জিও নিউজের প্রতিবেদন
বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ
ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে পাকিস্তান। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দেশটি। এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সরকারের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণকে আইসিসির দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করছে তারা।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর, নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ করে বিসিবি। তবে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই জানিয়ে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে আইসিসি।
এই পুরোটা সময়ে বাংলাদেশের পাশে ছিল পাকিস্তান। সবশেষ পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি প্রধান ইসলামাবাদে বৈঠক করবেন। এক উর্ধ্বতন সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য নিউজ জানিয়েছে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না।’
সূত্র আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।’ উর্ধ্বতন সূত্রটি জোর দিয়ে বলেন, ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পছন্দের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।
সূত্রের ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।’
এদিকে, পিসিবি চেয়ারম্যানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি কঠোরভাবে ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখে নেওয়া হবে—এই সিদ্ধান্তকে লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন জানিয়েছেন।
ক্রিকেট বিশ্ব যখন বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য নাম প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যা ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
