সিরিজ জয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা বাড়লো বাংলাদেশের

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনায় আরও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। টানা তিনটি সিরিজ জয়ের ফলে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই সাফল্যকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে আছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকে সম্ভাব্য ৬ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪ পয়েন্ট, যা র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

বর্তমানে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ নবম স্থানে আছে। দশম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭, ফলে দুই দলের ব্যবধান কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের অবস্থান এতটা সুবিধাজনক ছিল না। তবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দ্রুতই পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়, এরপর পাকিস্তানকে হারিয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে অগ্রগতি এবং সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডকে সিরিজে হারানো—এই তিনটি সাফল্যই বাংলাদেশকে নতুন সম্ভাবনার পথে নিয়ে এসেছে।

আগামী বছরের ৩১ মার্চ আইসিসি র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণকারী দল নির্ধারিত হবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় কোনো অঘটন না ঘটলে দক্ষিণ আফ্রিকা বা জিম্বাবুয়ের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ফলে বাংলাদেশ নবম স্থানে থাকলেও সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। পরবর্তী সিরিজ র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, এরপর রয়েছে শীর্ষ দল ভারতের বিপক্ষে সিরিজ। দুই সিরিজই দেশের মাটিতে হওয়ায় কিছুটা সুবিধা থাকলেও চ্যালেঞ্জ অনেক বড়। এই ম্যাচগুলো জিতলে বড় রেটিং পয়েন্ট পাওয়া যাবে, আর হারলেও ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে যেতে নারাজ অধিনায়ক মিরাজ।

তার মতে, লক্ষ্য শুধু বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা নয়, বরং দলকে আরও উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া। তিনি ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিয়েছেন এবং বিশ্বাস করেন, তা ধরে রাখতে পারলে আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব।

বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক উন্নতি এখন শুধু বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনাই বাড়ায়নি, বরং বড় স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাসও জুগিয়েছে।