয়। নালিশ নিয়ে ভালোমন্দ হরেক রকমের মানুষের আনাগোনা কোলাহল। মওলানার চিন্তা এখন কাজির বাড়ি থেকে চলে গেল মানুষের মনের বাড়িতে। তিনি বলেন,

 

খানায়ে সর জুমলা পুর সওদা বুয়াদ

সদর পুর ওয়াসওয়াস ও পুর গওগা বুয়াদ

মস্তিষ্কের ঘর গোলযোগপূর্ণ থাকে চিন্তার আনাগোনায়

বুকটাও যেন ছটফট করে নানারূপ সংশয়, অস্থিরতায়।

নানা চিন্তায় ধান্ধায় মানুষের মস্তিষ্ক সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। মনও ছটফট করে নানা সংশয়, অস্থিরতায়। বুক ও মস্তিষ্কের এই অবস্থার প্রকাশ ঘটে মানুষের চরিত্রে ও কর্মে। এলোমেলো চিন্তায় তখন মনে হয়, সুজলা সুফলা এই দুনিযায় শীতের প্রকোপ শুরু হয়েছে। তোমার মন ও মস্তিষ্কে যদি এমন অবস্থা অনুভব কর, দ্রুত শরণ লও মন ও চিন্তার নিয়ামক মহাপ্রভু আল্লাহর। তার স্মরণের আশ্রয়ে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেল মন ও মস্তিষ্ক থেকে। কারণ, যতদিন পুরণো জ্বরামরা পাতা থাকবে, নতুন কিশলয়ের উদ্গম হবে না জীবনবৃক্ষের ডালপালায়। কাজেই তোমার মাথা ও মন থেকে ঝেড়ে ফেল এ জাতীয় চিন্তা ও সংশয়ের অবর্জনা। তবেই সুন্দর চিন্তা ও প্রেরণার সমারোহে হেসে উঠবে মন ও জীবনের আঙিনা।

কাজি বললেন, আচ্ছা এসব ব্যাপারে কোথায় কি করতে হবে তুমি চিন্তা করে বল। এ মুহূর্তে আমার মাথায় আসছে না, দেখছ না ব্যস্ততা। মহিল বলল, এই দাসীর ঘর তো একেবারে খালি। আমার স্বামী গেছে গ্রামে, আসবে সপ্তাহ শেষে। আমাদের বাড়িতে তো দারোয়ানও নাই। নিরিবিলিতে আপনাকে বরণ করতে পারলে খুশি হবে স্বামীর জ্বালাতনে অতিষ্ঠ এই দুঃখিনি। সম্ভব হলে আাজ রাতেই দয়া করে আসেন। মনের দুঃখ বেদনা খুলে বলতে পারব। রাতের আঁধারে মানুষ জানবে না, কিছু শুনবে না, দেখারও কেউ নেই কাজী সাহেব কোথ্যায় যায়। যারা মানুষের বদনাম রটায় ওসময় ঘুমের মদে মজে তারা বেহুঁশ থাকবে। রাতের আঁধার সবার উপরে চাদর ঢেকে রাখবে। এভাবে সুন্দরী নানা মন্ত্র পড়ল কাজীর কানে, তাও মধুর ঠোঁটের উচ্চারণে।

চন্দ বা আদম বিলিস আফসানা কর্দ

চোন হাওয়া গোফতাশ বখোর আঙ্গাহ খার্দ

বহুবার ইবলিস মন্ত্র পড়ে আদমের কানে

কিন্তু হাওয়া খাও বলার পর গন্দুম খেয়েছে।

বেহেশতে আল্লাহর নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ানোর জন্য ইবলিস বেশ কয়েকবার আদম (আ.)-এর কানে মন্ত্র পাঠ করেছে, প্ররোচনা দিয়েছে। আদম (আ.) তাতে কর্ণপাত করেননি। কিন্তু হাওয়া (আ.) যখন বললেন যে, খাও, তখনই তিনি গন্দুম খেলেন। দুনিয়ার বুকে প্রথম অন্যায় রক্ত ঝরেছিল কী কারণে? কাবিল ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল নারীঘটিত কারণে। নুহ (আ.) তাওয়ায় মাছ ভুনতেন বা খাবার রান্না করতেন। তার স্ত্রী সেই তাওয়ায় পাথরকণা ছুঁড়ে মারত। তিনি মানুষকে দাওয়াত দিতেন তাওহীদের। ওদিকে স্ত্রী গোপনে খবর পাঠাত, খবরদার, বাপ দাদার ধর্ম ত্যাগ করে পাল্লায় পড় না এসব ভণ্ডের। কাজী সাহেবও বুঝি নারীর চক্রান্তের শিকারে পরিণত হল।

মহিলার বাড়ির উদ্দেশ্যে কাজি সাহেব চললেন রাত গভীর হলে। এদিকে মহিলা অপেক্ষায় ধুপবাতি, মিষ্টান্ন, শরাব, আরো কত আয়োজন নিয়ে। ঘরে প্রবেশ করে কাজী ব্যাপক আয়োজন দেখে খুশিতে বাগবাগ। বলে, শরাবের প্রয়োজন নেই আমি এমনিতেই পাগল তোমার। ইউসুফ আহমদ মওলভী বলেন, প্রতারক দুনিয়া বহু আলেম নেককারের জন্য ফিতনার আসর সাজায়, তাদের সম্মান, অর্থের শরাবে মত্ত করে গোমরাহীর পথে নিয়ে যায়।

ঠিক সে সময় জুহি এসে বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়ে। আতঙ্কে লাফ দিয়ে কাজী বলে, কোথায় লুকাবো এ মুহুর্তে। বাড়িতে আলমারী সদৃশ একটি সিন্দুক খালি ছিল, হয়তো পরিকল্পিত। মহিলার ইশারায় কাজি দ্রুত তার ভেতর লুকিয়ে গেল। বাড়ির দরজা খুললে প্রবেশ করল জুহী। জুহির মেজাজ তখন চড়া। স্ত্রীর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে বলল, শুনছি ইদানিং তুমি আমার বিরুদ্ধে নালিশ নিয়ে কাজীর আদালতে যাও। বল, আমি তোমার জন্য কী না করেছি। আমার জীবনের সব সম্পদ সবকিছু তোমার জন্য উজাড় করেছি। এরপরও তুমি আমার বিরুদ্ধে নালিশ করে বেড়াও। সমাজে আমার মান সম্মান নাই। সবাই বলে, তার অনেক ধনসম্পদ সোনারূপা সিন্দুকভর্তি। আমার নাকি আত্মমর্যাদাবোধ নেই। তুমি জান আমি গরবি। এই গরিবী আমার দোষ নয়। আল্লাহই জানেন কাকে গরিব রাখবেন, কাকে ধনী বানাবেন।

মানুষ কেন বলবে, জুহির সোনাদানা অনেক আছে। সিন্দুকে লুকিয়ে রেখেছে। বাইরে গরিব সেজে বেকার ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে কেউ আমাকে সাহায্য তো দেয় না। ধারকর্জও দিতে চায় না। তুমিই তো জান এই একটি সিন্দুক ছাড়া আমার আর কিছু নেই। অথচ সিন্দুকের ভেতরে ফাঁকা নেই সোনাদানা। এই সিন্দুক আমার কাছে প্রতারক ফন্দিবাজের মতো। প্রতারকদের দেখলে বাইরে ফিটফাট, ভেতর সদরঘাট। একটি সিন্দুকের করণে আমার যত বদনাম। এই সিন্দুক আমি চাই না। কাল বাজারের মাঝে নিয়ে সবার সামনে আগুন দেব। যেন মোমিন, খ্রিষ্টান কাফের সবাই স্বচক্ষে দেখতে পায়। এই সিন্দুকের ভেতরে সোনাদানা নাই। মহিলা বলল, দোহাই তোমাকে, এ কাজটি করো না কিছুতে। জুহী বলে, বদনানী আমার সহ্য হয় না। তোমার বাধা মানব না। এ কথা বলেই সিন্দুকটি রশি দিয়ে পেঁছিয়ে বেঁধে রাখল কাল বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে।

রাত কেটে ভোর হলো, সাতসকালে জুহি কুলি ডেকে সিন্দুকটি তুলে দিল তার পিঠে। জুহি চলল আগে আগে। কুলি তার অনুসরণে পেছনে। জনসমক্ষে অপমান ও আগুনে পুড়ে ধ্বংসের ভয়ে সিন্দুকের ভেতরে কাজীর মনে শুরু হল ভূমিকম্প।

জড়তা ছেড়ে কাজী ভেতর থেকে আওয়াজ দিল- হে কুলি, ওহে কুলি। কুলি ডানেবামে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। আওয়াজ আসে কোত্থেকে? সকালবেলা গায়েবি আওয়াজ। কোনো জিন-পরীর আছরে পড়িনি তো? কাজির ডাকাডাকিতে কুলি বুঝতে পারে, এই আওয়াজ গায়েবি কিংবা বাইরের নয়। আমার পিঠের সিন্দুকে কেউ লুকিয়ে আছে তারই আওয়াজ ভেসে আসছে কানে।

মওলানা মাজাজি জাগতিক প্রেমের অবস্থা ব্যক্ত করেন এই সুযোগে। আশেক প্রেমিক অন্যের প্রতি প্রেমাসক্ত হয়। আর মাশুক প্রেমাষ্পদ এর প্রতি আশেক প্রেমাসক্ত হয়। আশেক যদিও মাশুকের দেহগত সিন্দুকে বন্দি নয়; কিন্তু অন্তরে অন্তরে মাশুকের প্রেমের রশিতে সে বন্দি। এমন আশেক মাশুকের প্রেম ও চিন্তায় সিন্দুকে বন্দি হয়েই জীবন কাটায়। তার কাছে এই জগতের সবকিছু সিন্দুকের মতো। তার চিন্তা সারাক্ষণ ঘুরপাক খায় ইহজগতে। উর্ধ্বলোকে কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হতে পারে সে চিন্তা আসে না তার মাথায়। এরা কামনা বাসনা, আত্মপূজা ও আমিত্বের সিন্দুকে বন্দি অবস্থায় জীবন কাটায়। শেষে মৃত্যুর সময় দেহের সিন্দুক হতে বের হয়ে কবরের সিন্দুকে চলে যায়।

চোন যে সন্দুকে বদন রিরুন রওয়াদ

উ যে গুরি সুয়ে গুরি মি শওয়াদ

যখন দেহের সিন্দুক থেকে বের হয় অতপর

এক কবর হতে অন্য কবরে হয় স্থানান্তর।

সিন্দুকে বন্দি কাজি কুলিকে বলল, শুনো! আমি কী বলছি। আমাকে নিয়ে চল আদালত ভবনে। আমার সহকারীকে গিয়ে বল আমার বন্দিত্বের কথা। বল, এই সিন্দুক যেন স্বর্ণের বিনিময়ে কিনে আহমকটির কাছ থেকে। শয়তান চরিত্রের জুহী আর তার সহযোগী স্ত্রী চরিত্রের নফসের চক্রন্তের বর্ণনায় এসে মওলানার চেতনা চলে যায় আল্লাহর দরবারে।

আই খোদা বেগুমার কওমি রুহমন্দ

তা যে সন্দুকে বদন মান ওয়াখরন্দ

হে খোদা তোমার ওলিদের পাঠাও মানুষের চলার পথে

আপন নেকনজরে যেন মুক্তি দেন দেহের সিন্দুক থেকে।

খলক রা আজ বন্দে সন্দুকে ফসুন

কেই খরদ জুয আন্বিয়া ও মুরসালুন

দেহের প্রতরণা, কলাকুশল, তিলিষ্মা থেকে

কে কিনে মুক্তি দেবে নবী রাসূল ব্যতিরেকে।

আজ হেজারান য়্যক কসি খোশ মনজর আস্ত

কে বেদানদ কু বে সান্দুক আন্দরাস্ত

হাজারের মধ্যে মাত্র একজন লোকই জানে যে,

দেহের সিন্দুকে বন্দি হয়ে তার জীবন কাটে।

কুলি গতিপথ পরিবর্তন করে আদালত পাড়ায় গেল। সহকারী কাজীকে বলল, তাড়াতাড়ি সিন্দুকটি স্বর্ণমুদ্রার দামে কিনে নাও। বাক্স না খুলেই বাাড়িতে পৌঁছে দাও। ততক্ষণে জুহী এসে হাজির। সহকারী কাজির কাছে জুহি দাম হাঁকাল হাজার দিনার। এত দাম বলাতে বাহাস হল। জুহি বারবার মাল খুলে দেখাতে চাইল। সহকারী কাজি কতক উপদেশ শুনাল, যার মূলকথা, তুমি যে মানুষের দোষ খুঁজতে ব্যস্ত, ভেবে দেখ তুমি আরও মারাত্মক দোষে আক্রান্ত। তোমার মতো বহু মানুষ নফসের কামনা বাসনার সিন্দুকে বন্দি। আল্লাহর নজরদারিতে আছ তুমি অবিরত। তার শাস্তি আখেরাতে নয়, দুনিয়াতেও হয় ক্ষেত্রবিশেষে। কাজেই নিজের অবস্থার উপর নজর রাখ। পরের দোষ ধরতে দৌঁড় দিলে নিজের গর্তে পড়তে হবে। দরকষাকষির পর একশ দিনারের বিনিময়ে সিন্দুকটি খরিদ করে কাজির বাড়িতে পাঠিয়ে দিল। এভাবে কাজি বিরাট বিপদ থেকে উদ্ধার পেলেন আর জুহি পেল একশ দীনার, যা তার অন্তত একটি বছরের খোরাক।

এক বছর পর যখন জুহী পুনরায় অভাবের শিকার হল স্ত্রীকে বলল, তুমি আবার যাও, কাজীর কাছে গত বছরের নালিশটি নতুন করে উপস্থাপন কর। তোমার রূপের জাল বিস্তার কর। জুহির স্ত্রী ধরা খাওয়ার আশংকায় এক মহিলাকে সঙ্গে নিল দোভাষী হিসেবে। বোর্কা পরিহিতা জুহীর স্ত্রী দোভাষীর সহায়তায় স্বামীর উদাসীনতার বিষয়ে নালিশ দায়ের করল। দোভাষী উকিলের বক্তব্য শুনে কাজী বললেন, বাদী মহিলার স্বামীকে আদালতে হাজির হতে হবে।

জুহি আদালতে উপস্থিত হয়ে পরিবারের অভাবের একই কাজিয়া শুরু করল। গেল বছর যখন কাজি সিন্দুকের ভেতর বন্দি ছিলেন তখন জুহির চেহারা দেখেননি; তবে সিন্দুকের দরকাষাকষির সময় তার কণ্ঠস্বর শুনেছিল। তাতে বুঝতে পরলেন এবারের ফরিয়াদী গেল বছরের জুহী ও তার স্ত্রী। নতুন কোনো জাল নিয়ে এসেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন-

নোবতে মন রফত ইমসাল অন কামার

বা দিগার কস বাজ দস্ত আজ মন বেদার

সেই খেলায় এ বছর আবার হারতে যাব না আমি

জুয়ায় যদি জড়াতে চাও অন্য খদ্দের খুঁজো তুমি।

রুহের চরিত্রে কাজির এই ভূমিকা প্রত্যেকের জীবনে কাম্য। কথায় বলে নেড়া বেল তলায় পুনরায় যায় না। নারী চরিত্রের নফস এবং শয়তান চরিত্রের জুহীর প্রতারণার ফাঁদেও কাজী চরিত্রের রুহ পুনরায় ধরা খাবে না। (মওলানা রুমির মসনবি শরিফ, খণ্ড:৬ বয়েত : ৪৪৪৯-৪৫৬৬)।

(ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী রচিত মসনবি শরিফের গল্প ১-৬ খণ্ড প্রকাশ করেছে ছায়াপথ প্রকাশনী, মসজিদ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, ১৪৯/এ, এয়ারপোর্ট রোড, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন ০১৭১১১১৫৮২৯। মসনবির গল্পভিত্তিক আলোচনা শুনতে ইউটিউবে ভিজিট করুন- CHAYAPATH PROKASHONI)