ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নাহিদ রানার তোপ, মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

নাহিদ রানার তোপ, মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টে শেষ বিকেলের আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে একসময় ম্যাচ বাঁচানোর পথেই হাঁটছিল সফরকারীরা। তবে নাহিদ রানার গতি আর সুইংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত দাঁড়াতেই পারেনি শান মাসুদের দল। শেষ পাঁচ উইকেটের চারটিই তুলে নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন এই তরুণ গতিতারকা।

মঙ্গলবার (১২ মে) মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ফলে ১০৪ রানের বড় জয় নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।

এ নিয়ে টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল টাইগাররা। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের মাটিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজেও বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন নাহিদ রানা।

মিরপুর টেস্টে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শান্ত, মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩০ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ রান করেন। এটি সাদা পোশাকে তার অষ্টম সেঞ্চুরি।

মুমিনুল হক ২০০ বলে ১০ চারে করেন ৯১ রান। মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ১৭৯ বলে ৭১ রান। তাদের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান তোলে স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নেন। এছাড়া শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে লড়াই গড়ে পাকিস্তান। তিনি ১৬৫ বলে ১৪ চারে করেন ১০৩ রান। এছাড়া আব্দুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯, সালমান আলি আগা ৫৮ এবং ইমাম-উল-হক ৪৫ রান করেন।

তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি আর তাসকিন আহমেদদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৩৮৬ রানেই থামে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস। মিরাজ ৫ উইকেট নেন। তাসকিন ও তাইজুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। এবারও দলের হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল। যদিও অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

শান্ত ১৫০ বলে ৭ চারে ৮৭ রান করেন। মুমিনুল করেন ১২০ বলে ৫৬ রান। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ২২, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪, লিটন দাস ১১ এবং তাসকিন আহমেদ ১১ রান করেন।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে হাসান আলি ও নোমান আলি ৩টি করে উইকেট নেন। শাহিন আফ্রিদি নেন ২টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সফরকারীরা। ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। আজান ১৫ রান করে মিরাজের শিকার হন।

অধিনায়ক শান মাসুদও ব্যর্থ হন। ৫ বলে ২ রান করে নাহিদ রানার বলে আউট হন তিনি। অন্যদিকে ফিফটি তুলে নেওয়া আব্দুল্লাহ ফজল ১১৩ বলে ১১ চারে ৬৬ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হন।

এরপর সালমান আলি আগাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও বাড়িয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ২৬ রান করেন।

তবে সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান জুটি গড়ে ম্যাচ ড্রয়ের পথে এগোচ্ছিলেন। ঠিক তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ রানা।

তার গতির ঝড়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নোমান আলি। শাকিল ও রিজওয়ান দুজনই ১৫ রান করেন। নোমান করেন ৪ রান। মাঝে ১ রান করা হাসান আলিকে ফেরান তাইজুল ইসলাম।

শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই ১৬৩ রানেই থেমে যায় পাকিস্তান।

দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ আগামী ১৬ মে সিলেটে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা।

পাকিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ,মিরপুর টেস্ট,রানার তোপ,শেষ ইনিংস
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত