সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে নেপালেকে হারিয়ে ফের ফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে নেপালকে হারিয়ে আবারও ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলের জয় পায়।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন মানিক, যা দলকে শিরোপা লড়াইয়ের আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে গেছে।

২০২৪ সালে এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই দলটি মাঠে নামে এবং নেপালকে হারিয়ে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এগিয়ে রয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে ভারত ও ভুটানের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ভিত্তিতে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পায় দলটি। মোর্শেদের চিপ করা বল বক্সে পেয়ে লাফিয়ে হেডে জালে জড়ান মানিক। এই গোলে গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এরপরপরই আরেকটি গোলের দেখা পেলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভান দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে বল পাঠালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের ডাগআউট থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে এবং কয়েকটি আক্রমণও চালায়। তবে গোলরক্ষক মাহিনের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি তারা। পাল্টা আক্রমণও চালায় বাংলাদেশ। ম্যাচের এই অংশে দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনে। কোচ মিশু শেষদিকে রোনানের ভাই ডেকলানকে মাঠে নামান। ডেকলান একটি ভালো পাস দিয়েছিলেন রোনানকে, তবে তার শট নেপালের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।

ইনজুরি সময়ে উভয় দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, কিন্তু আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই জয়ে মালে স্টেডিয়ামে উপস্থিত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।

খেলা শেষে এক ভিন্ন দৃশ্যও নজর কাড়ে। গ্যালারিতে থাকা বাংলাদেশি সমর্থকরা জয় উদযাপনের পর নিজ উদ্যোগে স্টেডিয়ামের আসন পরিষ্কার করেন। বিশ্ব ফুটবলে জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের এমন উদ্যোগ দেখা গেলেও এবার সেই দৃষ্টান্তে অংশ নিলেন বাংলাদেশিরাও।