মওলানা রুমির মসনবি শরিফ (কিস্তি- ৬/৩৮)
আজরাইল (আ.)-এর সঙ্গে একটি দুর্লভ সংলাপ
ড. মওলানা মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৃত্যুর দূত ফেরেশতা হজরত আজরাইল (আ.)। চারজন মহাসম্মানিত ফেরেশতার অন্যতম তিনি। একদিন আল্লাহতায়ালা আজরাইলকে ডেকে বলেন, ওহে নকিব, অগ্রপথিক। সৃষ্টিলোকের এত প্রাণ তুমি কবজ করেছ, বল তো, কার জান কবজ করতে তোমার মন অধিক ব্যথিত হয়েছিল? বললেন, সবার প্রাণ সংহারেই আমার মন ব্যথায় কাতর হয়েছে; তবে তোমার আদেশ পালনে অবহেলা হয় কিনা সেজন্য অন্তর কেঁপেছে। মন অনেক সময় বলেছে, আল্লাহ পাক যদি এদের জান কবজের বদলে আমার মৃত্যু ঘটাতেন সেটিই বুঝি আসান হতো।
আল্লাহতায়ালা আজরাইলকে বললেন, বুঝলাম। তবে কার জান কবজ করতে সবচে বেশি মায়া লেগেছিল সেটিই জানতে চেয়েছি। আজরাঈল মনের কথাটি খুলে বলেন আল্লাহর সনে।
গোফত রুজি কিশতিয়ি বর মওজে তিজ
মন শেকাসতাম জামর তা শুদ রিজ রিজ
বলল, একদিন একটি নৌকা তীব্র তরঙ্গ স্রোতে
সাগর বুকে ভেঙেছি তোমার আদেশ পালনার্তে।
তোমার আদেশ ছিল নৌকার সব যাত্রীদের জান কবজ কর। তবে একজন মহিলা আর তার বুকের শিশু বাদ থাকবে। ফলে মা ও শিশু সাগর বক্ষে নৌকার একটি তক্তায় আশ্রয় পেয়েছিল। সাগরের ঢেউ সেই তক্তা ভাসিয়ে এগিয়ে নিচ্ছিল। তারপর তুমি আদেশ দিলে মায়ের জানটি কবজ কর আর শিশুটি আল্লাহর ইচ্ছার কাছে একাকী সোপর্দ কর। আমি তখনই মায়ের জান কবজ করলাম। কাজটি কত বেদনাবিদূর ছিল তুমিই বল। তোমার আদেশে মানুষের প্রাণ সংহার করতে গিয়ে এ ধরনের বহু করুন দৃশ্যের সম্মুখীন আমি হয়েছি; তবে এবারে একটি অসহায় শিশু যেভাবে সাগর বক্ষে মায়ের বুকে মায়ের মৃত্যুর সাক্ষী হল, তা ভুলতে পারছি না কিছুতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমার বিবরণ শুনলাম, সেই শিশুর জন্য কী ব্যবস্থা করলাম এবার শুনো।
গোফত হক অন তিফল রা আজ ফজলে খিশ
মওজ রা গোফতম ফগন দর বিশে ইশ
আল্লাহ বলেন, আপন দয়ায় বললাম সাগর তরঙ্গকে
তোমার দোলনায় দুলিয়ে তুলে দাও তীরে শিশুকে।
বিশেয়ি পুর সুসানো রায়হান ও গুল
পুর দেরাখতে মিওয়ে দারে খুশ উকুল
গোলাপ, চাঁপার নিবিড় বনে ফুটে চামেলি পারুল
ফলেফুলে মুখর বনবীথিকায় থোকায় থোকায় ঝুল।
চশমেহায়ে আবে শিরিনে যুলাল
পরওয়ারিদাম তিফল রা বা সদ দালাল
নিচ দিয়ে বহে স্বচ্ছ সলিল সুপেয় পানির প্রস্রবন
আদর যত্নে স্নেহের পরশে সেই শিশু করেছি লালন।
সদ হেজারান মুর্গে মুতরেব খোশ সেদা
আন্দর আন রওযা ফকান্দে সদ নওয়া
শতসহস্র গায়ক পাখি কোলাহল কুজনে মুখর বাগান
ঘুমের সময়ে, যখন জেগেছে তার শিয়রে করেছে গান।
বস্তারাশ কর্দাম যে বরগে নাস্তারুন
কর্দে উ রা আইমন আজ সদমেয় ফেতন
নাস্তারুন ফুলের ফরাশে তার বিছানা বিছিয়ে দিয়ে
বিপদ আপদ রেখেছি দূরে নিরাপত্তার কোলে নিয়ে।
গোফতে মন খুরশিদ রা কু রা মগজ
বাদ রা গোফতে বরো আহেস্তে ওয়াজ
সূর্যকে বলেছি সাবধান কষ্ট দিওনা তাকে খরতাপে
বাতাসকে বলেছি বয়ে যাও ধীরে স্নেহের পরশ মেখে।
আবর রা গোফতে বর উ বারান মরিজ
র্বক রা গোফতে বর উ মগরায় তিজ
মেঘমালাকে বলেছি সাবধান করো না বৃষ্টির বরিষণ
বজ্র-বিজলীকে বলেছি ভয় না দেখায় তোমার গর্জন।
জিন চমন আই দেই মবোর অন এতেদাল
পঞ্জায়ে বাহমন বরিন রওজা মমাল
ওহে শীতকাল এ বাগানের ওপর ফেল না তোমার প্রকোপ
হীমপ্রবাহ আনবে না এদিকে যেন শান্তি সুখ না পায় লোপ।
আজরাইল তোমাকে আরও স্মরণ করিয়ে দেই শায়বান রায়ির কথা। বিশেষ নিরাপত্তায় জীবন রক্ষার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে এর আগেও আছে। শয়বান রাখালের নিবাস ছিল প্রান্তর ভূমিতে। ভেড়ার দল চরাতেন তিনি নিরালায় বিজন প্রান্তরে। তবে শুক্রবার জুমার জামাতে শরীক হওয়ার উদ্দেশে যখন শহরে যেতেন, ভেড়ার পালের চারদিকে একটি বৃত্ত এঁকে দিতেন। বনের নেকড়েরা মেষপালের উপর হামলা করতে পারত না সেই অদৃশ্য রেখা অতিক্রম করে। এ ধরনের উদাহরণ, আল্লাহর নবী হুদ (আ.)-এর বৃত্তরেখা। কাফের না-ফরামান আদ জাতির ওপর যখন আসমানি গজব ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড বজ্রবিজলী, ঝড়তুফান মানুষ পশুপক্ষি দুমড়ে-মুচড়ে তুলাধুনা করছিল তখন হুদ (আ.) মুসলমানদেরকে একটি বৃত্তের মধ্যে রেখে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছিলেন।
প্রকৃতিবাদী যারা আধ্যাত্মিক ক্ষমতায় বিশ্বাস করে না তাদের প্রতি তীব্র কটাক্ষবান নিক্ষেপ করে মওলানা বলেন, তোমরা শায়বান রায়ী ও হুদ (আ.)-এর আধ্যাত্মিক বৃত্তরেখার অস্তিত্ব বিশ্বাস কর না। কারণ, এসব বিষয় কিনা তোমাদের যুক্তিতে ধরে না, পরীক্ষায় টিকে না। তাহলে কি তোমরা কোরআন মাজিদ থেকে মুছে দিতে পারবে হুদ এর ঘটনা? তা তো পারবে না। কারণ, অদৃশ্য শক্তির বাধা তোমাকে এ কাজ করতে দেবে না। তার মানে তুমি বিশ্বাস করতে না চাইলেও অদৃশ্য শক্তির বাস্তবতা স্বীকার করতে তুমি বাধ্য, যেখানে তোমার যুক্তি শক্তি অকার্যকর। মূলত আধ্যাত্মিক শক্তিই বিশ্বব্যবস্থায় দোর্দণ্ড প্রতাপে কার্যকর। এই শক্তির ছোঁয়া যখন মানব জীবনকে স্পর্শ করবে তখন শত বসন্তে বার্ধক্য যৌবন তরঙ্গে হেসে উঠবে। ব্যাপারটি ইউসুফ (আ.)-এর প্রেমে মত্ত ব্যর্থ জুলায়খার জীবনের মতো।
চোন জুুলায়খা য়ুসুফাশ বর ওয়েই বেতাফত
আজ আজুজি দর জওয়ানি রাহ য়াফত
ইউসুফের নুর জুলায়খার ওপর যখন কিরণ ছড়াল
জুলায়খা বুড়ি জীবন সায়াহ্নে পুনযৌবন ফিরে পেল।
ইউসুফ (আ.)-এর প্রেমে মত্ত জুলায়খার জীবন বঞ্চনার মধ্যে বার্ধক্যে উপনীত হয়। ইউসুফ (আ.) মিশরের ক্ষমতায় এলে বৃদ্ধা যুলায়খা তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। সাক্ষাতপ্রার্থী বৃদ্ধার পরিচয় পেয়ে যেইনা ইউসুফ (আ.) তার দিকে তাকালেন এবং নাম ধরে ডাকলেন ‘যুলায়খা’ তখন যুলায়খার বার্ধক্য জীবনে যৌবনের বসন্ত ফিরে এলো। ইউসুফের সেই দৃষ্টিপাত ছিল নূরের বিচ্ছুরণ। এমন জ্যোতি লাভ করতে হলে ইহজাগতিক বন্ধন হতে জীবন ও মনকে মুক্ত করতে হবে। তার জন্য শর্ত স্বেচ্ছামরণ। তাহলেই ফিরে পাবে জীবন। প্রশ্ন হল, মরণের মধ্যে জীবন একথা তো বুঝে আসে না। বস্তবাদী প্রকৃতিবাদী দর্শন তো বিশ্বাস করবে না এর সত্যতায়, বাস্তবতায়। মওলানা বলেন,
জিন্দেগি দর মুর্দন ও দর মেহনত আস্ত
আবে হায়ওয়ান দর দরুনে জুলমত আস্ত
মরণ, কষ্টদুঃখ বরণের মধ্যে নিহিত জীবন ওরে
অমৃত সুধা আবেহায়াত নিহিত নিকষ অন্ধকারে।
দুঃখ ভোগ করলেই সুখের আনন্দ মেলে, গ্রীষ্মের তাপদাহেই মানুষ শীতাতপের মর্ম বুঝে। অন্ধকার না হলে আলোর মর্ম বুঝা যেত না। চিন্তা করলে বস্তুবাদীরাও এই সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হবে। সাগরে নৌকাডুবি, মা ও শিশু ছাড়া সব যাত্রীর প্রাণহানি, আবার মায়ের প্রাণহানি এবং নৌকার বিচ্ছিন্ন তক্তার দোলনায় তরঙ্গের দোলায় সেই শিশু ডাঙায় আসা ও প্রকৃতির অনুকুল যত্নে প্রতিপালিত হওয়ার বিষয়টিও এরূপ আধ্যাত্মিক। মোটকথা আরেফদের বৃত্তরেখা বেষ্ঠিত বাগানের মত সাগর পাড়ের বাগানটিও সব ধরনের আপদ বিপদ থেকে নিরাপদ ছিল আর তাতে আদুরে দুইহাত মেলে শিশুটি খেলছিল। পাশে একটি নেকড়ের ছিল নবজাতক শাবক।
ইক পালঙ্গী তিফলকানে নওজাদ বুদ
গোফতম উ রা শির দেহ তাআত নমুদ
একটি নেকড়ের ছিল নবজাতক শাবক কতক
বললাম দুধ দাও মানব শিশুকে, হলো নতমস্তক।
একটি প্রসূতি নেকড়ে আল্লাহর আদেশ নতমস্তকে মেনে নিল। সে তার শাবকদের সঙ্গে দুধ খাওয়াল মানব শিশুকে। আস্তেআস্তে নেকড়ের দুধে মানবশিশু পালিত ও বাঘের মতো সাহসী হয়ে বেড়ে উঠল। দুধপান শেষ হলো পরীদের বললাম, যাও তাকে শিখাও মুখের বুলি আর বিচারবুদ্ধি। এভাবে হাজারো নেয়ামত অনুগ্রহে প্রতিপালন করলাম আমি।
সদ এনায়েত কর্দমো সদ রাবেতা
তা বেবিনদ লুতফে মন বি ওয়াসেতা
শত দয়া অনুগ্রহ করেছি শত উসিলায়
যেন সরাসরি বুঝে সে সিক্ত আমার দয়ায়।
তা নবাশদ আজ সবব দরকশ মকশ
তা বুয়াদ হার এস্তেআনত আজ মনশ
যাতে না পড়ে কার্যকারণের বাঁক গোলকধাঁধায়
যখন যা প্রয়োজন যেন আমার কাছ থেকে চায়।
শত উসিলা ও মাধ্যমে হাজারো দয়া অনুগ্রহ আমি তাকে করেছি। যাতে সে বুঝতে পারে, তার জীবনকে ঘিরে আছে আমার দয়া ও অনুগ্রহ। মানুষ গোমরাহ হয় যখন মনে করে, জীবনে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য বয়ে আনার ক্ষেত্রে আল্লাহ ভিন্ন কোনো শক্তি কিংবা কার্যকারণ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। তখনই সে আল্লাহর প্রতি উদাসীন হয়।
মানুষের প্রতি শতসহস্র দয়া অনুগ্রহের পেছনে আল্লাহর অভিপ্রায় হল, মানুষ যেন একমাত্র আল্লাহকে তার জীবনের ওপর মূল প্রভাবক মনে করে, কার্যকারণ বিধির গোলকধাঁধায় না পড়ে আর সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকেই সাহায্য কামনা করে।
আল্লাহ পাক ফেরেশতা আজরাইল (আ)-কে বলেন, আজরাইল! হে আমার প্রিয় বান্দা! এই মানব শিশুর প্রতি আমি যে এত অনুগ্রহ করলাম, তাকে বাবেল শহরে নিয়ে সেখানকার রাজত্ব প্রদান করলাম, মহাস¤্রাট নমরুদের সিংহাসন দিলাম, তার কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে শিশুটির প্রতিক্রিয়া কী হলো জানো? সে চরম অত্যাচারীতে পরিণত হল। এক পর্যায়ে আমার বন্ধু ইব্রাহিম খলিলকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করল। আমার সব দয়া অনুগ্রহকে পায়ে দলন করল। অজ্ঞতা ও অন্ধত্বের বশে চরম কাফের ও সত্যপথের ডাকাতে পরিণত হল। এমনকি দম্ভ অহংকারের চূড়ান্ত পর্যায়ে খোদায়িত্ব দাবি করল। বলল যে, আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রভু- ‘আনা রব্বুকুমুল আলা’।
রফতে সুয়ে আসেমানে বা জলাল
বা সে কার্কাস তা কুনদ বা মন কেতাল
গেল সে সুউচ্চ আকাশ পানে দম্ভের কারণে
আমার সঙ্গে লড়তে সওয়ার হয়ে তিন শকুনে।
নমরুদ নিজে খোদায়ী দাবি করে ক্ষান্ত হয়নি; ইব্রাহিম (আ.) যে খোদার পথে তাকে আহ্বান করেছিলেন, যে খোদা এত দয়া অনুগ্রহে তাকে চরম অসহায় অবস্থা থেকে তুলে আনলেন, এত ওপরে উঠালেন তার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করল। তার ধারণায় আল্লাহ যেহেতু আসমানে থাকেন তাই একদিন অভিযান চালাল আসমান অভিমুখে। তখন তো বিমান বা রকেট ছিল না। তিনটি তাগড়া শকুন পালন করে সেগুলোকে ক্ষুধার্ত রাখে। তারপর বিশেষ কায়দায় শকুনদের সঙ্গে পাল্কি যুক্ত করে তার ওপর বসে। বিশেষ কায়দায় ক্ষুধার্ত শকুনের মাথার ওপরে গোশত ঝুলিয়ে রাখে। শকুনরা গোশতের লোভে যতই উপর দিকে উড়তে থাকে ততই পালকি উপরে উঠতে থাকে আকাশ পথে। অনেক উপরে উঠে সে আমার আরশ পানে বর্শা নিক্ষেপ করে। তখন আমি তাকে ভূপাতিত করি; কিন্তু প্রাণে মারিনি। আরও অবকাশ দেই যেন ফিরে আসার সুযোগ থাকে।
সদ হেজারান তিফলে বি তালবিম রা
কুশতে তা য়াবদ ওয়েই ইব্রাহিম রা
শত সহস্র নিরীহ নিরপরাধ শিশুকে সে
হত্যা করল খুঁজে পেতে ইব্রাহিম কে।
জোতির্বিদরা তাকে বলেছিল, এ বছরের রাশি গণনা বলছে যে, এ বছর এমন একটি শিশুর জন্ম নেবে যে আপনার রাজত্বের জন্য কাল হবে। আপনাকে, আপনার শাসনব্যবস্থা ও রাজত্বকে ধ্বংস করবে। নমরূদ তখন সাড়াষি অভিযান চালায় সমগ্র দেশজুড়ে। বাড়াবাড়ি তল্লাশি লাগিয়ে নবজাতক ছেলে সন্তানকে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে। কিন্তু সে বছর আমার ইব্রাহিম জন্ম নিলেও তাকে রক্ষা করেছি নমরুদের লোকদের কাছ থেকে অলৌকিকভাবে। ইব্রাহিম ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করলে নমরুদ তাকে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করে আর আমি সেই অগ্নিকুণ্ডকে পরিণতি করি ইব্রাহিমের জন্য ফুলবনে। এতবড় অলৌকিক ঘটনার পরও সে সৎপথে আসেনি। বরং আরও সীমলঙ্ঘন করে। শেষপর্যন্ত একটি ল্যাংড়া মশা নিযুক্ত করি তাকে ধ্বংস করার জন্য। নাকের ভেতর দিয়ে মশা চলে গেল তার মগজে। মগজে মশার কামড়ের যন্ত্রণায় সে ধঁুঁকেধুঁকে মরল অসহায় যন্ত্রণায়।
মওলানা রুমী (রহ.) নমরুদের এভাবে অবাধ্য হওয়ার কারণ নির্ণয় করে বলেন, নফসে আম্মারার কবলে পড়ে নমরুদের এই করুণ পরিণতি হয়েছিল। এই নফস
আমার তোমার সবার মধ্যে আছে।
গোর্গে দররান্দে-স্ত নফসে বদ য়াকিন
ছে বাহানে মি নাহি বর হার করিন
দুষ্ট নফস হলো হিংস্র নেকড়ে জান নিশ্চিত, অযথা
কেন অজুহাত দেখাও আমায় সর্বনাশ করেছে সাথিরা।
তুমি নষ্ট ধ্বংস গোমরাহ হওয়ার মূূল ঘটক তোমার ভেতরেই আছে। সে হলো তোমার দুষ্ট দুরাচারি নফসে আম্মারা। নফসে আম্মারা তোমার উপর সওয়ার হয়ে আছে। অথচ তুমি বলছ যে, আমার অমুক অমুক সাথি বা উপাদান আমার গোমরাহীর কারণ হয়েছে। নচেৎ আমি অনেক ভালো।
জিন সবব মি গুয়িম আই বন্দেয় ফকির
সিলসিলা আজ গর্দানে সগ বর মগির
এ জন্যে বলি, হে আমার ফকির বান্দা সাবধান
নিয়ন্ত্রণের শিকলমুক্ত করো না কুকুরের গর্দান।
গর মুআল্লম গশত ইন সগ হাম সগ আস্ত
বাশ জাল্লাত নফসুহু কু বদরগ আস্ত
কুকুর তালিমপ্রাপ্ত হলেও সে যে কুকুর অবাধ্য
এমন হও, যে নফসকে করে নাজেহাল তুচ্ছ ।
নফস নেকড়ে হিংস্র কুকুরের সঙ্গে তুল্য। তাকে কোনো অবস্থাতেই লাগামহারা করা যাবে না। যদি কুকুর তালিমপ্রাপ্তও হয়, মুনিবের হুকুম তামিল করে, তবু মনে রাখবে যে, কুকুরের স্বভাব হলো অবাধ্যতা। কাজেই তুমি ইবাদত বন্দেগি, আল্লাহর হুকুম পালন, কামনা-বাসনার বিরোধিতা ও কৃচ্ছসাধনার মাধ্যমে নফসের গলায় লাগাম পরিয়ে রাখ। (মওলানা রুমির মসনবি শরিফ, খণ্ড: ৬, বয়েত : ৪৭৯৭-৪৮৫৯)
(ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী রচিত মসনবি শরিফের গল্প ১-৬ খণ্ড প্রকাশ করেছে ছায়াপথ প্রকাশনী, মসজিদ বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স, ১৪৯/এ, এয়াপোর্ট রোড, ফার্মগেট, ঢাকা। ফোন ০১৭১১১১৫৮২৯। মসনবির গল্পভিত্তিক আলোচনা শুনতে ইউটিউবে ভিজিট করুন CHAYAPATH PROKASHONI)
