টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল আজ

তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্যে ভারত, প্রথমের স্বপ্নে নিউজিল্যান্ড

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা শেষে অন্তিম পর্বে এসে পৌঁছেছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শেষ প্রান্তে এসে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক আকর্ষণীয় দ্বৈরথের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আজ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে এই মহারণ।

ভারতের সামনে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক সম্ভাবনা। ফাইনালে জিতলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় শিরোপা জেতা প্রথম দল হবে তারা। একই সঙ্গে আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তিও গড়া সম্ভব হবে। তাছাড়া টানা দুইবার শিরোপা জয়ের রেকর্ডও গড়তে পারে ভারত।

অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য একেবারেই ভিন্ন। আইসিসির বড় আসরগুলোতে নিয়মিত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি কিউইরা। তাই আহমেদাবাদে জয় পেলে সেটি হবে তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের সবগুলো এবং সুপার এইট পর্বে তিন ম্যাচ খেলে ২টিতে জয় পায় ভারত। সুপার এইটে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে সেমিফাইনালে নাম খেলায় টিম ইন্ডিয়া। সেমিতে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মত ফাইনালে উঠে ভারত। মুম্বাইয়ে সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। দলের হয়ে ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন।

জবাবে জ্যাকব বেথেলের অসাধারন সেঞ্চুরিতে দুর্দান্ত লড়াই করে ম্যাচ হারে ইংল্যান্ড। ৭ উইকেটে ২৪৬ রান তুলে ইংলিশরা। ৮টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৪৮ বলে ১০৫ রান করেন বেথেল। ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপেই বাজিমাত করেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলে টিম ইন্ডিয়া।

২০১৪ সালেও শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু ফাইনালে শ্রীলংকার কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় তারা। এরপর দশ বছর পর গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ভারত। কিন্তু ঐ ফাইনালে আর ভুল করেনি তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠ ব্রিজটাউনের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ রানে হারায় ভারত। দ্বিতীয়বারের মত শিরোপা ঘরে তুলে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড স্পর্শ করে টিম ইন্ডিয়া।

ইংল্যান্ড ২০১০ ও ২০২২ সালে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০১২ ও ২০১৬ সালে শিরোপার স্বাদ নিয়েছিল। এবার ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ছাড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড করার সুবর্ণ সুযোগ ভারতের সামনে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে রেকর্ড তৃতীয় শিরোপা জয়ের সেরা সুযোগ। এই সুযাগ আমরা হাতছাড়া করতে চাই না। দলের সবাই শিরোপা নিয়ে ঘরে ফিরতে মরিয়া। দল হিসেবে আমরা এখন পর্যন্ত দারুণ ক্রিকেট খেলেছি। পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই এবং ফাইনালে আরও একবার নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে চাই।’

চলতি বিশ্বকাপের আগে মাত্র একবার ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। ২০২১ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেটে হারে নিউজিল্যান্ড। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্মৃতিকে অবিস্মরনীয় করে রাখতে চায় কিউইরা। কারণ এখন অবধি সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেটে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়তে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপের দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মত শিরোপা ঘরে তুলতে মরিয়া নিউজিল্যান্ড। দলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারিনি, এটা খুবই হতাশার। তবে এবার আমরা শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতে উঠতে চাই এবং শিরোপা জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচাতে চাই। তবে ফাইনাল সহজ হবে না। ভারতের বিপক্ষে তাদেরই কন্ডিশনে যেকোন ম্যাচ খেলাই চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ফাইনাল জয়ের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জিতে সুপার এইটে উঠে নিউজিল্যান্ড। সুপার এইটে ৩ ম্যাচ খেলে ১টি করে জয়-হার ও পরিত্যক্ত ম্যাচের কারণে ৩ পয়েন্ট পায় তারা। একই চিত্র ছিল পাকিস্তানেরও। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নেমে কাগজের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেয় নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় কিউইরা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ছুঁড়ে দেওয়া ১৭০ রানের টাগের্ট ৪৩ বল হাতে রেখেই স্পর্শ করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। ৩৩ বল খেলে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান করেন অ্যালেন। ফাইনালেও আরও একবার অ্যালেন শো দেখার প্রত্যাশায় নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয়ের পাল্লাই ভারী। ৩০ বারের দেখায় ভারত ১৬টিতে জিতেছে। নিউজিল্যান্ডের জয় ১১টিতে। ৩টি ম্যাচ টাই হয়। টাই হওয়া ম্যাচের মধ্যে ২টিতে সুপার ওভারে জয় পায় ভারত। অন্যটি বৃষ্টি আইনে রান সমান হওয়ায় টাই হয়। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিউজিল্যান্ডকে কখনও হারাতে পারেনি ভারত। তিন ম্যাচের সবগুলোই জয় পায় নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ড দল : মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জ্যাকব ডাফি, লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, টিম সেইফার্ট, ইশ সোধি, কাইল জেমিসন।

ভারত দল : সুর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, রিঙ্কু সিং, জসপ্রিত বুমরাহ, হার্ষিত রানা, আর্শদিপ সিং, কুলদিপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, ওয়াশিংটন সুন্দর, ইশান কিশান।