ব্যাটিং ব্যর্থতায় টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১৮:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে না পারায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ১০ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।
নবনিযুক্ত টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা মোটামুটি ভালো হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা। ১৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা বড় জুটিতে রূপ নেয়নি। দলীয় ২৬ রানে তানজিদ ফিরে যান, আর সাইফ আউট হন ৩৯ রান করে। এরপর অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।
মধ্য ওভারে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের সামনে চাপে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় সংকটে পড়ে স্বাগতিকরা। অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি ছক্কা হাঁকিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পরে রিশাদ হোসেনও দ্রুত ফিরে গেলে ১০০ রানের আগেই ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
শেষদিকে শেখ মেহেদী হাসান লড়াকু ব্যাটিং করে দলের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ান। তার অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের ছোট অবদান বাংলাদেশকে ১৩১ রানে পৌঁছে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। তিনি তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সমান তিনটি উইকেট নেন জুয়েল ডেভিস। এছাড়া ম্যাথিউ রেনশো দুটি এবং নিখিল চৌধুরী ও স্পেন্সার জনসন একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জশ ইংলিসকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। পেসার শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর মিচেল মার্শও বেশিক্ষণ টিকতে না পারলেও পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সফরকারীরা।
ওয়ানডে সিরিজের দারুণ ফর্ম টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখেন কুপার কনোলি। তিনি ২৭ বলে ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। যদিও ফিফটি থেকে বঞ্চিত হন, তবু দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তাকে আউট করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান অভিষিক্ত আবদুল গাফফার সাকলাইন।
বাংলাদেশ ম্যাচে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও সাকলাইনের উইকেটে। টিম ডেভিড, নিখিল চৌধুরী ও ম্যাথিউ রেনশোকে ফিরিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন বোলাররা। তবে লক্ষ্য ছোট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন আবদুল গাফফার সাকলাইন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করেন।
