শেষ ওভারের নিয়ম বদলসহ ক্রিকেট আইনে বড় রদবদল এমসিসির
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ক্রিকেটের আইনে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তন এনে নতুন সংস্করণের Laws of Cricket প্রকাশ করেছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, একাধিক দিনের ক্রিকেটে, টেস্টসহ, দিনের শেষ ওভারে যদি উইকেট পড়ে, তবুও খেলা বন্ধ হবে না। পুরো ওভার সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন ব্যাটারকে মাঠে নেমে খেলা শুরু করতে হবে।
মঙ্গলবার এমসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন সংস্করণ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাষাগত কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের কোড কার্যকর হওয়ার পর এটি এমসিসির তৃতীয় বড় সংশোধন। এর আগে, ২০১৯ ও ২০২২ সালে আইন হালনাগাদ করা হয়েছিল।
নতুন আইনগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইন প্রয়োগ করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।
এমসিসি জানায়, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাটিং দলের জন্য সুবিধাজনক এবং এতে ম্যাচের নাটকীয়তা নষ্ট হয়। কারণ এতে নতুন ব্যাটারকে কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে নামতে হয় না, অথচ পরদিন আবার বাকি বলগুলো খেলতেই হয়।
এমসিসির ব্যাখ্যায় বলা হয়, শেষ ওভারে উইকেট পড়লে ব্যাটিং দল নতুন ব্যাটার পাঠাতে বাধ্য না হওয়াটা অন্যায্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শেষ ওভার সম্পূর্ণ বল করা হবে, উইকেট পড়লেও।
সীমানায় ‘বানি হপ’ ক্যাচের ক্ষেত্রেও নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে বল ভেতরে ঠেলে দিয়ে আবার এসে ক্যাচ ধরার ক্ষেত্রে ফিল্ডার শূন্যে থাকা অবস্থায় একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। এরপর ক্যাচটি পূর্ণ করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আইসিসি ইতোমধ্যে তাদের প্লেয়িং কন্ডিশনে এই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
নতুন আইনে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এমসিসি। বিভিন্ন ধরনের কাঠ একত্র করে তৈরি এই ব্যাটের দাম তুলনামূলক কম। দীর্ঘ সময় ধরে উইলো গাছ বড় হওয়া এবং ব্যাটের চাহিদা বাড়ায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ২০১৭ সালে কেবল জুনিয়র ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এমসিসি জানিয়েছে, এই ব্যাট পারফরম্যান্সে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দেয় না। কোন পর্যায়ে এই ‘টাইপ ডি’ ব্যাট ব্যবহার হবে, তা সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ড ঠিক করবে।
হিট উইকেট আইনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, ব্যাটার বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে কিছুক্ষণ পরও যদি স্টাম্পে পড়ে যান, তবে তিনি আউট হবেন। তবে ব্যাটার ভারসাম্য ফেরানোর সময় কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে সেটি হিট উইকেট হবে না। এছাড়া ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ব্যাটার আউট হবেন। কিন্তু ব্যাট আগে উইকেটকিপার বা অন্য খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে পরে স্টাম্পে লাগলে তা আউট হিসেবে গণ্য হবে না।
ওভারথ্রো ও ডেড বল আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওভারথ্রো আইনে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডের মধ্যে। স্টাম্প লক্ষ্য করে বল ছোড়ার চেষ্টা ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য হবে, তবে কেবল বল থামানোর বা ফিল্ডারকে দেওয়ার চেষ্টা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডেড বল আইনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন বলকে ডেড ঘোষণা করতে তা আর বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে বলকে ডেড ঘোষণা করতে পারবেন। এতে বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচের শেষ বলের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে এমসিসি।
ইনিংস ঘোষণার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ম্যাচের শেষ ইনিংসে এখন থেকে কোনো অধিনায়ক ইনিংস ঘোষণা বা ডিক্লেয়ার করতে পারবেন না।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ক্রিকেট দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি খেলা। ১৭৮৭ সাল থেকে পরিচালিত এই আইনগুলো যেন আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
