সদকাতুল ফিতর কী, কখন, কীভাবে আদায় করবেন
রায়হান রাশেদ
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজানের কিছু আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সদকাতুল ফিতর এর মধ্যে অন্যতম। ফিতরা দিয়ে গরিবের মুখে হাসি ফোটানো হয়। তাদের পাশে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানো হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা এ দিনটিতে তাদের (গরিব-অসহায়) অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বিরত রাখো।’ (কিতাবুল আসল, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৭৩-১৭৪)।
ফিতরা কী : ফিতরা বা ফেতরা আরবি শব্দ। এটি সদকাতুল ফিতর বা জাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত। ফিতর বলে খাদ্য বোঝানো হয়, যা দিয়ে রোজা ভাঙেন রোজাদাররা। ফিতরা মানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা খাদ্য দান করা। (আল-মুজামুাল ওয়াসিত, পৃষ্ঠা: ৬৯৪)।
সামর্থবানদের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ঈদুল ফিতর নামাজ পড়ার আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় পর্যন্ত প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক পরিবারের পক্ষ থেকে সদকা দেবে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রোজার ছোটখাট ভুলত্রুটির ক্ষমা ও সমাজের দরিদ্র মানুষও যেন ঈদ উৎসবে অংশ নিতে পারেন, এ কারণেই ফিতরার বিধান রাখা হয়েছে।
ফিতরার পরিমাণ : হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো- খেজুর, কিশমিশ, জব ও পনির। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমাদের সময় ঈদের দিন এক সা খাদ্য দিয়ে সদকা আদায় করতাম। আর তখন আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৮২)
মহানবীর যুগে আরবে গমের ভালো ফলন ছিল না। তখন উল্লিখিত চারটি পণ্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা হতো। মুয়াবিয়া (রা.)-এর যুগে গমের ফলন বেড়ে যায়। তিনি আলোচিত চারটি পণ্যের সঙ্গে গমকে সংযোজন করেন। সেসময় গমের দাম চারটি পণ্যের চেয়ে বেশি ছিল। (বোখারি : ১৫০৮)। গম দিয়ে ফিতরা দিলে জনপ্রতি আধা সা বা এক কেজি ৬২৮ গ্রাম দিলে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। খেজুর, জব, পনির ও কিশমিশ দিয়ে দিলে জনপ্রতি এক সা বা তিন কেজি ২৫৬ গ্রাম দিতে হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮০৫ টাকা।
কারা ফিতরা দেবে : প্রতিটি সচ্ছল মুসলিম ব্যক্তি, যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। ফিতরার নেসাব জাকাতের নেসাবের সমপরিমাণ। নিজের জন্য দেওয়ার পাশাপাশি তার ওপর কেউ যদি নির্ভরশীল থাকে, তাদের জন্য ?দিতে হবে। ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক স্বাধীন-ক্রীতদাস, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় মুসলমানের জন্য সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫০৭)। ইসলামি বিধান মতে, ঈদের দিনের ফজরের নামাজের আগে যে সন্তানের জন্ম হয়েছে, তার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে।
কারা ফিতরা পাবে : ফিতরা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হলেন গরিব, দুস্থ, অসহায় ও অভাবগ্রস্তরা। যে জাকাত গ্রহণ করতে পারে, সে ফিতরাও নিতে পারবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড:১, পৃষ্ঠা: ১৯০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদ্যবস্তু দিয়ে ফিতরা দিতেন। এ জন্য ইসলামি স্কলারদের কেউ কেউ বলেন, টাকা দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে না। তবে অনেকে বলেছেন, টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা বৈধ।
ফিতরা কখন দিতে হবে : ফিতরা দিতে হবে ঈদুল ফিতর নামাজের আগে। পরে দিলেও তা ‘সদকা’ হিসেবে আদায় হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সওয়াব তুলনামূলক কম হবে।
