বিসিবির যেসব শর্ত মেনে নিল আইসিসি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  ক্রীড়া ডেস্ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–২০২৬ থেকে বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও নাটকীয়তার অবসান ঘটাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত সব শর্ত মেনে নিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে আইসিসি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেয়া হবে না।

নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করে বাংলাদেশ। পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাব মেনে না নিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের প্রতি এই আচরণকে শুরু থেকেই ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এতে আইসিসির জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছিল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে সংস্থার সম্ভাব্য ক্ষতি ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিসি পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় এবং পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজন করে। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কয়েকটি শর্ত রাখে, যার মধ্যে প্রধান ছিল—বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি বা জরিমানা দেওয়া যাবে না এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে আইসিসি এই সব শর্ত মেনে নেয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় শুধু ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের ভবিষ্যত ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রায় ২০ কোটির বেশি আবেগী ক্রিকেটভক্ত নিয়ে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণবন্ত বাজার সে কথাও উল্লেখ করেছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আইসিসি আশ্বাস দিয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর যেন কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে তারা অব্যাহত সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া বিসিবিকে চাইলে ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে যাওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে।