পদত্যাগ করছেন না তামিম ইকবাল, অংশ নেবেন নির্বাচনে

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অন্তর্বর্তী কমিটি কয়েক দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই কমিটির প্রধান কাজ আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বোর্ডের নির্বাচন আয়োজন করা।

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। তবে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানান, ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগের বিষয়টি তিনি ভাবেননি এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যা অনুমোদিত, সেটিই অনুসরণ করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও তার নেই। শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ছিলেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চান এবং তাদের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করেন।

আগামী রোববার (৩ মে) বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তামিম। ওই সভায় নির্বাচনের তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রিকেট কাঠামো নিয়েও কথা বলেন তামিম। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করেই অধিকাংশ প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, ফলে নিচের স্তর থেকে নতুন খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে নতুন কাঠামো চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তার মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুম থেকেই নতুন একটি ব্যবস্থার সূচনা হতে পারে, যেখানে ‘দ্বিতীয় একাদশ’ নামে আলাদা প্রতিযোগিতামূলক আসর থাকবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন নতুন খেলোয়াড় নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচগুলো তিন দিনের হবে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা যায়।

তামিমের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দলে পরিবর্তন আনা সহজ হবে এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। কোনো খেলোয়াড় খারাপ করলে তাকে সরাসরি বাদ না দিয়ে দ্বিতীয় একাদশে খেলার সুযোগ দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে, যা দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।

এছাড়া রাজধানীর বাইরে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তামিম। খুলনা ও বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে, নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের ক্রিকেট আরও এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।